
শ্রাবন্তী সাহা
নয়াদিল্লি: ঘণ্টাখানেকের বেশি বৈঠক। তারপর সেই বৈঠক ‘বয়কট’ করে নির্বাচন সদনের বাইরে এসে কমিশনকে একের পর এক তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলে আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, তাঁদের কথা শোনেনি কমিশন। তবে মমতার সঙ্গে বৈঠকের পরই কমিশনের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হল, তৃণমূলের সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। পাল্টা তৃণমূলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করল কমিশন।
মমতা-সহ তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর বিবৃতিতে কমিশন জানিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল বৈঠক করে। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর সংক্রান্ত কিছু প্রশ্ন করা হয় তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের তরফে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সব প্রশ্নেরই উত্তর দিয়েছেন বলে বিবৃতিতে জানিয়ে দিল কমিশন।
একইসঙ্গে এদিন কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, কেউ যদি আইন নিজের হাতে তুলে নেন, তবে কমিশনের আইনগত ক্ষমতা এবং সংবিধান অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। বিবৃতিতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে পাল্টা সরব হল কমিশন। বিবৃতিতে কমিশন বলল, তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়করা প্রকাশ্যেই কমিশন এবং বিশেষ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও হুমকির ভাষা ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি নির্বাচনী কর্মকর্তাদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূল কর্মী ও বিধায়করা ইআরও অফিস ভাঙচুর করেছেন।
কমিশন বিবৃতিতে স্পষ্ট করে দিল, এসআইআর কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের উপর কোনও ব্যক্তির দ্বারা কোনও ধরনের চাপ, বাধা কিংবা হস্তক্ষেপ করা যাবে না। কমিশনের অভিযোগ, বিএলও-দের সাম্মানিকের টাকা আটকে রেখেছে রাজ্য সরকার। এদিন বিবৃতিতে কমিশন জানাল, আর বিলম্ব না করে বুথ লেভেল অফিসারদের সাম্মানিকের টাকা সময়মতো দিতে হবে।
রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, কমিশনের বৈঠকের পর মমতা যখন বলছেন, তাঁদের অপমান করা হয়েছে। তখন বিবৃতি দিয়ে পাল্টা তৃণমূলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করল কমিশন। এর জল কতদূর গড়ায়, সেটাই এখন দেখার।