BRICS Summit 2026: দিল্লিতে একসঙ্গে শি-পুতিন-পেজ়েশকিয়ান, সঙ্গে বহু তাবড় রাষ্ট্রনেতা! ব্রিকসের জন্য আঁটসাঁট প্রহরা, যান নিয়ন্ত্রণ হবে বেশ কিছু রাস্তায়
Delhi Traffic Restrictions: বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ ও রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে একসঙ্গে এত দেশের শীর্ষনেতার উপস্থিতি নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি রাষ্ট্রনেতারা ভারতের অতিথি। আয়োজক দেশ হিসেবে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ভারতের।

নয়া দিল্লি: চলতি বছর ভারতে আয়োজিত হতে চলেছে ব্রিকস সামিট(BRICS Summit 2026)। ১২-১৩ সেপ্টেম্বরে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে দিল্লিতে (Delhi)। ইতিমধ্যেই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে রাজধানীতে। বিশ্বের একাধিক দেশের রাষ্ট্রনেতা ও শীর্ষ প্রতিনিধি এই সামিটে উপস্থিত থাকবেন। ফলে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। তবে, এই সামিটের কারণে দিল্লিতে অনেক রাস্তা বন্ধ থাকবে। তার জেরে যানজটের সম্মুখীন হতে পারেন দিল্লিবাসী।
কোন কোন রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ?
দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীজুড়ে ২২টি ডাইভারশন পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। ৩৫টিরও বেশি রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। পাশাপাশি রেলস্টেশন এবং বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য বিকল্প পথের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সামিট চলাকালীন বিমানবন্দরে যাতায়াতের জন্য যথাসম্ভব দিল্লি মেট্রো ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ। পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহণ ব্যবহারের উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
জোরদার নিরাপত্তা
ব্রিকস সামিটকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রনেতা ও ভিভিআইপি-দের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। যেমন ১৫ হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এয়ারপোর্ট ও হোটেলগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
কেন ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ?
ব্রিকস সামিট অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলন। এই সম্মেলনে ১১টি সদস্য দেশের রাষ্ট্রনেতারা উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি ১০টি অংশীদার দেশের প্রতিনিধি এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত প্রতিনিধিদল উপস্থিত থাকছেন। ফলে একসঙ্গে হাই প্রোফাইল রাষ্ট্রনেতা ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে ভারতকে।
কোনও রাষ্ট্রনেতার এই সফর শুধুমাত্র বিমানবন্দর থেকে হোটেল পর্যন্ত সীমিত নয়। সম্মেলনের সূচি অনুযায়ী দিনে দু’বার বা তিনবারও তাঁদের যাতায়াত করতে হতে পারে। বিমানবন্দর থেকে হোটেল, হোটেল থেকে সম্মেলনস্থল, সেখান থেকে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, সরকারি অনুষ্ঠান কিংবা অন্য কোনও কর্মসূচিতে যেতে হতে পারে রাষ্ট্রনেতাদের। সেক্ষেত্রে প্রত্যেক রাষ্ট্রনেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ভারতের।
জানা গিয়েছে, প্রত্য়েক যাত্রাপথের জন্য আলাদাভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়। তার ফলে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট রাস্তায় প্রবেশে বিধিনিষেধের প্রয়োজন হয়। সেই কারণেই সাধারণ কোনও ভিআইপি সফরের তুলনায় বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রভাব শহরের যান চলাচলের উপর অনেক বেশি পড়ে।
নিরাপত্তায় কেন বাড়তি গুরুত্ব?
বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ ও রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে একসঙ্গে এত দেশের শীর্ষনেতার উপস্থিতি নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি রাষ্ট্রনেতারা ভারতের অতিথি। আয়োজক দেশ হিসেবে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ভারতের। ফলে তাঁদের যাতায়াতের সময় আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করাও প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সময় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ শুধু ভারতের ক্ষেত্রেই হয়, এমন নয়। বিশ্বের বিভিন্ন বড় শহরে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে, যেখানে একসঙ্গে বহু রাষ্ট্রনেতা হাজির থাকেন, সেই সময় সাময়িকভাবে রাস্তা বন্ধ রাখা, সুরক্ষিত করিডর তৈরি এবং নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যেমন ২০১৬ সালে চিনে জি ২০ সামিটের সময় একাধিক রাস্তা বন্ধ রাখা হয়েছিল। ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিকস সামিটেও বিভিন্ন ব্যস্ত রাস্তা বন্ধ রাখা হয়েছিল। ঠিক একইভাবে দিল্লিতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন রাস্তা বন্ধ থাকতে পারে। ফলে BRICS সম্মেলনের সময় দিল্লিতে ট্রাফিকের উপর যে প্রভাব পড়তে পারে, তা এই ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজনের নিরাপত্তা ব্যবস্থারই অংশ।
বিশ্ব কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠছে দিল্লি
বিশ্বের অর্থনীতি এবং ভূ-রাজনীতিতে ভারতের গুরুত্ব যত বাড়ছে, ততই বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলন, কৌশলগত আলোচনা এবং উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠকের অন্যতম গন্তব্য হয়ে উঠছে দেশ।
আগামী দিনে আরও বেশি সংখ্যক রাষ্ট্রনেতার ভারত সফর এবং আরও আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের সম্ভাবনাও বাড়বে। সেই সঙ্গে নয়াদিল্লির ভূমিকাও বদলাবে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক রাজধানীগুলির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে দিল্লির গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে।
