Gujarat UCC: একটার বেশি বিয়ে করা যাবে না, লিভ ইনে থাকতে এই নিয়ম মানতেই হবে! মোদী রাজ্যেও চালু হল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি
Uniform Civil Code Rules: ইউসিসিতে গুজরাটেও একটি বিবাহ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর অর্থ হল, স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহ করা যাবে না। বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করতে ব্যর্থ হলে, তা সরকারি নথি বা চাকরির রেকর্ডে বৈবাহিক অবস্থার পরিবর্তনেও প্রভাব ফেলবে।

আহমেদাবাদ: মোদী রাজ্যে চালু হল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। উত্তরাখণ্ডের পর গুজরাট। দেশের দ্বিতীয় রাজ্যে চালু হল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এই বিলে স্বাক্ষর করে অনুমোদন দিয়েছেন। ফলে এটি আইনে পরিণত হল। গুজরাট সরকার শীঘ্রই অভিন্ন দেওয়ানি বিধির সমস্ত নিয়ম-কানুন ঘোষণা করবে।
গত মার্চ মাসেই গুজরাট বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পাশ করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেল জানিয়েছেন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মাধ্যমে সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিলে সই করার পরই রাজ্য সরকার আইনটি সম্পর্কে একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। তবে, তফসিলি উপজাতিরা এই আইনের বিধান থেকে বাদ থাকবে।
অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতে বিবাহ থেকে শুরু করে বিবাহবিচ্ছেদ এবং উত্তরাধিকার পর্যন্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। লিভ ইন সম্পর্ক নিয়েও বিধান রয়েছে। বিয়ের রেজিস্ট্রেশন নিয়েও নতুন আইন আসছে। কী কী নিয়ম চালু হচ্ছে জেনে নিন-
বিয়ের নিয়ম-
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি অনুযায়ী, গুজরাটে এবার থেকে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক হচ্ছে। আইন কার্যকর হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সকলকে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করাতেই হবে। শোনা যাচ্ছে, গুজরাটে ৬০ দিনের মধ্যে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলকভাবে করতে হবে। যদি রেজিস্ট্রেশন না করা হয়, তাহলে জরিমানা হতে পারে। বিয়ের ক্ষেত্রে পুরুষদের বয়স ন্যূনতম ২১ বছর ও মহিলাদের বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর হতে হবে।
বহুবিবাহের উপর নিষেধাজ্ঞা-
ইউসিসিতে গুজরাটেও একটি বিবাহ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর অর্থ হল, স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহ করা যাবে না। বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করতে ব্যর্থ হলে, তা সরকারি নথি বা চাকরির রেকর্ডে বৈবাহিক অবস্থার পরিবর্তনেও প্রভাব ফেলবে।
লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম-
গুজরাটের অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতেও লিভ-ইন সম্পর্ক নিয়ে স্পষ্ট বিধান রয়েছে। যে সকল যুগল বিয়ের আগে বা বিয়ে না করে একসঙ্গে বসবাস করছেন বা লিভ-ইন সম্পর্কে থাকছেন, তাদের অবশ্যই সম্পর্কের রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে। রেজিস্ট্রারারের কাছে একটি যৌথ বিবৃতি জমা দিতে হবে।
সরকারের কাছে লিভ ইন সম্পর্কের নথি সংরক্ষিত থাকবে। যদি কেউ লিভ-ইন সম্পর্ক ভেঙে বেরিয়ে যান, সেটিও রেজিস্ট্রারারের কাছে জানাতে হবে। এই তথ্য যৌথভাবে বা যেকোনও এক পক্ষ জানাতে পারে। এইভাবে লিভ-ইন সম্পর্ককে আইনের আওতায় আনা হবে।
পুত্র ও কন্যার সম্পত্তিতে সমান অধিকার
ইউসিসি-তে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। কোনও ব্যক্তি উইল না করে মারা গেলে, তার স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান এবং পিতা-মাতা সম্পত্তির উপর আইনগত অধিকার লাভ করবেন। উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে পুত্র ও কন্যার মধ্যে কোনও পার্থক্য থাকবে না। বিয়ের সম্পর্কের বাইরে জন্মগ্রহণকারী সন্তান এবং সারোগেসি বা দত্তকের মাধ্যমে দত্তক নেওয়া সন্তানরাও বায়োলজিক্যাল সন্তানদের মতো একই আইনত উত্তরাধিকার পাবে। সম্পত্তি ও উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে নারীদেরও পুরুষদের সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে।
উত্তরাখণ্ডের মতো গুজরাটেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধির আইন থেকে তফসিলি জনজাতি-উপজাতিদের সুরক্ষিত রাখা হয়েছে।
