
AI সামিটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।Image Credit source: ANI
নয়া দিল্লি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সম্মেলন। ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬-র উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এআই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে এসেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রঁ থেকে শুরু করে বিল গেটস, গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই, ওপেনএআই-র প্রতিষ্ঠাতা স্যাম অল্টম্যান সহ একাধিক কৃত্রিম মেধার সঙ্গে যুক্ত সংস্থার সিইও-রা।
ছয় দিনের এই সামিট শুরু হয়েছে সোমবার থেকে। আজ, বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে অনুষ্ঠানের মূল পর্ব শুরু হল। এই সম্মেলনের থিম রাখা হয়েছে “সর্বজন হিতয়, সর্বজন সুখয়”। এই নিয়ে চতুর্থবার এই আন্তর্জাতিক এআই সামিট হচ্ছে। এর আগে ২০২৩ সালে ব্রিটেনে, ২০২৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় ও ২০২৫ সালে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হয় এই সামিট। এটা বিশ্বের সবথেকে বড় এআই সামিট হতে চলেছে। ৫০০-রও বেশি গ্লোবাল এআই লিডার উপস্থিত হয়েছেন।
এ দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারত মণ্ডপমে এআই সামিটের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বলেন-
- দুই ধরনের মানুষ আছে। এক, যারা এআই-তে ভয় দেখছেন, অন্যদিকে আরেক দল এআই-তে ভাগ্য দেখে। ভারত ভয় নয়, এআই-তে ভাগ্য, ভবিষ্যত দেখে। আমাদের কাছে দক্ষতা রয়েছে। এই সামিটে তিনটি ভারতীয় কেম্পানি নিজেদের এআই মডেল ও পণ্য লঞ্চ করেছে।
- গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড তৈরিরও প্রয়োজন রয়েছে। ডিপফেক, নকল বা বিকৃত কনটেন্ট অস্থিরতা তৈরি করছে। খাবারের উপরে যেমন পুষ্টিগুণের লেবেল থাকে, তেমনই ডিজিটাল কনটেন্টেও অথেনটিসিটি লেবেল থাকা উচিত যাতে মানুষ বুঝতে পারে যে কোনটা আসল, কোনটা নকল। ওয়াটার মার্কিং ও ক্লিয়ার সোর্স স্ট্যান্ডার্ডের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। শিশুদের সুরক্ষা নিয়ে আরও সচেতন হতে হবে। এআই-ও চাইল্ড সেফ হওয়া উচিত।
- ভবিষ্যতের কাজ মানব-কেন্দ্রিক হবে। পারদর্শিতাই সবথেকে বড় সুরক্ষা। অনেক দেশ ও কোম্পানি মনে করে, এআই স্ট্রাটেজিক অ্যাসেট। তাই গোপনে তৈরি করা দরকার। তবে ভারতের ভাবনা আলাদা। আমরা মনে করি, ভাগ করে নিলেই আমাদের কোটি কোটি যুব সুরক্ষা দিতে পারবে।
- যখন এআই শুরু হয়, তখন অনেকে ভাবতেই পারতেন না যে এতে কত কর্মসংস্থান হবে। এআই-র ভবিষ্যৎ আগে থেকে লেখা নেই। আমরা কী করছি, তার উপরে নির্ভর করবে। এটা আমাদের কাছে নতুন সুযোগ। আমরা এমন একটা যুগে রয়েছি যখন মানুষ ও ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম একসঙ্গে কাজ করছে, একসঙ্গে পরিবর্তিত হচ্ছে। এআই আমাদের কাজকে আরও স্মার্ট করবে। এতে আরও বহু সংখ্যক মানুষ উচ্চ পদ পাবেন। দক্ষতা, জীবনভর শেখার সুযোগ রয়েছে।
- এআই মানব (AI MANAV) ভিশনের কথা বলেন তিনি। এম (M)- নৈতিক সিস্টেম, এ (A)-দায়িত্বশীল শাসন, এন (N)-জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা, এ(A)- দায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ভি(V)- বৈধ। এটাই সরকারের ভিশন।
- এআই-র জন্য মানুষ যাতে শুধু ডেটা পয়েন্ট বা কাঁচামাল সরবরাহকারী না হয়ে থাকেন, তার জন্য এআই-কে অন্তর্ভু্ক্ত করতে হবে। জিপিএস আমাদের রাস্তার পরামর্শ দেয়, কিন্তু কোন পথে যাব, তা নিজেদেরই নির্ধারণ করতে হয়।
- সবথেকে সফল উদাহরণ হল পরমাণু শক্তি। এআই-ও পরিবর্তনে সক্ষম ক্ষমতা। এআই-কে মেশিন কেন্দ্রিক থেকে মানব কেন্দ্রিক করাই এই সামিটের মূল লক্ষ্য।
- আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যে প্রভাব দেখছি, তা সবে শুরু। মেশিনকে ইন্টেলিজেন্ট করছে, মানুষের ক্ষমতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধি করছে। আগে প্রুযুক্তির প্রভাব দেখতে ১০ বছর অপেক্ষা করতে হত। তা এখন হয় না। আগামী প্রজন্মের হাতে এআই কী ভূমিকা পালন করবে, তা নির্ধারণ করা হচ্ছে।
- বিশ্বের ১০০-রও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা এসেছেন, সকলকে ধন্যবাদ। আজ ভারত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। এতে যুব প্রজন্মের যে অংশগ্রহণ দেখেছি, তা বলে বোঝানো যাবে না। নতুন প্রজন্ম যেভাবে এআই-কে গ্রহণ করছে, ব্যবহার করছে, তা অভূতপূর্ব। কৃষি, নিরাপত্তা থেকে শুরু করে বিশেষভাবে সক্ষমদের সাহায্যের জন্য নানা জিনিস, যা এখানে প্রকাশিত করা হয়েছে, সবই মেড ইন ইন্ডিয়া প্রোডাক্ট।