AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

PM POSHAN Scheme: কীভাবে মিড-ডে মিল শিশুদের স্কুলে ধরে রাখতে সাহায্য করে?

How Midday Meals Improve School Enrollment: আজকের ‘YOUR INDIA’ কলামে সন্তোষ নায়ার খতিয়ে দেখেছেন, বিনামূল্যে স্কুলে দুপুরের খাবার কি সত্যিই শিশুদের স্কুলমুখী রাখতে পারে? এই প্রতিবেদনে স্কুলে ভর্তি, পুষ্টি, পিএম পোষণ (PM POSHAN) প্রকল্পের আওতা এবং এখনও এই প্রকল্পের সুবিধার বাইরে থাকা বিপুল সংখ্যক পড়ুয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।

PM POSHAN Scheme: কীভাবে মিড-ডে মিল শিশুদের স্কুলে ধরে রাখতে সাহায্য করে?
স্কুলে পড়ুয়া ভর্তির ক্ষেত্রে মিড-ডে মিল প্রকল্পের প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় কী উঠে এসেছে?Image Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Nov 07, 2026 | 6:00 PM
Share

২০০১ সাল। খরা ও অনাহার সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি চলছিল সুপ্রিম কোর্টে। মামলাটি দায়ের করেছিল পিপলস ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিজ (PUCL)। সেই সময় সুপ্রিম কোর্ট এমন একটি নির্দেশ দেয়, যা পরবর্তী দুই দশকে ভারতের স্কুলজীবনকে নীরবে বদলে দেয়। আদালতের নির্দেশ ছিল, ছয় মাসের মধ্যে দেশের সমস্ত সরকারি ও সরকার পোষিত প্রাথমিক স্কুলের প্রতিটি পড়ুয়ার জন্য রান্না করা দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। ক্ষুধা মোকাবিলার একটি উদ্যোগ হিসেবে শুরু হলেও, কার্যত এটি হয়ে ওঠে শিশুদের স্কুলে ধরে রাখার জন্য খাবারকে হাতিয়ার করে ভারতের অন্যতম বৃহৎ ও দীর্ঘমেয়াদি একটি পরীক্ষা।

অবশ্য এই ভাবনা একেবারে নতুন ছিল না। ষাটের দশকের গোড়া থেকেই তামিলনাড়ুতে এই ধরনের একটি প্রকল্প চালু ছিল। সেই রাজ্যের প্রাথমিক অভিজ্ঞতা নিয়ে গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, স্কুলে পড়ুয়া ভর্তির ক্ষেত্রে এই প্রকল্পের বাস্তব ও পরিমাপযোগ্য প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রী এবং দরিদ্র পরিবারের শিশুদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। কারণ, প্রতিদিন নিশ্চিতভাবে একবেলা খাবার পাওয়ার সুযোগ অনেক পরিবারের কাছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করত। শিশুকে স্কুলে পাঠানো হবে, নাকি বাড়িতে রেখে কাজে লাগানো হবে, সেই সিদ্ধান্তে দুপুরের খাবার হয়ে উঠেছিল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২০০১ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যত তামিলনাড়ুর সেই পরীক্ষাকেই গোটা দেশের জন্য বাধ্যতামূলক করে দেয়।

পড়ুয়া ভর্তির ক্ষেত্রে কী বলছে গবেষণা?

এরপর থেকে স্কুলে পড়ুয়া ভর্তির ক্ষেত্রে মিড-ডে মিল প্রকল্পের প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় মোটামুটি একই ধরনের ফলাফল উঠে এসেছে। ভারতের মিড-ডে মিল প্রকল্প নিয়ে অর্থনীতি বিষয়ক স্বীকৃত গবেষণা পত্রিকায় প্রকাশিত একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই প্রকল্পের ফলে প্রাথমিক স্কুলে পড়ুয়া ভর্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বিশেষ করে সেই সমস্ত শিশুদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বেশি, যাদের স্কুলে ভর্তি না হওয়ার বা প্রথম দিকেই পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলিতে বাড়িতে শিশুর খাবারের খরচ এবং তাকে স্কুলে পাঠানোর খরচের মধ্যে প্রায়ই প্রতিযোগিতা চলে। এই পরিস্থিতিতে স্কুলে বিনামূল্যে দুপুরের খাবার পাওয়ার নিশ্চয়তা অভিভাবকদের কাছে বড় স্বস্তি হয়ে ওঠে।

বর্তমানে কতটা বিস্তৃত পিএম পোষণ প্রকল্প?

বর্তমানে এই প্রকল্পের নাম বদলে হয়েছে পিএম পোষণ। বিপুল সংখ্যক পড়ুয়া এই প্রকল্পের সুবিধা পায়। সর্বশেষ UDISE+ স্কুল জনগণনা অনুযায়ী, দেশের প্রায় ১০.৯ লক্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আনুমানিক ১০ কোটি ৩২ লক্ষ শিশু এই প্রকল্পের আওতায় দুপুরের খাবার পায়।

২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দের পরিমাণ মোট ৫৪,০৬১ কোটি টাকা। বর্তমানে রান্নার খরচ বাবদ প্রাথমিক স্তরের প্রতিটি পড়ুয়ার জন্য দৈনিক ৬.৭৮ টাকা এবং উচ্চ প্রাথমিক স্তরের প্রতিটি পড়ুয়ার জন্য ১০.১৭ টাকা বরাদ্দ করা হয়। ব্যক্তিগতভাবে এই অঙ্কগুলি খুব বেশি মনে না হলেও, কোটি কোটি পড়ুয়ার জন্য প্রতিদিন খাবারের ব্যবস্থা করতে গিয়ে তা বিশ্বের বৃহত্তম স্কুলভিত্তিক খাদ্য সরবরাহ প্রকল্পগুলির অন্যতম হয়ে উঠেছে।

