Semiconductor Industry: ২০৩৫ অর্থবর্ষের মধ্যে ছাড়াবে ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, কীভাবে সেমিকন্ডাক্টর শক্তি হয়ে উঠছে ভারত?
India Semiconductor Industry: ভারতের ক্ষেত্রে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর সক্ষমতা তৈরি শুধুমাত্র একটি শিল্পক্ষেত্রের সুযোগ নয়। আমদানির উপর নির্ভরতা কমানো, জাতীয় নিরাপত্তা শক্তিশালী করা এবং উচ্চ-মূল্যের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে দেশীয় সক্ষমতা প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতা বাড়াতে এবং কৌশলগত ক্ষেত্রগুলিতে বিভিন্ন ধরনের দুর্বলতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
নয়া দিল্লি: সেমিকন্ডাক্টর শক্তি হয়ে উঠছে ভারত। ডিজাইন, উৎপাদন, প্যাকেজিং, উপকরণ এবং দক্ষ মানবসম্পদের ক্ষেত্রে ক্রমশ বাড়ছে ভারতের সক্ষমতা। উল্লেখ্য, আজ থেকে শুরু হয়েছে সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৬। উদ্বোধন করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখান থেকে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের উপর জোর দেন তিনি। সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে এক লক্ষ পড়ুয়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়ারও ঘোষণা করেন।
সেমিকন্ডাক্টর কেন?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), টেলিযোগাযোগ, প্রতিরক্ষা এবং অত্যাধুনিক উৎপাদন শিল্পের অন্যতম চালিকাশক্তি হল এই সেমিকন্ডাক্টর। অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও সেমিকন্ডাক্টরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ভারতে সেমিকন্ডাক্টরের চাহিদা ২০৩০ অর্থবর্ষের মধ্যে ১১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০৩৫ অর্থবর্ষের মধ্যে ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
সেমিকন্ডাক্টর অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি কৌশলগত সম্পদ হিসেবে উঠে এসেছে। বর্তমানে তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চিন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশ্বে মোট চিপ উৎপাদনের ৬০ শতাংশেরও বেশি এবং অত্যাধুনিক চিপ উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশই হয় তাইওয়ানে।
ভারতের ক্ষেত্রে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর সক্ষমতা তৈরি শুধুমাত্র একটি শিল্পক্ষেত্রের সুযোগ নয়। আমদানির উপর নির্ভরতা কমানো, জাতীয় নিরাপত্তা শক্তিশালী করা এবং উচ্চ-মূল্যের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে দেশীয় সক্ষমতা প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতা বাড়াতে এবং কৌশলগত ক্ষেত্রগুলিতে বিভিন্ন ধরনের দুর্বলতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
সেমিকন
সেমিকন ১.০ : ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ৭৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের অনুমোদন পেয়েছিল। দেশে নিজস্ব সেমিকন্ডাক্টর এবং ডিসপ্লে উৎপাদনের একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই ছিল এর মূল লক্ষ্য। এই কর্মসূচির আওতায় সেমিকন্ডাক্টর ফ্যাব এবং ডিসপ্লে ফ্যাব স্থাপনের জন্য পৃথক প্রকল্প চালু করা হয়। পাশাপাশি কম্পাউন্ড সেমিকন্ডাক্টর, সিলিকন ফোটোনিক্স, সেন্সর তৈরির জন্যও প্রকল্প চালু করা হয়।
সেমিকন ২.০ : ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের অনুমোদন পেয়েছে। এই প্রকল্পে ছ’টি প্রধান ক্ষেত্রে জোর দেওয়া হয়েছে। ডিজাইন, যন্ত্রপাতি ও উপকরণ, নতুন ফ্যাব ইউনিট, উন্নত প্যাকেজিং, গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি।
সেমিকন্ডাক্টরে দ্রুত অগ্রগতি
খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভারতের সেমিকন্ডাক্টর যাত্রায় দ্রুত অগ্রগতি হয়েছে। ২০২১ সালে দেশে কোনও বাণিজ্যিক চিপ উৎপাদন কেন্দ্র ছিল না। ২০২৬ সালের মধ্যে ১২টি ইউনিট অনুমোদন পেয়েছে এবং তার মধ্যে পাঁচটি ইউনিটে উৎপাদনও শুরু হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে দেশের শত শত কলেজের পড়ুয়ারা চিপ ডিজাইনের কাজ করছেন।
সেমিকন ২.০ এই যাত্রার স্বাভাবিক পরবর্তী অধ্যায়। একেবারে নতুন করে শুরু করার পরিবর্তে ইতিমধ্যেই গড়ে ওঠা একটি কার্যকর ইকোসিস্টেমকে আরও পূর্ণাঙ্গ করে তোলাই এর লক্ষ্য। ফ্যাব এবং প্যাকেজিংয়ের পাশাপাশি এবার যন্ত্রপাতি, উপকরণ, ডিজাইন, গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদকেও-এর আওতায় আনা হয়েছে।
তবে সামনের পথ যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের। চিপ উৎপাদন বিশ্বের সবচেয়ে জটিল শিল্পগুলির মধ্যে অন্যতম। এই ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য ধৈর্য, নিখুঁত প্রযুক্তি এবং ধারাবাহিক নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন।
