
নয়া দিল্লি: এবার পথে নামছে ইন্ডিয়া জোট (INDIA Alliance)। জ্ঞানেশ কুমার ইস্যু হাতে পেতেই অ্যাকশন মোডে বিরোধীরা। আজ, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পথে নামছে ইন্ডিয়া জোট। সংসদ থেকে জাতীয় নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত মিছিল করতে চলেছে ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা।
বিভিন্ন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর আরও যেন ছন্নছাড়া হয়ে গিয়েছিল বিরোধী দলগুলি। তবে সংসদে তারা একজোট ছিল। বিভিন্ন রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরই বিরোধীরা সুর চড়াতে শুরু করেছিল। সম্প্রতি একটি সংবাদপত্রের তদন্তমূলক রিপোর্টে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে বিরোধের খবর সামনে আসতেই আবার নড়েচড়ে বসে বিরোধীরা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বৈঠকও করে ইন্ডিয়া জোটের সদস্যরা। সেখানে তাদের অন্য়তম আলোচ্য বিষয় ছিল কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামা।
জানা গিয়েছে, সকাল সাড়ে দশটায় সংসদের মকরদ্বার থেকে শুরু হবে মিছিল। এই মিছিলে প্রথম সারিতেই উপস্থিত থাকবেন সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী। পাশাপাশি মিছিলে পা মেলাবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এছাড়াও সব সংসদীয় দলের নেতারা উপস্থিত থাকছেন।
তবে ইন্ডিয়া ব্লকের সাংসদদের এই নির্বাচন কমিশন অভিযানে থাকছে না আম আদমি পার্টি ও ডিএমকে। অন্যদিকে, ইন্ডিয়া ব্লকের বৈঠকে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি থাকার কারণে উপস্থিত না থাকলেও, আজ অংশ নিতে পারেন অখিলেশ যাদব।
তবে দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, সংসদ থেকে বেরোলেই আটকানো হবে মিছিল। সংসদ চত্বরের কাছাকাছি প্রচুর সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রয়েছে ব্যারিকেড, র্যাফ (RAF)-ও। শেষ পর্যন্ত ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা কতদূর এগোতে পারেন, তা-ই দেখার।
কমিশন বিরোধী আন্দোলনের আঁচ জিইয়ে রাখতে শীতকালীন অধিবেশন পর্যন্ত টানা সাংগঠনিক কর্মসূচি ঘোষণা করলে কংগ্রেস। ১০ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী প্রত্যেক ব্লকে ‘ভোট বাঁচাও দেশ বাঁচাও’ কর্মসূচি পালন করবে কংগ্রেস। সব ব্লকে সাইকেল এবং মোটর-সাইকেল র্যালি করা হবে। কর্মসূচি শেষে জ্ঞানেশ কুমারের কুশপুতুল দাহ করার নির্দেশ।
ভোট চুরি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করতে কংগ্রেস কর্মীদের লিফলেট বিলি করা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।২৫ অক্টোবর থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত ‘সেভ ভোট, সেভ কান্ট্রি’ (save vote, save country) কর্মসূচি পালন করা হবে প্রতি বুথে। বুথ-ভিত্তিক চৌপল বৈঠক বা ছোট জমায়েত করে প্রচার করা হবে। শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখবেন এই জমায়েতে।
পয়লা নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া ব্লকের জনসভায় কংগ্রেস কর্মীদের বিপুল জমায়েত নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২৫ এবং ২৬ নভেম্বর দিল্লি সংলগ্ন ৬টি জায়গা থেকে আলাদাভাবে শুরু হবে ৬টি ‘দিল্লি চলো’ মিছিল হবে। প্রত্যেক মিছিলের নেতৃত্ব দেবেন এক একজন কেন্দ্রীয় নেতা। এরপর ২৬ নভেম্বর দিল্লিতে সংবিধান দিবসে বিরাট জনসভা করবে কংগ্রেস। ৬টি মিছিল মিলবে সংবিধান দিবসের জনসভায়।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত সপ্তাহে ককরোচ জনতা পার্টি দিল্লি ও মুম্বইতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা চেয়ে। সেই বিক্ষোভ কর্মসূচিতেও শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়।