
দিল্লি: ‘মৌসম বদল রাহা হ্যায়…’ শনিবার যখন তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসের উত্তরীয় পরলেন রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম বেনজির নূর, সেই সময় রাজনীতির অলিগলিতে ঘুরছিল একটাই প্রশ্ন, হঠাৎ কেন দলবদলের সিদ্ধান্ত। এই প্রশ্ন আরও জোরদার হয়েছে, কারণ সদ্যই তাঁকে মালদহের তিনটে বিধানসভার দায়িত্ব দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাহলে? দল ছাড়াকালীন নেতা-নেত্রীদের মুখে বেশির ভাগ সময়ই শোনা যায়, তাঁরা বলেন পুরনো দলে কাজ করতে না পারার জন্যই নতুন দলে যোগদান। তবে মৌসমের ক্ষেত্রে কিন্তু পুরো উল্টো। তিনি নিজেও জানিয়েছেন, তৃণমূল তাঁকে কাজ করতে দিয়েছে। তবে পরিবার এবং গনি খান চৌধুরীর ঐতিহ্য বজায় রাখার জন্যই এই সিদ্ধান্ত তাঁর। তাহলে তৃণমূলে যোগদানের সময় কেন তা ভেবে দেখেননি? এই উত্তর যদিও অধরা।
২০০৯ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে এসছিলেন মৌসম। মালদহের প্রবাদপ্রতিম কংগ্রেস নেতা গনিখান চৌধুরীর ভাগ্নী তিনি। মৌসমের মায়ের মৃত্যুর পর সুজাপুর বিধানসভার উপনির্বাচনে প্রথম লড়েন। এবং জিতেও যান। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। তবে ২০১৯ এর লোকসভা ভোটের সময় তিনি কংগ্রেস ছাড়েন। যোগ দেন তৃণমূলে। এরপর রাজ্যসভার সাংসদ হন তিনি। প্রায় ছয় থেকে সাত বছর পর ফের ঘরে ফিরলেন ঘরের মেয়ে। নেপথ্যে সেই পরিবার।
আজ মৌসম বারেবারে বললেন, “আমরা পুরো পরিবার মিলে একসঙ্গে কাজ করতে চাই।” তবে, তাৎপর্যপূর্ণ ভাবেই মৌসম এদিন তৃণমূল নিয়ে কোনও বাড়তি মন্তব্য করেননি। এমনকী এও স্বীকার করেছেন যে তিনি কাজ করতে পারছিলেন। তবে পরিবারের জন্যই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। শুধু তাই নয়, সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ‘প্রধান শত্রু’ হিসাবে বিজেপির নামই শোনা যায় তাঁর মুখে।
মৌসম নূর বলেন, “প্রায় ছ’বছর পর ফিরে এসেছি ভাল লাগছে। আমায় যে ভালবেসে আবার গ্রহণ করেছেন, ঈশাদা যেটা বললেন, সেটাই আমারও বক্তব্য। তৃণমূলও আমায় কাজের সুযোগ দিয়েছে। আমায় জেলা প্রেসিডেন্ট করা হয়েছিল। রাজ্যসভার সাংসদ ছিলাম। তবে আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইস্তফা পত্র জমা দেব। আমি কংগ্রেসের হাইকমান্ড সোনিয়াজি থেকে সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আজ বরকত সাহেবের কথা মনে হচ্ছে। আমার মা সারা জীবন কংগ্রেসকে মজবুতের কাজ করেছে। কংগ্রেসের পরিবার হিসাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি আর আলাদাভাবে নয়, একসঙ্গে কাজ করব। পরিবার হিসাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সাধারণ মানুষও চায় কংগ্রেস আগামী দিনে ভাল জায়গায় যাক।” তাঁর আরও সংযোজন, “আমি বরকত সাহেবকে দেখেই রাজনীতিতে আসি। আমি তৃণমূলে থেকেও কাজ করতে পারছিলাম। কিন্তু বরকত সাহেবের ঐতিহ্যকেই বজায় রাখতেই পরিবার মিলে একসঙ্গে লড়াই করব।”