
নয়া দিল্লি: ভারতের মুকুটে জুড়ল সাফল্যের আরও এক পালক। দেখতে দেখতেই ১৫০ কোটির টিকাকরণের (150 Crore Vaccination) মাইলফলকও পার করে ফেলল দেশ। আর সেই শুভক্ষণেই টুইটে সমস্ত দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। গোটা দেশ যখন করোনার নতুন ঢেউয়ের মুখোমুখি, তখন টিকাকরণের এই সাফল্য নতুন করে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস জোগাবে বলেই মত প্রধানমন্ত্রীর।
২০২১ সালের জানুয়ারি মাসেই শুরু হয়েছিল দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের টিকাকরণ কর্মসূচি (COVID Vaccination)। প্রথম ধাপে করোনা টিকা পেয়েছিলেন স্বাস্থ্যকর্মী (Health Workers) ও প্রথম সারির যোদ্ধারা (Frontline Workers)। দ্বিতীয় ধাপে ষাটোর্ধ্ব ও ৪৫ উর্ধ্ব কো-মর্ডিবিটিযুক্ত ব্যক্তিদের টিকা দেওয়া হয়। এরপরই শুরু হয় ১৮ উর্ধ্বদের টিকাকরণ কর্মসূচি। গত অক্টোবর মাসেই টিকাকরণের ১০০ কোটির মাইলফলক স্পর্শ করে ভারত। বছর ঘুরতেই আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল দেশের টিকাকরণ কর্মসূচি।
গতকালই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য টুইট করে জানান, ১৫০ কোটি টিকাকরণের মাইলফলক পার করেছে ভারত। এরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেও টুইট করে সমস্ত দেশবাসীকে ধন্য়বাদ জানান। টুইটে তিনি লেখেন, “টিকাকরণের অবিস্মরণীয় একটি দিন আজ! ১৫০ কোটির মাইলফলক পার করার জন্য দেশের সমস্ত নাগরিককে শুভেচ্ছা। সাধারণ মানুষের প্রাণ যাতেরক্ষা পায়, তা নিশ্চিত করেছে আমাদের টিকাকরণ কর্মসূচি। একইসঙ্গে, আসুন আমরা সকলে মিলে করোনা সম্পর্কিত বিধিনিষেধ অনুসরণ করে চলি।”
করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যেভাবে নিরন্তর পরিশ্রম করে চলেছেন, তাকে বারংবার সেলাম জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। শুক্রবারও টিকাকরণের এই নতুন উচ্চতায় পৌঁছনোর জন্য় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরই ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। টুইটে তিনি লেখেন, “যারা আমাদের টিকাকরণ কর্মসূচিকে সফল করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন, তাদের অনেক ধন্যবাদ। আমরা দেশের চিকিৎসক, বিজ্ঞানী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা দেশবাসীকে করোনা টিকা দিচ্ছেন। আমি সকলকে অনুরোধ করছি করোনা টিকা নেওয়ার জন্য। আসুন সবাই মিলে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করি।”
পথ খুব একটা সহজ ছিল না। একের পর এক করোনার ঢেউয়ের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে দেশকে। তার মাঝেও টিকা প্রস্তুতির কর্মযজ্ঞ কিন্তু থেমে থাকেনি। গত বছরের জুন-জুলাই মাস, যখন গোটা বিশ্ব করোনার সঙ্গে পুরোদমে লড়াই করছিল, সেইসময়ই ভারতে করোনা টিকাকরণের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বছর শেষের আগেই হাতে চলে আসে দুটি করোনার টিকা, কোভ্যাক্সিন ও কোভিশিল্ড।
চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি থেকে দেশে শুরু হয় করোনার গণটিকাকরণ কর্মসূচি। ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই দেশের ১ কোটি মানুষ করোনার টিকা পান। ৫ অগস্ট ৫০ কোটির গণ্ডি পার করে দেশ। যেখানে দেশের লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক পূরণ করতেই ৬ মাস সময় লেগে গিয়েছিল, সেখানেই প্রধানমন্ত্রী স্বপ্ন ও কেন্দ্রের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় টিকাকরণ কর্মসূচি চালান স্বাস্থ্যকর্মীরা। টিকা নিয়ে দ্বিধা কাটিয়ে এগিয়ে আসেন দেশবাসীও। গত বছরের ২১ অক্টোবর পূরণ হয় দেশের ১০০ কোটির টিকাকরণের মাইলফলক।