Cooking Oil: সস্তা হতে পারে রান্নার তেলের দাম! উৎসবের মরশুমের আগেই বিরাট সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের
Cooking Oil Import Duty: ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভোজ্য তেল আমদানিকারক দেশ। মোট ভোজ্য তেলের চাহিদার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। মূলত মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, আর্জেন্টিনা, রাশিয়া এবং ইউক্রেন থেকে পাম তেল, সয়াবিন তেল ও সূর্যমুখী তেল আমদানি করে ভারত।

নয়া দিল্লি: উৎসবের মরশুম শুরুর আগেই কেন্দ্রের বড় সিদ্ধান্ত। কমতে পারে রান্নার তেলের দাম। দেশে ভোজ্যতেলের আকাশছোঁয়া দাম সামাল দিতে আমদানি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার অর্থ মন্ত্রকের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে।
নতুন সিদ্ধান্তে কাঁচা সয়াবিন তেল এবং কাঁচা পাম তেলের উপর বেসিক কাস্টমস ডিউটি (BCD) ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, রিফাইন্ড সয়াবিন তেল এবং রিফাইন্ড পাম তেলের শুল্ক ৩২.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৭.৫ শতাংশ করা হয়েছে। কাঁচা সূর্যমুখী তেলের উপর বেসিক কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে একেবারে শূন্য করে দেওয়া হয়েছে। রিফাইনড সূর্যমুখী তেলের ক্ষেত্রেও শুল্ক ৩২.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২২.৫ শতাংশ করা হয়েছে।
কেন শুল্ক কমাল কেন্দ্র?
মূলত ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। গত এক বছরে ভারতে ভোজ্য তেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে আবার সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত উৎসবের মরশুমে তেলের চাহিদা সাধারণত আরও বেড়ে যায়। মিষ্টি, নোনতা খাবার এবং বিভিন্ন ভাজাভুজি তৈরির কারণে এই সময়ে ভোজ্য তেলের ব্যবহারও আকাশছোঁয়া হয়। ফলে উৎসবের মরশুমের আগে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমদানি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।
ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভোজ্য তেল আমদানিকারক দেশ। মোট ভোজ্য তেলের চাহিদার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। মূলত মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, আর্জেন্টিনা, রাশিয়া এবং ইউক্রেন থেকে পাম তেল, সয়াবিন তেল ও সূর্যমুখী তেল আমদানি করে ভারত।
কেন বেড়েছে তেলের দাম?
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সরবরাহে বিঘ্ন এবং এল নিনো (El Niño) ও বিশ্ব উষ্ণায়নের সঙ্গে যুক্ত চরম আবহাওয়া ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে কেন্দ্র কাঁচা ভোজ্য তেলের উপর বেসিক আমদানি কর অর্ধেক করে ১০ শতাংশ করেছিল। তবে কৃষি পরিকাঠামো ও উন্নয়ন সেস (Agriculture Infrastructure and Development Cess) এবং সামাজিক উন্নয়ন সারচার্জ (Social Welfare Surcharge) যোগ করে কাঁচা পাম, সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেলের কার্যকর আমদানি শুল্ক দাঁড়িয়েছিল ১৬.৫ শতাংশ।
কৃষকদের উপর কী প্রভাব পড়বে?
শুল্ক কমানোর ফলে আমদানি করা তেলের দাম কমতে পারে এবং তার প্রভাব বাজারেও পড়তে পারে। তবে একইসঙ্গে দেশীয় তেলবীজ চাষিদের স্বার্থের কথাও বিবেচনা করা হয়েছে।
শিল্পমহলের এক আধিকারিকের মতে, বেসিক আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ কমানোর ফলে দেশে সয়াবিনের দাম সরকারের নির্ধারিত ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের (MSP) উপরে রাখতে সাহায্য হতে পারে। এতে তেলবীজ চাষিরাও কিছুটা সুবিধা পেতে পারেন।
তবে ভারতের চাহিদা আরও বাড়লে, আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানিকারক দেশগুলির তেলের দামও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, কেন্দ্রের এই শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তে উৎসবের মরশুমে ভোজ্য তেলের দাম কিছুটা কমার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