প্রকল্পের আওতার বাইরে রয়ে গিয়েছে বিপুল সংখ্যক পড়ুয়া-

তবে এই বিপুল পরিসংখ্যানের আড়ালে একটি বড় ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে দেশের মোট নথিভুক্ত পড়ুয়াদের মাত্র ৪১.৮ শতাংশ এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। দেশের স্বীকৃত বেসরকারি অনুদানহীন স্কুলগুলিতে প্রায় ৯ কোটি ৫৮ লক্ষ পড়ুয়া রয়েছে। অর্থাৎ দেশের মোট পড়ুয়ার প্রায় ৩৯ শতাংশ এই ধরনের স্কুলে পড়াশোনা করে। কিন্তু এই স্কুলগুলি পিএম পোষণ প্রকল্পের আওতার বাইরে।

অবশ্য এটি কোনও প্রশাসনিক ভুল নয়। সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের পড়ুয়াদের কথা মাথায় রেখেই এই প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু এর ফলে একটি বড় সংখ্যক দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশু মিড-ডে মিলের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশেষ করে কম খরচের বেসরকারি স্কুলে পড়া শিশুরা এই সুবিধা পায় না। অথচ তাদের পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি অনেক ক্ষেত্রেই পাশের সরকারি স্কুলে পড়া শিশুদের পরিবারের মতোই।

একটি দুপুরের খাবার কীভাবে বদলে দিতে পারে শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ?

স্কুলে মিড-ডে মিলের প্রভাব শুধু পড়ুয়া ভর্তির পরিসংখ্যানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। একটি শ্রেণিকক্ষের ভিতরে এই খাবার কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তা ভাবা দরকার। যে শিশু সকালে ঠিকমতো খেয়ে স্কুলে আসতে পারে না, তার পক্ষে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। শিক্ষক যত ভালোই পড়ান না কেন, খিদের কারণে সেই পড়ুয়ার মনোযোগ ব্যাহত হয়।

অন্যদিকে, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে নিশ্চিতভাবে দুপুরের খাবার পাওয়ার ব্যবস্থা থাকলে কয়েক ঘণ্টার জন্য হলেও শিশুর ক্ষুধাজনিত সমস্যা দূর হয়। শেখার পথে এই বাধা সরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে পাঠ্যক্রমের সংস্কার বা উন্নত মানের পাঠ্যবইও সবসময় বিকল্প হতে পারে না।

এর পাশাপাশি রয়েছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রভাব। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন জাতি ও সম্প্রদায়ের শিশুরা যখন একই খাবার একসঙ্গে বসে খায়, তখন সামাজিক বিভাজন কমানোর একটি সুযোগ তৈরি হয়। স্কুলের বাইরে যেখানে খাবারকে কেন্দ্র করে জাতপাত ও সামাজিক বিভাজন এখনও যথেষ্ট প্রকট, সেখানে স্কুলের একই রান্নাঘরে তৈরি খাবার একসঙ্গে খাওয়া সামাজিক মেলবন্ধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

এখনও দূর হয়নি সমস্যাগুলি-

তবে এর অর্থ এই নয় যে, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সমস্যামুক্ত। বিভিন্ন রাজ্যে মাঝেমধ্যেই খাবারের গুণমান ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অভিযোগ ওঠে। খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লেও রান্নার জন্য বরাদ্দ অর্থ সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে নির্ধারিত বাজেটের মধ্যে পড়ুয়াদের জন্য কতটা পুষ্টিকর খাবার দেওয়া সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

এর পাশাপাশি বেসরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের প্রকল্পের বাইরে রাখার বিষয়টিও একটি বড় সমস্যা। এর ফলে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা বহু শিশু এই সুবিধা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছে। তবে গত দুই দশকের বিভিন্ন গবেষণায় স্কুলে ভর্তি এবং শ্রেণিকক্ষে পড়ুয়াদের মনোযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে একবেলা খাবারের ইতিবাচক প্রভাবের প্রমাণ মিলেছে। নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে যেখানে কোনও প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া সবসময় সহজ হয় না, সেখানে এই প্রকল্পের সাফল্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

নাগরিকদের কেন এখনও নজর রাখা উচিত?

নাগরিকদের কাছে এই প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হল, প্রতিদিন ১০ কোটিরও বেশি শিশুকে খাবার দেওয়া হয় এমন একটি প্রকল্পের পরিসর যত বড়, তার উপর নজরদারিও ততটাই জরুরি। গত দুই দশক ধরে প্রকল্পটি চলছে বলে তাকে অবহেলা করা বা স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

আগামী দিনে যখনই স্কুলের মিড-ডে মিলকে প্রকৃত শিক্ষা নীতির তুলনায় সামান্য একটি অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে দেখার চেষ্টা হবে, তখন মনে রাখা দরকার, ভারতের প্রাথমিক শিক্ষায় বর্তমানে পড়ুয়া ভর্তির যে অগ্রগতি হয়েছে, তার একটি বড় অংশের পিছনে রয়েছে ক্ষুধা মোকাবিলায় সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া সেই ঐতিহাসিক নির্দেশ।

তথ্যসূত্র: পিপলস ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিজ বনাম ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া (২০০১), সুপ্রিম কোর্ট; UDISE+ ২০২৪-২৫, পিএম পোষণ প্রকল্পের আওতা ও বাজেট সংক্রান্ত তথ্য; ভারতের মিড-ডে মিল প্রকল্পের প্রভাব নিয়ে প্রকাশিত অর্থনীতি বিষয়ক স্বীকৃত গবেষণাপত্র।

Follow Us