AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

SIR-এ ‘VIP’ মার্ক কী? তারা কী কী সুবিধা পান?

ECI Mark VIP Option: তবে ভোটারদের ভিআইপি হিসাবে চিহ্নিত করার নিয়ম নির্বাচন কমিশনের (ECI)-এর ম্যানুয়ালে ২০১৮ সাল থেকেই রয়েছে। নতুন বিষয় হল, এবার এই ভিআইপি ট্যাগ সরাসরি বিএলও (BLO)-দের ব্যবহৃত ডিজিটাল অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে বুথ পর্যায়ে ভোটার তালিকা তৈরির কাজের প্রক্রিয়ায় এই ভিআইপি-দের চিহ্নিত করা যাবে। 

SIR-এ 'VIP' মার্ক কী? তারা কী কী সুবিধা পান?
কী এই ভিআইপি মার্ক?Image Credit: PTI
| Updated on: Sep 26, 2026 | 2:26 PM
Share

নয়া দিল্লি: এসআইআর নিয়ে বিতর্ক যেন থামতেই চাইছে না। পশ্চিমবঙ্গের পালা মিটেছে। এখন রাজধানীতে চলছে এসআইআর। সেখানেই এমন সব ব্য়ক্তির নাম বাদ পড়েছে বা নোটিস পাঠানো হয়েছে, যাদের নাম শুনলে তাজ্জব হবেন। দিল্লির প্রাক্তন ও বর্তমান- দুই মুখ্যমন্ত্রীরই নাম বাদ। এসআইআরের নোটিস পাঠানো হয়েছে দেশের প্রাক্তন উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা প্রবীণ বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদবাণীকে। বাদের তালিকায় রয়েছে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর থেকে বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রির নাম। এমনকী নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধুর নামও বাদ পড়েছে। এই বিতর্কের আবহেই নতুন ফিচার চালু করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন- মার্ক ভিআইপি (Mark VIP)। কী কাজ হবে এই ফিচার বা অপশনে?

নাম পড়েই বোঝা যাচ্ছে যে এটি ভিআইপি-দের চিহ্নিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) ব্যবহৃত বিশেষ মোবাইল অ্যাপে মার্ক ভিআইপি নামে একটি নতুন ফিচার চালু করা হয়েছে। গত ৩১ জুলাই অ্যাপেল অ্যাপ স্টোরে এই ডিজিটাল আপডেটটি দেখা গিয়েছে। সেখানে এর ডিটেইলসে লেখা—মার্ক ভিআইপি ইলেকটর রিলেটেড চেঞ্জ (mark VIP elector related changes)। রিপোর্ট অনুযায়ী, ফিচারটি ৩০ জুলাই থেকেই চালু হয়ে গিয়েছে।

দিল্লির চিফ ইলেক্টোরাল অফিসার (CEO)-এর দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সরাসরি এই সফটওয়্যারে কোনও পরিবর্তন করতে পারবে না।

‘Mark VIP’ ফিচারটি কী কাজ করবে?

‘মার্ক ভিআইপি’ মূলত ভোটারদের ভিআইপি (VIP) হিসেবে চিহ্নিত করা এবং তাঁদের সংক্রান্ত কাজের অগ্রগতি ডিজিটালভাবে ট্র্যাক করার জন্য একটি ব্যবস্থা। বিএলও (BLO)-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য যাচাই করার সময় কোনও ভোটারকে ভিআইপি হিসাবে চিহ্নিত করতে পারবেন। এরপর ওই ভোটারের প্রোফাইলে একটি তারকা (*) চিহ্ন দেখা যাবে।

এটি কেন ব্যবহার করা হচ্ছে?

বিশিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণ (Digital Flagging): সাংসদ, বিধায়ক, সাংবিধানিক বা বিচারবিভাগের উচ্চপদস্থ কর্তা, প্রবীণ আমলা, বিখ্যাত ক্রীড়াবিদ, শিল্পী বা সাংবাদিক ভোটারদের ভোটার তালিকায় বিশেষ চিহ্ন (asterisk/তারকাচিহ্ন) দিয়ে ট্যাগ করা হবে।

এই ফ্ল্যাগিংয়ের মাধ্যমে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম ড্রাফট ভোটার তালিকা থেকে যাতে দুর্ঘটনাবশত বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এতে প্রশাসনিক কাজে সুবিধা হবে। ভিআইপি-দের তথ্য যাচাইয়ের সুবিধায় যাতে বিশেষ প্রশাসনিক নজরদারি থাকে, নথিপত্র যাচাই বা সংশোধন প্রক্রিয়ায় তাঁদের সরাসরি শুনানি কেন্দ্রে এসে লাইনে দাঁড়াতে না হয়, তার জন্যই এই ব্যবস্থা।

একাধিক স্তরে যাচাই-

কোনও ভোটারকে ভিআইপি হিসাবে চিহ্নিত করার পর সেই সুপারিশ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছে পাঠানো হবে। প্রথমে অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা এইআরও (AERO) এবং ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা ইআরও (ERO) তা যাচাই করবেন। এরপর বিষয়টি যাবে দিল্লির মুখ্য নির্বাচন অফিসারের দফতরে।

খসড়া ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি-

এই ট্যাগ করার ফলে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের খসড়া ভোটার তালিকায় যুক্ত করার প্রক্রিয়া সহজ হবে। সাংসদ, বিধায়ক, সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তি, বিচারপতি, সরকারি আধিকারিক এবং শিল্প, খেলাধুলা ও সাংবাদিকতার মতো ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে। তাঁরা এনুমারেশন ফর্ম পূরণ না করলেও তাঁদের খসড়া ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা থাকবে।

শুনানি কেন্দ্রে যাওয়ার প্রয়োজন নেই-

ভিআইপি হিসাবে চিহ্নিত ভোটারদের ফর্ম দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর ফলে ভুল করে তাঁদের নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা কমবে। আবার কোনও অসঙ্গতি নিয়ে নোটিস বা আপত্তির বিষয় উঠলে, তাঁদের শারীরিকভাবে শুনানির কেন্দ্রে গিয়ে হাজির হতে হবে না। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া প্রশাসনিকভাবে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা থাকবে।

তবে ভোটারদের ভিআইপি হিসাবে চিহ্নিত করার নিয়ম নির্বাচন কমিশনের (ECI)-এর ম্যানুয়ালে ২০১৮ সাল থেকেই রয়েছে। নতুন বিষয় হল, এবার এই ভিআইপি ট্যাগ সরাসরি বিএলও (BLO)-দের ব্যবহৃত ডিজিটাল অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে বুথ পর্যায়ে ভোটার তালিকা তৈরির কাজের প্রক্রিয়ায় এই ভিআইপি-দের চিহ্নিত করা যাবে।

তবে ভিআইপি হিসাবে চিহ্নিত হলেই কোনও ভোটার দাবি-আপত্তির প্রক্রিয়া থেকে পুরোপুরি ছাড় পেয়ে যাবেন—এমনটা নয়। নিয়ম অনুযায়ী, প্রয়োজন হলে তাঁদের তথ্য ও নথি যাচাই করা হতে পারে। মূলত এই ট্যাগের উদ্দেশ্য হল, প্রশাসনিক কাজ দ্রুত করা, প্রযুক্তিগত কারণে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া আটকানো এবং প্রয়োজনীয় নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়াকে সহজ করা।

Follow Us