
দেশ: পরপর ৪ দিনে চার জন খুন হলেন কাশ্মীরে (Kashmir)। কাশ্মীরি পণ্ডিত জনৈক মাখনলাল বিন্দ্রোকে তাঁর ফার্মেসির মধ্যেই এদিন গুলি করে হত্যা করে পালায় জঙ্গিরা। মঙ্গলবার এমনটাই জানিয়েছে শ্রীনগর পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, শ্রীনগরে বিন্দ্রো মেডিকেটের কর্ণধার মাখনলাল বিন্দ্রোকে শ্রীনগরের ইকবাল পার্কে তাঁর ফার্মেসির মধ্যে গুলি করে জঙ্গিরা। তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এখন ওই এলাকাটি ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং সন্ত্রাসবাদীদের ধরার জন্য অনুসন্ধান চলছে বলে জানিয়েছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ।
কিন্তু ৬৮ বছরের ব্যবসায়ী বিন্দ্রোকে খুনের কারণ সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। জানা গিয়েছে, নিজের ফার্মেসি-তে ওষুধপত্র সরবরাহের কাজ করছিলেন ওই কাশ্মীরি পণ্ডিত। সে সময় হঠাৎই তাঁর দোকানে ঢুকে পড়ে আততায়ীরা। তার পর তাঁকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে একের পর এক গুলি করা হয় বলে খবর।
বিন্দ্রো কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মধ্যে এমন একজন যিনি নয়ের দশকে যখন উপত্যকা থেকে তাঁদের সম্প্রদায়ের মানুষরা উঠে যাচ্ছিলেন, তিনি নিজের বাসস্থান ছাড়েননি। স্ত্রীকে নিয়ে ওষুধের ব্যাবসা চালাতেন ওই কাশ্মীরি পণ্ডিত।
কাশ্মীরি পণ্ডিতের হত্যায় তীব্র প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে রাজনৈতিক মহল থেকে। পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা তথা জম্মু কাশ্মীরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি (Mehbooba Mufti) বলেন, উপত্যকায় অস্থির সময়ের মধ্যেও মাখনলাল বিন্দ্রো তাঁর ভিটে ছাড়েননি। টুইটারে তিনি লেখেন, এই ক্ষতি মোকাবিলা করার মতো শক্তি পান বিন্দ্রোর পরিবারের সদস্যরা।
অন্যদিকে শ্রীনগরের হাওয়ালের মাদিন সাহেবে আরেক জঙ্গি হামলার ঘটনার খবর পাওয়া গিয়েছে। সেখানে একজন হকারকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন কাশ্মীরের আইজিপি বিজয় কুমার। লালবাজার এলাকায় ভেলপুরি বিক্রেতাকে বিনা প্ররোচনায় একদল বন্দুকবাজ গুলি ছোড়ে বলে খবর। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এখানেই শেষ নয়। মঙ্গলবার জম্মু কাশ্মীরের দুই জেলায় মোট তিনটে পৃথক ঘটনায় তিনজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে জঙ্গিদের ছোড়া গুলিতে। ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা টুইটারে লেখেন, এই জঙ্গি হামলার পরে নিন্দা এবং সমবেদনার শব্দ ফাঁপা শোনাতে শুরু করবে।
আরও পড়ুন: COVID Insurance: এবার কেন্দ্রের ৫০ লাখ টাকার করোনা বিমার আওতায় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরাও
জম্মু কাশ্মীর পুলিশ সূত্রে খবর, সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে ওই আততায়ীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে তারা। কোনও জঙ্গি সংগঠন এ পর্যন্ত এই হত্যার ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। তবে আততায়ীদের খুঁজে বের করতে তারা সার্চ অপারেশন চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে জম্মু কাশ্মীরের প্রশাসন।