Judge Letter: ‘তুমি আদালতের দেখা সবথেকে ছোট্ট সাহসী মেয়ে, আদালত তোমাকে এটুকু কথা দিতে পারে…’, ১০ বছরের বাচ্চা মেয়েকে বিচারকের লেখা চিঠি মন ছুঁয়ে গেল সকলের
Judge Letter to Child: এই মামলায় রায় ঘোষণার সময়ে ওই ছোট্ট নাবালিকার উদ্দেশে বিচারকের লেখা প্রত্যেকটা শব্দ আলাদা করেই তাৎপর্যবহন করছে। বিচারক নাবালিকার উদ্দেশে বলেন, "বেটা, তোমার প্রত্যেকটা কথা আদালত শুনেছে। তুমি যখন বলেছিলে, 'যতদিন না এই আঙ্কেল (ধর্ষক) বুড়ো হয়ে যাচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত তাকে জেলেই যেন রাখা হয়'। আদালত মন দিয়ে তোমার সেই কথা শুনেছে।"

নয়া দিল্লি: ‘বেটা, এখন থেকে তুমি জীবনটা বাঁচো, স্কুলে যাও, বন্ধু বানাও, হাসো, খেলা করো, মজা করো, স্বপ্ন দেখো।’ দশ বছরের এক নাবালিকার উদ্দেশে লিখলেন বিচারক। তিনি দিল্লি রোহিণী আদালতের বিচারক রজনী রাঙ্গা। আর ওই দশ বছরের নাবালিকা আসলে একজন ধর্ষিতা-নির্যাতিতা। আজ তার বয়স ১০। কিন্তু যখন সে ধর্ষণের শিকার হয়েছিল, সেই ২০২৩ সালে, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ৭ বছর। ২০২৩ সালের রোহিনীতে এক সাত বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণের রায় ঘোষণা করলেন বিচারক রজনী রাঙ্গা। ধর্ষককে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আর সেই রায় ঘোষণার সময়েই নির্যাতিতা ছোট্ট মেয়েটার উদ্দেশে এই কথাগুলো লিখে রাখলেন বিচারক।
আদালত সাক্ষী থাকল এক আবেগঘন মুহূর্তের। লাইভ ল’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারক যখন রায় ঘোষণা করছিলেন, তখন এজলাসে উপস্থিত ছিল সেই ছোট্ট মেয়েটাও। তাকেই ‘বেটা’ বলে সম্বোধিত করেন বিচারক। তিনি বলেন, “এই আদালত হয়তো তোমার মূল্যবান ছেলেবেলা ফিরিয়ে দিতে পারবে না। কিন্তু আজ এই আদালত তোমাকে প্রতিজ্ঞা করল, তুমি এবার প্রাণ খুলে বাঁচো বেটা। স্কুলে যাও, বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-মজা করো, স্বপ্ন দেখো, জীবনে প্রতিষ্ঠিত হও।” আর সেই কথার রেশ ধরেই নাবালিকাকে আশ্বস্ত করে বিচারকের উক্তি, “এই আদালত আজ তোমাকে প্রতিজ্ঞা করছে, তোমার অপরাধী আর কোনওদিন সূর্যের আলো দেখতে পারবে না।”
এই মামলায় রায় ঘোষণার সময়ে ওই ছোট্ট নাবালিকার উদ্দেশে বিচারকের লেখা প্রত্যেকটা শব্দ আলাদা করেই তাৎপর্যবহন করছে। বিচারক নাবালিকার উদ্দেশে বলেন, “বেটা, তোমার প্রত্যেকটা কথা আদালত শুনেছে। তুমি যখন বলেছিলে, ‘যতদিন না এই আঙ্কেল (ধর্ষক) বুড়ো হয়ে যাচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত তাকে জেলেই যেন রাখা হয়’। আদালত মন দিয়ে তোমার সেই কথা শুনেছে।”
বাচ্চা মেয়েটার উদ্দেশে বিচারক লেখেন, “আজ এই আদালত নির্দেশ দিচ্ছে, এই লোকটা, যাকে তুমি আঙ্কেল বলে ডেকেছো, সে আর কোনওদিন সূর্যের আলো দেখতে পারবে না। সে আর কোনওদিন খোলা আকাশের নীচে হাঁটতে পারবে না। সে তার বাকি জীবনটা একটা খাঁচার মধ্যেই থাকবে। সে এই খাঁচাতেই বুড়ো হবে, এই খাঁচাতেই মারা যাবে।” রায়ের লিখিত কপির পাশাপাশি চিঠিতেও সে কথা উল্লেখ করেছেন বিচারক। প্রথাগত আইনি ভাষা , নানান জটিলতা এড়িয়ে দশ বছরের ওই নাবালিকাকে একেবারেই সহজ-সরল ভাষায় চিঠি লেখেন বিচারক।
চিঠির শেষে নাবালিকার উদ্দেশে বিচারক এও লিখেছেন,, “তুমি হলে এই আদালতের দেখা সবচেয়ে সাহসী এক ছোট্ট মেয়ে। তোমার সাহসকে আদালত চিরকাল মনে রাখবে।”
