Karnataka SIR: কর্নাটকে SIR-র পর প্রায় ১ কোটি ভোটারের নাম বাদ, কারণ কী?
Nearly 1 Crore Voters Removed in Karnataka SIR: গত ১৬ জুন এসআইআর শুরুর আগে কর্নাটকের মোট ভোটার ছিল ৫,৫৪,৩২,৩১৪। গত ২৪ অগস্ট খসড়া তালিকা প্রকাশের পর তা কমে হয় ৪,৪৬,৩৫,৯৭৫। আর গতকাল চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, মোট ভোটার ৪,৫৪,৫৫,৬৮৯। অর্থাৎ এসআইআর শুরুর আগে এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর ভোটার কমেছে ৯৯,৭৬,৬২৫।

বেঙ্গালুরু: বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-র পর কর্নাটকের ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১ কোটি নাম বাদ পড়েছে। এর ফলে ভোটার যাচাই, একই ব্যক্তির একাধিকবার নাম থাকা এবং প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ভোটারের সংখ্যা কমেছে মোট ৯৯,৭৬,৬২৫। অর্থাৎ, এই প্রক্রিয়া শুরুর আগে রাজ্যের মোট ভোটারের প্রায় ১৮ শতাংশ কমে গিয়েছে।
এই পরিসংখ্যানকে কেন্দ্র করে SIR-র উদ্দেশ্য ও প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের পক্ষে একটি যুক্তি হল, প্রায় ১ কোটি নাম বাদ পড়া প্রমাণ করে যে কর্নাটকের আগের ভোটার তালিকায় বিপুল সংখ্যক ভুয়ো নাম ছিল। এই প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে রাজ্য সরকারের নির্বাচনী প্রশাসন কাজ করেছে। তবে এত বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ায় আরও একটি প্রশ্ন উঠছে—বাদ পড়া সব নামই কি সত্যিই অবৈধ ছিল, নাকি যাচাইয়ের সময় যোগ্য ভোটারদের নামও বাদ গিয়েছে?
কর্নাটকের SIR: পরিসংখ্যানে কী দেখা যাচ্ছে?
২০২৬ সালের ১৬ জুনের ভোটার তালিকায় কর্নাটকে সাধারণ ভোটারের সংখ্যা ছিল ৫ কোটি ৫৪ লক্ষ। ২৭ অক্টোবর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সময় সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় প্রায় ৪.৫৪ কোটিতে। গত ১৬ জুন এসআইআর শুরুর আগে কর্নাটকের মোট ভোটার ছিল ৫,৫৪,৩২,৩১৪। গত ২৪ অগস্ট খসড়া তালিকা প্রকাশের পর তা কমে হয় ৪,৪৬,৩৫,৯৭৫। আর গতকাল চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, মোট ভোটার ৪,৫৪,৫৫,৬৮৯। অর্থাৎ এসআইআর শুরুর আগে এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর ভোটার কমেছে ৯৯,৭৬,৬২৫।
চূড়ান্ত তালিকায় সাধারণ ভোটারদের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে। এর সঙ্গে ৪৪,৩২২ জন সার্ভিস ভোটারকে যুক্ত করলে কর্নাটকে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪,৫৫,০০,০১১। পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, ভোটার তালিকায় উল্লেখযোগ্য হ্রাস ঘটেছে। তবে শুধু এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে প্রমাণিত হয় না যে বাদ পড়া প্রতিটি নামই ভুয়ো ছিল।
কেন এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ল?
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক যাচাইয়ের সময় ১.০৮ কোটিরও বেশি ভোটার এনুমারেশন ফর্ম জমা দেননি।
কয়েকটি বিভাগে এই নামগুলি চিহ্নিত করা হয়েছিল। সেগুলি হল:
- ৬৫.৪৫ লক্ষ ভোটার: স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে গিয়েছেন।
- ১৯ লক্ষ ভোটার: অনুপস্থিত বলে নথিভুক্ত।
- ১৬.৩৯ লক্ষ ভোটার: মৃত বলে চিহ্নিত।
- ৭.০৯ লক্ষ নাম: একাধিকবার নথিভুক্ত বা ডুপ্লিকেট এন্ট্রি হিসেবে চিহ্নিত।
এই শ্রেণিবিভাগ থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তবে কোনও ভোটার অনুপস্থিত থাকলে বা অন্যত্র চলে গেলে, উপযুক্ত নিবন্ধিত ঠিকানায় তাঁর ভোট দেওয়ার যোগ্যতা থাকতে পারে। পরবর্তী পর্যায়ে ভোটার তালিকায় আরও ১০.০৮ লক্ষ নাম যুক্ত করা হয়েছে।
কর্নাটকের SIR-কে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক কী?
SIR প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। দলের আশঙ্কা, বিশেষ করে দরিদ্র ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়লে তাঁদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ হতে পারে। গত ১ অক্টোবর কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার এবং মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের বাইরে বিক্ষোভ দেখান। শিবকুমারের অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরা বিপুল সংখ্যক আগে থেকে ছাপানো ফর্ম ৭ জমা দিয়ে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করছেন।
অন্যদিকে, বিজেপি ও জেডি(এস) এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ভোটার তালিকা নিয়ে আপত্তি জানানোর অধিকারকে সমর্থন করে তারা। পাশাপাশি, কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য সরকার নির্বাচনী সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেছে এই দুই দল। এরপর কর্নাটকের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ভি অনবুকুমার নির্দেশ দেন, ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে আধিকারিকদের আইনি পদক্ষেপ করতে হবে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরও তিনি দাবি করেন, স্বচ্ছতার সঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, শুধুমাত্র বিপুল সংখ্যক ফর্ম ৭ জমা পড়ার ভিত্তিতে কোনও ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়নি।
প্রায় ৯৯ লক্ষ নাম বাদ পড়া কি নির্বাচনী জালিয়াতির প্রমাণ?
পরিসংখ্যান থেকে কর্নাটকের ভোটার তালিকায় ব্যাপক হ্রাসের বিষয়টি স্পষ্ট। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে প্রায় ১ কোটি ভুয়ো ভোটার ছিল, কিংবা বাদ পড়া প্রতিটি নামই অনিয়মের মাধ্যমে সরানো হয়েছে। এই বিতর্ক বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বেঙ্গালুরু আরবান এলাকায়। সেখানে ভোটার তালিকায় নামের সংখ্যা ৪০ শতাংশেরও বেশি কমেছে বলে জানা গিয়েছে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর জানিয়েছে, তালিকায় নাম না থাকা যোগ্য বাসিন্দারা এখনও ফর্ম ৬ জমা দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করতে পারবেন।
