নয়া দিল্লি: দীর্ঘ দেড় মাসেরও বেশি সময় লকডাউনে বন্দি থাকার পর সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নীচ নামায় ধীরে ধীরে আনলক প্রক্রিয়া ঘোষণা করেছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবাল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে বলেই আশঙ্কা দিল্লি হাইকোর্টের। শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্টের তরফে সতর্ক করে বলা হয়, “কোভিড নিয়মবিধি ভঙ্গ হলে সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউই এগিয়ে আসবে।”
করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের ভয়াবহ প্রভাব পড়েছিল দিল্লিতে। প্রতিদিন রাজ্যে ২৫ হাজারের বেশি আক্রান্ত হওয়ায় শয্যা সঙ্কট ও অক্সিজেন সঙ্কট চরমে ওঠে। বহু রোগী বিনা চিকিৎসাতেই বা অক্সিজেনের অভাবে মারা যান। মৃত্যু হয় ৭০০-রও বেশি চিকিৎসকের। এরপরই বাধ্য হয়ে ১৯ এপ্রিল লকডাউন ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবাল।
ধীরে ধীরে সংক্রমণ কমায় একে একে সমস্ত পরিষেবা আনলকের সিদ্ধান্ত নেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে বাজারহাট, শপিং মল খুলতেই উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায় সর্বত্র। কয়েক মাসের বিপর্যয় কাটিয়েও সাধারণ মানুষের এই অসচেতনতা বড় বিপদ ডেকে আনবে বলে আগেই সতর্ক করেছিলেন চিকিৎসকরা। এ বার একই কথা বলল দিল্লি হাইকোর্টও। একইসঙ্গে কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারের কাছেও বর্তমান করোনা পরিস্থিতি জানতে চেয়ে নোটিস পাঠানো হয়েছে। করোনাবিধি ভঙ্গকারী দোকানদার ও সাধারণ মানুষদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আদালতের তরফে।
চলতি মাসের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী কেজরীবাল জানিয়েছিলেন, করোনা তৃতীয় ঢেউ কবে রাজ্যে আছড়ে পড়তে পারে, তা নিয়ে আগাম সতর্কতা জানাতে একটি কোভিড টাস্ক ফোর্স তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে আইসিইউ বেড ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর পরিমাণও বাড়ানো হচ্ছে।