ATM থেকে তুলতে গিয়েছিলেন ১০ হাজার টাকা, ব্যাঙ্ক দিল ৩ লক্ষ টাকা!
Bank of Baroda: ব্যাঙ্ক অব বরোদা যুক্তি দেয় যে ওই এটিএম এসবিআইয়ের, তাই দায়বদ্ধতাও তাদের। তাছাড়া ট্রানজাকশন রেকর্ডে সাকসেসফুল দেখাচ্ছে, তাই ব্যাঙ্কের কোনও গাফিলতি নেই। কনজিউমার কমিশন এই যুক্তি খারিজ করে বলে যে ব্যাঙ্ক-কে প্রমাণ দিতে হবে ট্রানজাকশনের।

আহমেদাবাদ: পকেট ফাঁকা, এটিএম থেকে ১০ হাজার টাকা তুলতে গিয়েছিলেন। ব্যাঙ্ক ১০ হাজার টাকা দেওয়ার বদলে দিল ৩ লক্ষ টাকা! প্রায় ৩০ গুণ বেশি টাকা দিতে বাধ্য হল ব্যাঙ্ক। কেন জানেন?
ঘটনাটি আজকের নয়। ২০১৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি গুজরাটের সুরাটের বাসিন্দা এক ব্যক্তি এটিএম থেকে ১০ হাজার টাকা তুলতে গিয়েছিলেন। পিন দেওয়ার পর এটিএম থেকে টাকাও বের হয়নি, বের হয়নি কোনও রিসিট। এদিকে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে গিয়েছে ১০ হাজার টাকা।
ব্য়াঙ্ক অব বরোদার কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। শতাধিক ইমেইল পাঠান তিনি ব্যাঙ্কের কাছে। মেলেনি কোনও উত্তর। লিখিত অভিযোগও জানান। শেষে তিনি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের কাছেও অভিযোগ জানান। এসবিআই-র কাছে আরটিআই-র আবেদনও করেন এটিএমের সিসিটিভি ফুটেজ দেখার জন্য। কিন্তু কোথাও থেকেই সদুত্তর মেলেনি। শেষে ২০১৭ সালের ২০ ডিসেম্বর তিনি কনজিউমার ফোরামের দারস্থ হন।
মামলায় ব্যাঙ্ক অব বরোদা যুক্তি দেয় যে ওই এটিএম এসবিআইয়ের, তাই দায়বদ্ধতাও তাদের। তাছাড়া ট্রানজাকশন রেকর্ডে সাকসেসফুল দেখাচ্ছে, তাই ব্যাঙ্কের কোনও গাফিলতি নেই। কনজিউমার কমিশন এই যুক্তি খারিজ করে বলে যে ব্যাঙ্ক-কে প্রমাণ দিতে হবে ট্রানজাকশনের। আরবিআইয়ের নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ দিনের মধ্য়ে টাকা রিফান্ড করতে হত ব্যাঙ্ক-কে, যা ব্যাঙ্ক ব্যর্থ হয়েছে। কমিশন ব্য়াঙ্ক অব বরোদাকে ওই ব্যক্তির প্রাপ্য় ১০ হাজার টাকা এবং বার্ষিক ৯ শতাংশ সুদের হারে টাকা দিতে হবে। এছাড়া প্রতিদিন ১০০ টাকা হিসাবে মোট সব দিনের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সেই সব ক্ষতিপূরণ মিলিয়ে মোট বকেয়া প্রাপ্য অর্থ দাঁড়ায় ৩ লক্ষ ২৮ হাজার ৮০০ টাকা। মানসিক হেনস্থার জন্য ৩ হাজার টাকা ও আইনি খরচের জন্য ২ হাজার টাকা দিতে বলা হয় ব্যাঙ্ককে।
