Babui Pakhi Basa: জানেন বাবুই পাখি একটি বাসা বানাতে ঠিক কতটা সময় নেয় ?
Weaver Bird Nesting: বাসা বানানোর পুরো দায়িত্বটি থাকে পুরুষ বাবুই পাখির কাঁধে। প্রজনন ঋতুতে সঙ্গিনীকে আকৃষ্ট করতেই মূলত এই অসাধারণ স্থাপত্য শৈলীর সৃষ্টি। কাঁচা তালপাতা, নারকেল পাতা, খেজুর পাতা এবং বিশেষ কাঁচা ঘাস সরু ফিতের মতো ছিঁড়ে নিয়ে আসে পুরুষ বাবুই।

গ্রামীণ বাংলার বাতাসে তালগাছের পাতায় দোল খাওয়া বাবুই পাখির বাসা কেবল সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং তা প্রাকৃতিক প্রকৌশল বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক বিস্ময়কর উদাহরণ। আজও নিজের ঠোঁট দিয়ে নিখুঁত নকশায় ঘর বাঁধে এই খুদে শিল্পী। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন, একটি নিখুঁত ও মজবুত বাবুই পাখির বাসা তৈরি হতে ঠিক কত দিন বা কত সময় লাগে?
পাখি বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বাবুই পাখির সম্পূর্ণ বাসা তৈরি হতে সাধারণত ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগে। তবে আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এবং প্রয়োজনীয় ঘাস বা তালপাতা পর্যাপ্ত মিললে মাত্র ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেও এই কাজ সম্পন্ন হতে পারে।
পাখি বিশেষজ্ঞদের থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাসা বানানোর পুরো দায়িত্বটি থাকে পুরুষ বাবুই পাখির কাঁধে। প্রজনন ঋতুতে সঙ্গিনীকে আকৃষ্ট করতেই মূলত এই অসাধারণ স্থাপত্য শৈলীর সৃষ্টি। কাঁচা তালপাতা, নারকেল পাতা, খেজুর পাতা এবং বিশেষ কাঁচা ঘাস সরু ফিতের মতো ছিঁড়ে নিয়ে আসে পুরুষ বাবুই। একটি পূর্ণাঙ্গ বাসা তৈরি করতে প্রায় ৫০০ থেকে ১,০০০ বার পাতা ও ঘাসের টুকরো সগ্রহ করতে উড়ে যেতে হয় তাদের।
ঝোড়ো হাওয়ায় যাতে ঘর পড়ে না যায়, তাই তালের ডাটার সঙ্গে প্রায় হাজারখানেক শক্ত গিঁট দিয়ে বোনা শুরু হয় উল্টোনো বোতলের মতো দেখতে এই বাসা। বাসার ভেতরের অংশে বাবুই পাখি ভিজে কাদা বা মাটি এনে লেপে দেয়। এতে বাতাসের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং তীব্র ঝড়েও বাসাটি দোলে কিন্তু উল্টে যায় না।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হল, পুরুষ বাবুইটি বাসাটির অর্ধেক বোনার পর স্ত্রী বাবুই এসে তা পরিদর্শন করে। বাসাটি পছন্দ হলে তবেই দুজনে মিলে বাকি কাজ শেষ করে এবং সংসার শুরু করে। আর যদি পছন্দ না হয়, তবে সেই বাসা পরিত্যাগ করে আবার নতুন উদ্যমে নতুন বাসা বোনা শুরু করে এই অক্লান্ত পরিশ্রমী পাখি।
