
গত ২৪ ঘণ্টায় ২২,৯৩৩ জন আক্রান্ত হলেন দিল্লিতে। মৃত্যু হয়েছে ৩৫০ জনের। বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যায় রেকর্ড তৈরি হলেও এ বার মৃতের সংখ্যাও প্রতিদিনই ভাঙছে পুরনো রেকর্ড। এই অবস্থায় লিকুইড অক্সিজেনের ব্যবহার নিয়ে জারি করা হয়েছে কড়া নির্দেশিকা। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৬৯১। সংক্রমণের কারণে মৃত্যু হয়েছে ২৭৬৭ জনের। যা এখনও অবধি দেশে সর্বোচ্চ মৃতের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২ লাখ ১৭ হাজার ১১৩ জন। এই নিয়ে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১ কোটি ৬৯ লাখ ৬০ হাজার ১৭২-এ। মোট মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৯২ হাজার ৩১১। বর্তমানে দেশে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ২৬ লাখ ৮২ হাজার ৭৫১। এই বাড়তি সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি বিধ্বস্ত হয়েছে মহারাষ্ট্র। সেই আবহেই ঠাকরে প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে মহারাষ্ট্রের প্রত্যেককে বিনামূল্যে করোনা প্রতিষেধক দেবে সরকার। মহারাষ্ট্রের পর রাজস্থানেও বিনামূল্যে করোনা টিকা দেওয়ার ঘোষণা করেছেন অশোক গেহলট। করোনা সংক্রান্ত যাবতীয় আপডেট দেখে নিন একনজরে-
রাজধানী দিল্লিতে সত্যিই মড়ক লেগেছে। একদিনে ৩৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২২,৯৩৩ জন। সক্রিয় রোগীদের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৯৪ হাজার। যা এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এককথায় পরিস্থিতির ভয়বহতা বর্ণনা করা সম্ভব না। বিগত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ৬৬৬ জনকে দাহ করা হয়েছে অথবা কবর দেওয়া হয়েছে দিল্লিতে। চারিদিকে শুধু কান্না আর হাহাকার। দিল্লিতে যত শতাংশ করোনা টেস্ট করাচ্ছেন তার মধ্যে ৩০ শতাংশই আক্রান্ত, পজিটিভিটির হার ৩০ শতাংশের বেশি।
সুস্থতার হার দিল্লিতে বর্তমানে ৮৯.৪০ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় সেরেও উঠেছেন ২১ হাজার ৭১ জন।
দেশ জুড়ে প্রাণদায়ী লিকুইড অক্সিজেনের ব্যবহারের ক্ষেত্রে কড়া নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। চিকিৎসার কাজ ব্যতীত অন্য কোনও উদ্দেশ্যে তরল অক্সিজেন ব্যবহার করা যাবে না বলে এ দিন জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই মর্মে সমস্ত অক্সিজেন প্লান্টকে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি সমস্ত প্লান্টকে বলা হয়েছে, উৎপাদনের মাত্রা যেন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
সবিস্তারে পড়ুন: চিকিৎসার কাজ ব্যতীত লিকুইড অক্সিজেনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করল কেন্দ্রীয় সরকার
১৮ বছরের ঊর্ধ্বে প্রত্যেককে বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার ঘোষণা অশোক গেহলটের।
দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনা বিধ্বস্ত মহারাষ্ট্র। সে রাজ্য দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় রোজই রেকর্ড গড়ছে। এই আবহে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে প্রত্যেককে বিনামূল্য়ে করোনা টিকা দেওয়ার ঘোষণা করল ঠাকরে প্রশাসন। সে রাজ্যের মন্ত্রী নবাব মলিক জানিয়েছেন ক্যাবিনেটে স্থির হয়েছে উদ্ধব প্রশাসন প্রত্যেককে বিনামূল্যে করোনা প্রতিষেধক দেবে।
সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হতেই করোনা চিকিৎসায় ব্যবহৃত রেমিডেসিভিরের আকাল দেখা দিয়েছে। ওষুধ খুঁজতে গোটা শহর ছুটে বেড়াচ্ছেন রোগীর পরিবারেরা। এই পরিস্থিতিতে রোগী পরিবারের কথা ভেবে ৩০টি জায়গায় একটি তালিকা তৈরি করল দিল্লি সরকার, যেখানে রেমিডেসিভির পাওয়া যাবে। দিল্লি পুলিশের তত্ত্বাবধানে মোট ৩০ টি কেন্দ্রে পাওয়া যাবে এই ওষুধ।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে মহারাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে চলায় প্রথমে নৈশ কার্ফু ও পরবর্তী সময়ে ১৫ দিনের জন্য কার্ফু জারি করেন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। এরপরই চলতি সপ্তাহ থেকে ধীরে ধীরে আক্রান্তের সংখ্যা হ্রাস পেতে থাকে। বুধবার মুম্বইয়ে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৬৮৪। শনিবার তা এক ধাক্কায় কমে ৫ হাজার ৮৮৮ -তে কমে দাঁড়ায়।
