Harish Rana: ধীরে-ধীরে না ফেরার দেশে পৌঁছে গেলেন হরীশ, ‘সুপ্রিম’ অনুমতিতে হল দেশের প্রথম স্বেচ্ছামৃত্যু
দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ইচ্ছামৃত্যু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য হরিশকে গত ১৪ মার্চ দিল্লি এইমস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। দু'দিন পর থেকে তাঁর লাইফ সাপোর্ট অর্থাৎ কৃত্রিম সব ব্যবস্থা সরিয়ে ফেলা হয়। এগারো দিন পর ওই যুবক মঙ্গলবার বিকেলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নয়া দিল্লি: তেরোটা বছর কোমায় ছিলেন। ব্যর্থ হয়েছে হাজারও চিকিৎসা। প্রতিদিন ছেলেকে চোখের সামনে কষ্ট পেতে দেখেছেন বাবা-মা। সেই ‘যুদ্ধ’ অবশেষে থামল। দিল্লির এইমসে মঙ্গলবার মৃত্যু হল হরীশ রানার। ঘড়ির কাঁটায় যখন ৪টে বেজে ১০ মিনিট? সেই সময় পৃথিবী ছেড়ে না ফেরার দেশে পৌঁছে গেলেন বছর একত্রিশের এই যুবক। দেশের মধ্যে হরিশই প্রথম, যাঁর স্বেচ্ছামৃত্যুর ইচ্ছা পূরণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ইচ্ছামৃত্যু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য হরিশকে গত ১৪ মার্চ দিল্লি এইমস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। দু’দিন পর থেকে তাঁর লাইফ সাপোর্ট অর্থাৎ কৃত্রিম সব ব্যবস্থা সরিয়ে ফেলা হয়। এগারো দিন পর ওই যুবক মঙ্গলবার বিকেলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
কে ছিলেন হরীশ?
চণ্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতেন হরীশ। তবে সব ওলট-পালট হয়ে গেল ২০১৩ সালে। হস্টেলের পাঁচতলা থেকে পড়ে গিয়ে চোট পান তিনি। আর সেরে ওঠেননি। তারপর থেকে টানা শয্য়াশায়ী। ছেলেকে সুস্থ করতে কম দৌড়-ঝাঁপ করেননি মা-বাবা। নামী-দামি ওষুধ, হাসপাতাল, ডাক্তার কোনও কিছুই সারিয়ে তুলতে পারেনি হরীশকে। শেষে হাল ছাড়েন মা বাবা।
চোখের সামনে ছেলেকে ক্রমাগত কষ্ট পেতে দেখছিলেন মা-বাবা। বুঝে গিয়েছিলেন চরম সত্যিতা। তাঁদের ছেলে যে আর কখনও সেরে উঠবে না তা জানতেই ভালই। এ দিকে, অসুস্থতা কম হওয়ার থেকেও বাড়ছিল দিনের পর দিন। সন্তানের এত যন্ত্রণা কোন মা-বাবা সহ্য করতে পারে?
শেষে ছেলেকে কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে বুঝলেন মৃত্যুই একমাত্র পথ। এরই পরই কোর্টের দ্বারস্থ হন। দাবি করেন স্বেচ্ছামৃত্যুর।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ
এরপর এই আদালত জানিয়ে দেয়, পরিকল্পনা করে তবেই হরীশের লাইফ সাপোর্ট খুলতে হবে। মর্যাদার সঙ্গে তিনি যাতে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়তে পারেন,তা দেখতে হবে। সেই মতো গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। গঠিত হয় মেডিক্যাল টিম। দীর্ঘ তেরো বছরের লড়াই অবশেষে হল সমাপ্তি।
