
নয়া দিল্লি: ভাঙা দল জুড়ছে আবার? কংগ্রেসে মিলেমিশে যাবে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)? এই জল্পনা চলছে কয়েকদিন ধরে। ইতিমধ্যেই সেই জল্পনা উড়িয়েও দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা কেসি বেণুগোপাল (KC Venugopal)। তবে যা রটে, তার কিছু তো ঘটে। রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, শুধু তৃণমূল কংগ্রেস নয়, শরদ পওয়ারের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (NCP-SP)-ও ফিরে আসতে পারে কংগ্রেসে (Congress)।
বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল জানান যে তৃণমূল কংগ্রেসের তাদের দলের সঙ্গে এক হয়ে যাওয়ার জল্পনা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এদিকে, তারপরই মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস নেতা নানা পাটোলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে কংগ্রেসের একত্রীকরণ বা মার্জার নিয়ে।
কংগ্রেস নেতা নানা পাটোলে বলেন, “সম-মনস্ক দলগুলি কংগ্রেসের সঙ্গে এক হয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। শরদ পওয়ার ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনস্থির করছেন”। যেখানে শোনা যাচ্ছে যে কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাওয়া নয়, বরং রাজ্যেও কংগ্রেস এবং তৃণমূল জোট বাঁধবে, সেখানেই নানা পাটোলে ঠিক উল্টো কথাটাই বলছেন। তিনি জোর দিয়ে বলছেন যে জোট নয়, এক হয়ে যাওয়ার কথা হচ্ছে।
কংগ্রেস নেতা দাবি করেন যে শরদ পওয়ারের এনসিপি-র কংগ্রেসের সঙ্গে এক হয়ে যাওয়ার প্রস্তাব ইতিমধ্যেই দিয়েছেন শরদ পওয়ার। এই নিয়ে আলোচনাও চলছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এনসিপি থেকে প্রস্তাব এসেছে, পওয়ার সাহেব এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন আগেই, কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা পিছিয়ে যায়। তবে আমার মনে হচ্ছে, বর্তমানে দেশের রাজনীতিতে যা হচ্ছে… বড় মাপে ভোট বিভাজন রুখতে সমস্ত ধর্ম নিরপেক্ষ, সম-মনস্ক দলগুলির একজোট হওয়া উচিত। জাতীয় স্তরে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস হোক বা পওয়ার সাহেব, সকলেই কংগ্রেসের সঙ্গে এক হওয়ায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন।”
কয়েকদিন আগে শিবসেনা(ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউতের গলাতেও একই সুর শোনা গিয়েছিল। তিনিও তখন বলেছিলেন যে কংগ্রেস ভেঙে যে দলগুলি তৈরি হয়েছে, তাদের এক হয়ে যাওয়া। শরদ পওয়ারের এই উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, “কংগ্রেসকে শক্তিশালী হতে হবে। ছোট দলগুলির নেতৃত্বদের, যারা কংগ্রেস থেকেই উঠে এসেছেন, তাদের বর্তমান পরিস্থিতি বুঝতে হবে।”
রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা অশোক গেহলটও সঞ্জয় রাউতের মন্তব্যকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেছেন, “সঞ্জয় রাউত যা বলেছেন, তার দাম আছে। সময় এসে গিয়েছে, কংগ্রেস ভেঙে যে সমস্ত দল আঞ্চলিক পার্টিতে পরিণত হয়েছে, তাদের উচিত কংগ্রেসে ফের যোগ দেওয়া এবং রাহুল গান্ধীকে নিজেদের নেতা হিসাবে গ্রহণ করা।”
তিনি আরও বলেন, “দেশে এই বার্তা পৌঁছনো উচিত যে ইন্ডিয়া জোটের নেতা রাহুল গান্ধী। মানুষের কাছে এই বার্তা স্পষ্ট থাকা উচিত, তবেই তারা আমাদের সফল করবে। তারা দেখছেন যে একদিকে নরেন্দ্র মোদীজি রয়েছেন, আরেকদিকে রাহুল গান্ধীজি রয়েছেন। সমস্ত রাজনৈতিক দলের উচিত রাহুল গান্ধীকে নিজের নেতা হিসাবে গ্রহণ করা। তাহলেই দেশের ভোটিং প্যাটার্ন বদলে যাবে।”
সরাসরি এই বিষয়ে শরদ পওয়ারের প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, তাঁর কন্যা তথা এনসিপি-এসপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে এটিকে ‘ভালো প্রস্তাব’ বলেই উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন যে সময়ই বলবে আগামিদিনে কী হবে।
প্রসঙ্গত, শরদ পওয়ার ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়- দুইজনই কংগ্রেস থেকে উঠে এসেছিলেন এবং নিজেদের দল তৈরি করেছেন। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেন। শরদ পওয়ার ১৯৯৯ সালে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি তৈরি করেন। ২০২৩ সালে তাঁর ভাইপো,অজিত পওয়ার দলের অন্দরে বিদ্রোহ করে বেরিয়ে যান এবং বিজেপি-শিবসেনার জোটে যোগ দেন। এনসিপি-র নাম ও প্রতীকও পেয়ে যান অজিত পওয়ার সংখ্য়াগরিষ্ঠতার বলে।
বর্তমানে ঠিক একই পথে এগোচ্ছে তৃণমূলও। রাজ্য বিধানসভায় একদিকে ঋতব্রত শিবির দাবি করছে, তাদের সঙ্গে ৬৪ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। অন্য়দিকে, লোকসভাতে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ১৯ জন সাংসদ আলাদা ফ্রন্ট গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বরাইক ও কোয়েল মল্লিক। তবে কি দলের ভাঙন রুখতে তৃণমূল ও এনসিপি এক হয়ে অখণ্ড কংগ্রেস তৈরি হবে? তা বলবে সময়ই।