Indian Railway: উৎসবের মরশুমে স্পেশাল ট্রেনের ঘোষণা, কোন দিন কোন ট্রেন চলবে, সিদ্ধান্ত নেয় কে? কোথা থেকেই বা আসে অতিরিক্ত কামরা?
Diwali Special Trains 2026: সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দুটি স্তর রয়েছে। রেল বোর্ড মোট কতগুলি স্পেশাল ট্রেন চলবে এবং কতদিন চলবে, তার অনুমোদন দেয়। অন্যদিকে, জোনাল রেলওয়ে ট্রেনের সময়সূচি এবং কোন কোন দিন ট্রেন চলবে, তা নির্ধারণ করে। চলতি বছরও ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ রেল বোর্ডের নির্দেশে ১৫০টি পুজো স্পেশাল ট্রেন, অর্থাৎ মোট ২,০২২টি ট্রিপ ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চালানোর কথা জানানো হয়েছিল।

নয়া দিল্লি: উৎসবের মরশুমে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে বিশেষ ট্রেন চালাচ্ছে ভারতীয় রেল (Indian Railway)। দুর্গাপুজোর পর দীপাবলি ও ছটপুজো উপলক্ষে একাধিক স্পেশাল (Special Train) ট্রেন চালানোর ঘোষণা করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই ট্রেনগুলির বিষয়ে নিয়মিত তথ্য দিচ্ছে রেল। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় কে? কোথা থেকেই বা আসে অতিরিক্ত কামরা?
স্পেশ্যাল ট্রেন
২০২৬ সালের ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত রেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট ৮,৪৫৪টি স্পেশাল ট্রেনের ট্রিপের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্যভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিহারের জন্য ২,০৫৭টি, উত্তরপ্রদেশের জন্য ১,০৫৬টি, দিল্লির জন্য ৯৭৫টি, মহারাষ্ট্রের জন্য ৮৩৬টি এবং পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৪৬৪টি ট্রিপের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এখানে ট্রিপ এবং ট্রেনের সংখ্যার মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরি।
উত্তর-মধ্য রেলের ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, ১,০৫৩টি ট্রিপ মানেই ১,০৫৩টি আলাদা ট্রেন নয়। বরং ৪৩ জোড়া ট্রেন বিভিন্ন নির্দিষ্ট দিনে এবং বিভিন্ন বার চলবে। গত বছরও রেলের তরফে ১২,০১১টি স্পেশাল ট্রেনের ট্রিপের কথা জানানো হয়েছিল। তার আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ৭,৭২৪।
স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় কে?
এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দুটি স্তর রয়েছে। রেল বোর্ড মোট কতগুলি স্পেশাল ট্রেন চলবে এবং কতদিন চলবে, তার অনুমোদন দেয়। অন্যদিকে, জোনাল রেলওয়ে ট্রেনের সময়সূচি এবং কোন কোন দিন ট্রেন চলবে, তা নির্ধারণ করে। চলতি বছরও ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ রেল বোর্ডের নির্দেশে ১৫০টি পুজো স্পেশাল ট্রেন, অর্থাৎ মোট ২,০২২টি ট্রিপ ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চালানোর কথা জানানো হয়েছিল।
সংসদে ২০০৬ সালে রেল মন্ত্রকের দেওয়া একটি লিখিত জবাব অনুযায়ী, যাত্রীদের যাতায়াতের ধরন, ট্রেন চালানোর বাস্তব পরিস্থিতি এবং প্রয়োজনীয় রেলসম্পদের প্রাপ্যতা বিবেচনা করেই স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যাত্রীসংখ্যার উপর নিয়মিত নজর রাখা হয়। ওই জবাবে আরও জানানো হয়েছিল, কিছু এলাকায় প্রত্যাশার তুলনায় যাত্রী কম হওয়ায় পরিকল্পিত স্পেশাল ট্রেনের ট্রিপ বাতিলও করা হয়েছিল।
কোনও স্পেশাল ট্রেন বাতিল হলে সেই ট্রেনের রেক এবং কর্মীদের অন্য পরিষেবায় কাজে লাগানো হয়। ফলে রেলের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে না। দীপাবলির সময় রেলমন্ত্রী নিজেও রেল বোর্ডের ওয়ার রুমে গিয়ে যাত্রীদের যাতায়াতের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।
কোথা থেকে আসে স্পেশাল ট্রেনের অতিরিক্ত কামরা?
উৎসবের মরশুমে স্পেশাল ট্রেন চালানোর জন্য রেলের কাছে আলাদা করে নতুন রেক থাকে না। বিভিন্ন উপায়ে প্রয়োজনীয় রেক এবং কামরার ব্যবস্থা করা হয়।
প্রথমত, আগে থেকে সংরক্ষিত রেক ব্যবহার করা হয়। ২০২৫ সালের কুম্ভমেলার প্রস্তুতি সংক্রান্ত রেল বোর্ডের একটি নির্দেশিকায় জোনাল রেলওয়েগুলিকে আস্থা স্পেশাল, নির্বাচন এবং গ্রীষ্মকালীন স্পেশাল ট্রেনে ব্যবহৃত রেক সংরক্ষণ করে রাখতে বলা হয়েছিল। পাশাপাশি, আইসিএফ (ICF)-এর পরিবর্তে এলএইচবি (LHB) কোচ চালু হওয়ায় যে নন-এসি কামরাগুলি পরিষেবা থেকে সরানো হয়েছিল, সেগুলিও সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে কোনও কামরার নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণের সময় পেরিয়ে গিয়েছে কি না, সেদিকেও নজর রাখতে বলা হয়েছিল। এই নির্দেশিকা মূলত কুম্ভমেলা স্পেশাল ট্রেনের জন্য হলেও উৎসবের মরশুমে স্পেশাল ট্রেন চালানোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
দ্বিতীয়ত, একই রেক একাধিকবার ব্যবহার করা হয়। ২০১৭ সালে এক রেল আধিকারিক জানিয়েছিলেন, প্রায় ৪,০০০টি স্পেশাল ট্রিপ চালানোর জন্য অতিরিক্ত প্রায় ৫৫টি রেক ব্যবহার করা হয়েছিল। অর্থাৎ, একটি রেক একবার যাতায়াত করার পর ফিরে এসে আবার পরবর্তী ট্রিপে ব্যবহার করা হয়।
তৃতীয়ত, চলতি ট্রেনগুলিতেও অতিরিক্ত কামরা জুড়ে দেওয়া হয়। এক আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, স্পেশাল ট্রেন চালানোর পাশাপাশি যাত্রীদের চাহিদা এবং কামরার প্রাপ্যতা অনুযায়ী নিয়মিত ট্রেনগুলিতেও অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা হচ্ছে। ২০২৪ সালে রেলমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ১০৮টি ট্রেনে অতিরিক্ত জেনারেল কামরা যুক্ত করা হয়েছিল। পাশাপাশি, ১২,৫০০টি অতিরিক্ত কামরার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