বিস্তারিত পড়ুন: কার্ফুর সুফল, মুম্বইয়ে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজার থেকে কমে দাঁড়াল ৫৮৮৮-এ
পিএম কেয়ার্স ফান্ড থেকে গত ডিসেম্বর মাসেই অর্থ মঞ্জুর করা হলেও পর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেন প্লান্ট তৈরি করেনি দিল্লি সরকার। আটটি প্ল্যান্ট তৈরি করার কথা থাকলেও কেজরীবালের শাসনে কেবল একটিই অক্সিজেন প্ল্যান্ট তৈরি হয়েছে। এই বিষয়টিকে হাতিয়ার করেই এ দিন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা টুইট করে অসমের সঙ্গে তুলনা করেন। টুইটে তিনি লেখেন, “মাননীয়, অরবিন্দ কেজরীবালজী, করোনা সঙ্কটের পর অসম মোট আটটি অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে, যেখান থেকে প্রতিদিন ৫.২৫ মেট্রিক টন অক্সিজেন উৎপন্ন হয়। আরও পাঁচটির কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দিল্লি সরকারকেও ডিসেম্বর মাসে আটটি অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য পিএম কেয়ার ফান্ডের থেকে টাকা দিয়েছিলেন। মোদীকে দোষ দিয়ে লাভ কী, যখন আপনার সরকারই ব্যর্থ এবং আটটির বদলে মাত্র একটি অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপন করেছে।”
বিস্তারিত পড়ুন: ‘মোদীকে দোষ দিয়ে লাভ কি?’ অক্সিজেন সঙ্কটের জন্য কেজরীবালকেই ‘দোষী’ বানালেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা
সূত্র অনুযায়ী, আজই দিল্লি বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের তরফে ফের লকডাউনের ঘোষণা করা হতে পারে। দিল্লিতে বর্তমানে পজিটিভিটি রেট বা আক্রান্ত হওয়ার হার৩২ শতাংশ। রাজ্যে অক্সিজেন ও সংকট রয়েছে, যার ফলে সরকার লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো ছাড়া অন্য কোনও উপায় দেখছে না। গত সপ্তাহে ১৯ এপ্রিল সকাল ১০ টা থেকে দিল্লিতে লকডাউন শুরু হয়েছিল, আগামিকাল ২৬ এপ্রিল সকাল পাঁচটা অবধি তার মেয়াদ রয়েছে।
বিস্তারিত পড়ুন: দিল্লিতে বাড়ছে লকডাউনের মেয়াদ? আজই হতে পারে ঘোষণা
দেশে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জোর দেওয়া হচ্ছে টিকাকরণের উপর। মহারাষ্ট্রও ব্যতিক্রম নয়। এই কাজে সবদিক থেকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিল সেরাম ইন্সটিটিউট অব ইন্ডিয়ার প্রধান আদার পুনাওয়ালা। মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের দফতর টুইটচ করে এ কথা জানায়।
বিস্তারিত পড়ুন: দ্রুত টিকাকরণে উদ্ধব রাজ্যকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস সেরাম কর্তার
শয্যা, অক্সিজেন সঙ্কটে দিল্লি জুড়ে কেবল হাহাকার। ক্রমশ বাড়ছে করোনা রোগীর মৃত্য়ু সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৩৫৭ জনের।নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২৪ হাজারেরও বেশি মানুষ। এই নিয়ে রাজধানীতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখের গণ্ডি পার করল।
বিস্তারিত পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় মৃত ৩৫৭, দৈনিক মৃত্যুতে ফের নয়া রেকর্ড রাজধানীতে
দিল্লিতে প্রতিদিনই আরও বাড়ছে অক্সিদেন সঙ্কট। দু’দিন আগেই অক্সিজেন সঙ্কট দেখা দিতে দিল্লি হাইকোর্টের দারস্থ হয়েছিল স্যার গঙ্গারাম হাসপাতাল। শনিবার রাতে তাদের ফের অক্সিজেন সঙ্কট দেখা যায়। হাসপাতালের তরফে জানানে হয়, মাত্র ৪৫ মিনিট বা এক ঘণ্টার অক্সিজেন পড়ে রয়েছে। গান্ধী হাসপাতালও জানায়, তাঁদের কাছে মাত্র এক- দু”ঘণ্টার অক্সিজেন রয়েছে।
বিস্তারিত পড়ুন: ফের অক্সিজেন সঙ্কটে দিল্লির ২ হাসপাতাল, মধ্যরাতে ‘ত্রাতা’ আপ-বিজেপি নেতারা