
ঢাকা ও নয়াদিল্লি: হিংসার আগুনে জ্বলছে বাংলাদেশ। হিন্দু-সহ সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের খবর সামনে আসছে। পদ্মাপারের দেশে একের পর এক হিন্দুকে খুনের অভিযোগ ঘিরে বিক্ষোভ বাড়ছে। এই আবহে কি বাংলাদেশ নিয়ে বড় কোনও পদক্ষেপ করতে চলেছে ভারত? এই প্রশ্ন উঠছে। কারণ, হঠাৎ করেই বাংলাদেশ থেকে ফেরানো হচ্ছে সেখানে কর্মরত ভারতীয় কূটনৈতিকদের আত্মীয় পরিজনদের। আর এতেই তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে মহম্মদ ইউনূস প্রশাসনের অন্দরে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে নয়াদিল্লি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের একটি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঢাকার কূটনৈতিক মিশন এবং ও সহকারী মিশনগুলিতে কর্মরত-কর্মকর্তাদের আত্মীয় ও পরিজনদের ভারতে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে কূটনৈতিক সম্পর্কে আপাতত প্রভাব পড়বে না বলেই জানা যাচ্ছে।
ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন ছাড়াও চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট ও রাজশাহীর ভারতীয় মিশনে কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। হঠাৎ করে ভারতের এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ইউনূস প্রশাসনের অন্দরে এই নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ অগস্ট প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে বাংলাদেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হয় সেদেশে। সেই সময় থেকেই উত্তপ্ত বাংলাদেশ। গত বছরের ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদিকে খুনের ঘটনায় ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পদ্মাপারের দেশ। তারপর গত কিছুদিনে একের পর এক হিন্দু খুন হয়েছে। আবার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন রয়েছে পদ্মাপারের দেশে। সেই নির্বাচন ঘিরে অশান্তির আশঙ্কা করছেন অনেকে। এই আবহে কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের দেশে ফিরিয়ে আনছে নয়াদিল্লি। এবার বাংলাদেশ ইস্যুতে ভারত বড় কোনও পদক্ষেপ করবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।