High Court: ‘ভেজা শাড়ি পরে ধর্মীয় আচার পালন না করলেই স্ত্রী নিষ্ঠুর নয়’, সাফ জানাল হাইকোর্ট
স্বামীর অভিযোগ, স্বামীর দাবি, স্ত্রীর নিষ্ঠুরতার অভিযোগে বিচ্ছেদ চান তিনি। তাঁর বক্তব্য, তাঁর পরিবার রক্ষণশীল হওয়া সত্ত্বেও তাঁর স্ত্রী পারিবারিক আচার মানতে রাজি ছিলেন না। স্ত্রী মায়ের যত্ন নিতেন না বলেও দাবি স্বামীর। তাঁর অভিযোগ, স্ত্রী পরিবারের সবার সঙ্গে ঝগড়া করতেন।

অন্ধ্রপ্রদেশ: শ্বশুরবাড়িতে কোনও ধর্মীয় আচার-রীতি পালন করেন না, পারিবারিক রীতি মানতে চান না, এই অভিযোগ তুলেই বিচ্ছেদের মামলা করেছিলেন এক ব্যক্তি। হাইকোর্টে ধোপে টিকল না সেই মামলা। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, ধর্মীয় আচার, সংস্কৃতি নিয়ে প্রত্যেকের স্বাধীনতা থাকাটাই স্বাভাবিক। এতে কোনও নিষ্ঠুরতা প্রমাণ হয় না।
কী সেই মামলা?
১৯৯৯ সালে এক দম্পতির বিয়ে হয়। বছর কয়েকের মধ্যে শুরু হয় পারিবারিক অশান্তি। বিচ্ছেদের আবেদন করে পারিবারিক আদালতের দ্বারস্থ হন স্বামী। আদালতে খারিজ হয়ে যায় সেই আবেদন। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে অন্ধ্র প্রদেশ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ওই ব্যক্তি।
স্বামীর অভিযোগ, স্বামীর দাবি, স্ত্রীর নিষ্ঠুরতার অভিযোগে বিচ্ছেদ চান তিনি। তাঁর বক্তব্য, তাঁর পরিবার রক্ষণশীল হওয়া সত্ত্বেও তাঁর স্ত্রী পারিবারিক আচার মানতে রাজি ছিলেন না। স্ত্রী মায়ের যত্ন নিতেন না বলেও দাবি স্বামীর। তাঁর অভিযোগ, স্ত্রী পরিবারের সবার সঙ্গে ঝগড়া করতেন।
২০০০ সালে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান তিনি। এদিকে, স্ত্রীর বক্তব্য, তিনি নিজেও রক্ষণশীল পরিবার থেকে এসেছেন, কিন্তু তাঁর দেওর ও ননদের জন্য শ্বশুরবাড়ি বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ
বিচারপতি বাট্টু দেবানন্দ ও বিচারপতি সুনীতা গন্ধমের বেঞ্চে ওঠে মামলাটি। দম্পতি ২০০০ সাল থেকে আলাদা বসবাস করছিলেন। বর্তমানে তাঁদের বয়স প্রায় ৭৬ ও ৬৬ বছর। আদালত সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উল্লেখ করে বলে, দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নিষ্ঠুরতা হিসেবে গণ্য করা হবে না।
বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, কোনও আচার-অনুষ্ঠান পালন না করলে, বা কোনও নির্দিষ্ট রীতি মানতে না চাইলে তাকে নিষ্ঠুরতা বলা যায় না। তবে, যদি বারবার অপমান বা অবমাননা করা হয়, পরিবারের প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণ করা হয়, তখন আদালত সার্বিক বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে তেমন কিছু খুঁজে পায়নি আদালত।
