Sugar price Hike: কেন বাড়ছে চিনির দাম? কোন রাজ্যে কত বেশি উৎপাদন? জেনে নিন দেশের Sugar Industry কীভাবে কাজ করে
India sugar industry: ভারতে কি তীব্র চিনি সংকট তৈরি হয়েছে? সত্যিটা হল, নতুন আখ কাটার মরশুম শুরুর আগে পর্যন্ত ঘরোয়া চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত চিনি স্টকে মজুত রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম কি স্থির রয়েছে?

বেশ কয়েকমাস ধরেই চিনির দাম আকাশছোঁয়া। দাম এতটাই বেড়েছে যে মধ্যবিত্তের হাতের নাগালে প্রায় চলে যাচ্ছে চিনি। আগামীতে পর পর রয়েছে দেশ জুড়ে নানা উৎসব। দুর্গাপুজো, দিওয়ালি, নতুন বছরের সেলিব্রেশন। মিষ্টিমুখ ছাড়া যে উৎসবগুলো একেবারেই জমে না, তাই এখন থেকেই কপালে ভাঁজ পড়েছে সাধারণ মানুষ থেকে ব্যবসায়ীদের। কেন এভাবে দ্রুত বাড়ছে চিনির দাম? কীভাবে কাজ করে দেশের এই সুগার ইন্ডাস্ট্রি? জেনে নেওয়া যাক বিশদে।
বিশ্বমঞ্চে চালের পাশাপাশি চিনি উৎপাদনেও নিজেদের দ্বিতীয় স্থানে ধরে রেখেছে ভারত। কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের ‘থার্ড অ্যাডভান্স এস্টিমেট’ অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশে রেকর্ড ৫০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন (MMT) আখ উৎপাদিত হয়েছে। ২০১৫-১৬ সালে যেখানে উৎপাদন ছিল ৩৪৮.৪৪ MMT, সেই তুলনায় গত ১০ বছরে উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৪৩.৫ শতাংশ। একই সঙ্গে আখ চাষের জমিও ৪৯.২৭ লাখ হেক্টর থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮.৮৭ লাখ হেক্টরে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্র। দেশের প্রায় ৫ কোটি কৃষক এবং চিনি কারখানা যুক্ত প্রায় ৫ লাখ শ্রমিকের রুজি-রুটি নির্ভর করে রয়েছে এই শিল্পের ওপর।
এক মাসে চিনির দাম বেড়েছে ১৫.৬%
তবে সাম্প্রতিক সময়ে খুচরো বাজারে চিনির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে সাধারণ মানুষের কপালে। ২০২৬ সালের ২০ জুলাই যে চিনির দাম ছিল কেজি প্রতি ৪৮.১৮ টাকা, ২০ আগস্ট তা গিয়ে পৌঁছেছে ৫৫.৭০ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক মাসেই দাম বেড়েছে ১৫.৬ শতাংশ। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি সাময়িক লাফ। কারণ ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত চিনির বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৩ শতাংশের কাছাকাছি।
মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে ৫ কারণ-
১) অভ্যন্তরীণ বাজারে ধারণার চেয়ে উৎপাদন কম হওয়া।
২) আসন্ন উৎসবের মরসুমে হঠাৎ চাহিদা বৃদ্ধি।
৩) অতিরিক্ত বৃষ্টি ও ‘রেড রট’ ও ‘টপ বোরার’ নামক পোকার আক্রমণে আখের ফলন মার খাওয়া।
৪) বিশ্ববাজারে যোগানের টান ও আন্তর্জাতিক স্তরে মূল্যবৃদ্ধি।
৫) বাজারের একাংশের অনৈতিক মজুতদারি ও জল্পনা।
এ বছর দেশে প্রাথমিক অনুমানের (৩৪৩ লাখ মেট্রিক টন) চেয়ে কম, অর্থাৎ প্রায় ৩০৬ লাখ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। তবে উৎপাদন কিছুটা কমলেও ঘরোয়া চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত চিনির স্টক বর্তমানে দেশেই মজুত রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে চিনির সংকট
চিনির যোগানে টান কেবল ভারতে নয়, এটি গোটা বিশ্বের সমস্যা। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৩ লাখ মেট্রিক টন চিনির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে মাত্র দু’মাসে চিনির দাম প্রতি টনে ৪৭৪ ডলার থেকে ১৬ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ৫৫২ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
কালোবাজারি রদে কেন্দ্রীয় পদক্ষেপ
উৎসবের মুখে চিনির বাজারে কৃত্রিম সংকট ও কালোবাজারি রুখতে বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কেন্দ্র-
১ আগস্ট থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ডিলারদের জন্য সর্বোচ্চ ৪০০ টন চিনি মজুতের সীমা (স্টক লিমিট) বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
১ সেপ্টেম্বর থেকে বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীরা ১৫ দিনের বেশি ব্যবহারের চিনি মজুত করতে পারবেন না।
মিলগুলিতে বেআইনি মজুতদারি রুখতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য আধিকারিকদের যৌথ দল নজরদারি চালাচ্ছ।
দেশের বাজার স্থিতিশীল রাখতে শুল্কমুক্ত (Duty-free) ১০ লাখ মেট্রিক টন কাঁচা চিনি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
আগামী ১৫ অক্টোবর থেকেই নতুন মরসুমের আখ কাটা শুরু করতে বলা হয়েছে, যাতে অক্টোবরে চিনি উৎপাদন ৩-৪ লাখ টন থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টনে নিয়ে যাওয়া যায়।
চিনির মূল্য বৃদ্ধির নেপথ্যে বেশ কিছু রটনাও রয়েছে। রটেছে, ইথানল তৈরির কারণেই কি চিনির দাম বাড়ছে? সত্য়িটা হল, ইথানলের জন্য চিনি ব্যবহারের হার ২০২২-২৩ সালের ১২% থেকে কমে ২০২৫-২৬ সালে ৯%-এ নেমে এসেছে। ইথানলের জন্য নাকি মানুষের মুখের চিনি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে? সত্যিটা হল, ভারতের মোট ইথানল উৎপাদনের তিন-চতুর্থাংশই তৈরি হয় খাদ্যশস্য (বিশেষ করে ভুট্টা) থেকে। ভারতে কি তীব্র চিনি সংকট তৈরি হয়েছে? সত্যিটা হল, নতুন আখ কাটার মরশুম শুরুর আগে পর্যন্ত ঘরোয়া চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত চিনি স্টকে মজুত রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম কি স্থির রয়েছে? সত্যটা হল, বিশ্ববাজারে চিনির দাম মাত্র দু’মাসে ১৬% বেড়ে টন প্রতি ৪৭৪ ডলার থেকে ৫৫২ ডলারে পৌঁছেছে। আবার রটেছে, ভারতের চিনি উৎপাদন কি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে? রোগ ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় উৎপাদন কিছুটা কমে ৩০৬ লাখ মেট্রিক টন হলেও তা ধ্বংসাত্মক নয়। চিনির দাম কি অনবরত বাড়তেই থাকছে? সত্যিটা হল, দীর্ঘমেয়াদী হিসাবে ২০২৪-২৬ সালের মধ্যে দাম বার্ষিক মাত্র ৩% হারে বেড়েছে। বর্তমান মূল্যবৃদ্ধি ক্ষণস্থায়ী।
তথ্যসূত্র- PIB
