
নয়া দিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি। প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতে। এলপিজি সঙ্কট নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। মূল্যবৃদ্ধিও হয়েছে ইতিমধ্যেই। এবার সেই পরিস্থিতি নিয়ে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলল কেন্দ্র। কী পরিস্থিতি, কতটা সঙ্কট, ভারতের অবস্থান কী, সব তথ্যই এদিন তুলে ধরা হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।
বুধবার বৈঠকের শুরুতেই বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি একটি প্রেজেন্টেশন দিয়েছেন। সেখানে বলা হয়েছে, যুদ্ধ চায়না ভারত। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এটাই ভারতের অবস্থান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এ কথা জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, আপাতত জ্বালানি সঙ্কট নেই। এই মুহূর্তে জ্বালানি তেল বা রান্নার গ্যাস যথেষ্ট মজুত আছে। আরও জানানো হয়েছে যে সাম্প্রতিক সময় এলপিজি উৎপাদন ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে ভারত সরকার। তবে বিকল্প হিসেবে পিএনজির উপর জোর দিচ্ছে সরকার।
হরমুজ প্রণালী থেকে আরও পাঁচটি জাহাজ খুব শীঘ্রই আসবে। ইতিমধ্যেই চারটি জাহাজ বেরিয়ে এসেছে বলেও জানানো হয়েছে। পশ্চিম এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি ছাড়াও অন্যান্য দেশ থেকে খনিজ তেল ও গ্যাস আমদানি করছে ভারত।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির ভারতের উপর প্রভাব ও সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে কেন্দ্র সর্বদলীয় নেতাদের অবহিত করা হয়েছে এদিন। বৈঠকে ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শুরু হয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্য দিয়ে। হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি ও তার প্রভাব নিয়ে বিদেশ সচিব ও বিদেশমন্ত্রী প্রেজেন্টেশন দেন। জানানো হয়, পরিস্থিতি যা হোক অগ্রাধিকার পাবে ভারতের স্বার্থ। এখন পর্যন্ত ৪,২৫,০০০ মানুষকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলেও জানিয়েছে কেন্দ্র।
বৈঠকে কেন্দ্রের স্পষ্ট বার্তা, আতঙ্কিত হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। বিরোধীরা যে কোনও সময় তথ্য জানতে পারবে। খামেনেই-এর মৃত্যুর পর শোকবার্তা পাঠাতে দেরি হল কেন? এই প্রশ্ন উঠতেই কেন্দ্র জানিয়েছে, চারদিনের মধ্যে সংসদে বিস্তারিত বিবৃতি দেওয়া হবে।