Assembly Election 2026 : ভোটের আগে বাংলাতে প্রশাসনিক বদল, বাকি ৪ রাজ্যে কী নির্দেশিকা কমিশনের?
চলতি বছর বাংলা ছাড়া অসম, কেরলম, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরিতে ভোট রয়েছে। এর মধ্যে অসম, কেরলম ও পুদুচেরিতে ভোট রয়েছে ৯ এপ্রিল। আর পশ্চিমবঙ্গের মতোই তামিলনাড়ুতে ভোট ২৩ এপ্রিল। তবে, এই চার রাজ্যে মোট এক দফায় ভোট হবে। তবে নির্বাচন কমিশনের তরফে এই চার রাজ্যে প্রশাসনের রদবদলে আপাতত কোনও নির্দেশিকা জারি করা হয়নি। শুধুমাত্র বাংলার ক্ষেত্রেই রদবদল করেছে নির্বাচন কমিশন।

নয়া দিল্লি : রবিবার বিকেল ৪টে। সাংবাদিক বৈঠক করল নির্বাচন কমিশন। ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণা করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। কাট টু রবিবার মধ্যরাত। নবান্নের হাতে এল কমিশনের নির্দেশিকা। সেখানে স্পষ্ট লেখা, রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নতুন মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবের নামও ঘোষণা করা হল। আর কমিশনের এই নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে সোমবার সকাল থেকেই রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। আরেকটু বেলা বাড়ল। বাংলায় আরও একটা বদলির খবর এল। কমিশনের আরও একটা নির্দেশিকা। বদলে গেল ডিজিপি,সিপি। রাজ্য-রাজ্যনীতিতে উত্তাপ আরও চড়ল। আঁচ পৌঁছল দিল্লি পর্যন্ত। রাজ্যসভা উত্তাল হল। ওয়াকআউট করল তৃণমূল। ডেরেক থেকে কুণাল অভিযোগ তুললেন বিজেপিকে খুশি করার জন্য অফিসার বদলি করা হয়েছে। এদিকে, বাকি চার রাজ্যের কী হাল? সেখানেও তো ভোট রয়েছে। ওই চার রাজ্যে কি প্রশাসনে রদবদল করেছে নির্বাচন কমিশন ?
চলতি বছর বাংলা ছাড়া অসম, কেরলম, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরিতে ভোট রয়েছে। এর মধ্যে অসম, কেরলম ও পুদুচেরিতে ভোট রয়েছে ৯ এপ্রিল। আর পশ্চিমবঙ্গের মতোই তামিলনাড়ুতে ভোট ২৩ এপ্রিল। তবে, এই চার রাজ্যে মোট এক দফায় ভোট হবে। তবে নির্বাচন কমিশনের তরফে এই চার রাজ্যে প্রশাসনের রদবদলে আপাতত কোনও নির্দেশিকা জারি করা হয়নি। শুধুমাত্র বাংলার ক্ষেত্রেই রদবদল করেছে নির্বাচন কমিশন। তৃণমূলের অভিযোগ কি তাহলে কোথাও সত্যি হয়ে যাচ্ছে? কী বলছে রাজনৈতিক মহল?
বাংলা টার্গেট?
এসআইআর ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার অভিযোগ তুলেছেন বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টে গিয়েও একই সুর শোনা গিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলাতেও। একাধিক সভা থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারকে ভ্যানিশ কুমার বলে কটাক্ষ করতে দেখা গিয়েছে। একইসঙ্গে তৃণমূলের উদ্যোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবের নোটিস জমা দেওয়া হয়। তারপরই তো এই ভোট ঘোষণা, প্রশাসনিক রদবল। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপিই ষড়যন্ত্র করে সরিয়ে দিয়েছে রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকদের। রাতের অন্ধকারে কেন এভাবে মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে বদলি করে দেওয়া হল সেই নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ডেরেক। আবার কুণাল ঘোষ বললেন,বিজেপিকে খুশি করার জন্য অফিসার বদল করল।
অথচ বাকি চার রাজ্যে কোনও বদল নেই। রাজনৈতিক মহল বলছে, তৃণমূল আরও একবার তাদের দাবিকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করতে চাইল যে বাংলাকে টার্গেট করছে, বিজেপির অঙ্গুলি হেলনেই কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। যদিও ভোটের নির্ঘন্ট প্রকাশের পর অর্থাৎ রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি লাগু থাকা অবস্থায় কমিশন প্রশাসনিক আধিকারিকদের বদলির সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সেই ইঙ্গিত ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণার সময়ই দিয়েছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। তবে, প্রথম মহিলা মুখ্যসচিবকে বদল ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে বাকি চার রাজ্যে কোনও প্রশাসনিক বদল না ঘটাতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে।
