PM Narendra Modi: ‘রাম শুধু বর্তমান নয়, অনন্তকাল’, প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে বললেন মোদী
Ram Temple: রাম মন্দির নির্মাণ নিয়ে একসময়ে যাঁরা বিরোধিতা করেছিলেন, নাম না করে সেই বিরোধীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, "অনেকে বলেছিল, রাম মন্দির তৈরি হলে আগুন লেগে যাবে। তারা ভারতের পবিত্রতা বুঝতে পারেনি। রাম মন্দির ভারতীয় সমাজের শান্তি, ধৈর্য, সদ্ভাবনা ও সমন্বয়ের প্রতীক। এই মন্দির আগুন নয়, উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতীক।"

অযোধ্যা: ২২ জানুয়ারির সূর্য নতুন কিরণ নিয়ে এসেছে। সোমবার রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তৃতায় এমনই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, “আজ দীর্ঘ প্রতীক্ষার শেষ হল। হাজার বছর পরেও লোকে আজকের এই মুহূর্তের চর্চা করবে। এটা সামান্য সময় নয়, এক অলৌকিক মুহূর্তের সাক্ষী হল দেশ। নতুন ইতিহাসের সূচনা করল দেশ।”
এদিন রাম মন্দিরের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশে নতুন কালচক্র শুরু হল বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর কথায়, “অতীত থেকে ভাল সময়ের দিকে যাচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ। সঠিক দিশায় যাচ্ছে কালচক্র।” এপ্রসঙ্গে শ্রীরামচন্দ্রের ১৪ বছরের বনবাসের উদাহরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “শ্রীরাম ১৪ বছরের জন্য বনবাসে গিয়েছিলেন। সেই সময়ের মধ্যে সেই বিচ্ছেদ অসহনীয় ছিল। আর এই যুগে অযোধ্যা ও দেশবাসী শত শত বছর ধরে বিচ্ছেদ সহ্য করেছে। সংবিধান আসার পরেও রামের অস্তিত্ব নিয়ে আইনি লড়াই চলেছে।” অবশেষে বিচার ব্যবস্থার ‘সুবিচারের’ জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। এদিন বক্তৃতা দিতে গিয়ে আবেগে গলা বুজে আসে প্রধানমন্ত্রীর। আবেগপ্রবণ মোদী রাম মন্দির নিয়ে দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “দীর্ঘদিনের বিচ্ছেদের কারণে যে কষ্ট এসেছিল আজ তার অবসান হল। আবার যেভাবে কালচক্র বদলেছে, এবার শুভ দিশা আসছে। রামের মন্দিরও বিধি মেনে তৈরি হয়েছে।” শ্রীরাম থেকে শুরু করে জানকী, রামভক্ত হনুমান, লক্ষ্ণণ, ভরত, শত্রুঘ্ন-সহ সমগ্র অযোধ্যাবাসীকে প্রণাম জানান প্রধানমন্ত্রী মোদী।
এদিন অযোধ্যা-সহ দেশজুড়ে অকাল দীপাবলি পালিত হবে। সেকথার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “আজ এই উৎসব পরম্পরার উৎসব। আজ অযোধ্যায় কেবল রামের প্রতিষ্ঠা নয়, ভারতের সংস্কৃতির প্রতি বিশ্বাস, সর্বোচ্চ আদর্শের প্রতিষ্ঠা হল। এই রাম মন্দির কেবল দেবমন্দির নয়, ভারতের দর্শন, সংস্কৃতি, দিক-দর্শনের মন্দির, রাষ্ট্রচেতনার মন্দির।” রাম ভারতের আস্থা, আধার, বিচার, বিধান, চিন্তা, চেতনা ও বিশ্বাত্মা বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। গত ১১ দিন ধরে তিনি দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বিভিন্ন ভাষায় রামায়ণ শুনেছেন বলেও জানান মোদী।
রাম মন্দির নির্মাণ নিয়ে একসময়ে যাঁরা বিরোধিতা করেছিলেন, নাম না করে সেই বিরোধীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “অনেকে বলেছিল, রাম মন্দির তৈরি হলে আগুন লেগে যাবে। তারা ভারতের পবিত্রতা বুঝতে পারেনি। রাম মন্দির ভারতীয় সমাজের শান্তি, ধৈর্য, সদ্ভাবনা ও সমন্বয়ের প্রতীক। এই মন্দির আগুন নয়, উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতীক।” রাম সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “রাম আগুন নয়, উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতীক। রাম বিবাদ নয়, সমাধান। রাম শুধু আমাদের নয়, সবার। রাম শুধু বর্তমান নয়, অনন্তকাল।” আজ সাগর থেকে সরযূ শুধুই রামনাম হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিন রামভক্ত থেকে অযোধ্যাবাসীর কাছে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন, “রামের মন্দির তো হয়ে গেল, দীর্ঘ প্রতীক্ষার তো অবাসন হল। এবার কী হবে?” এই প্রশ্নের জবাব নিজেই দিয়ে নমো জানান, সময়ের চক্র বদলাচ্ছে। আজ থেকে হাজার বছর পরের প্রজন্ম আমাদের জাতি গঠনের প্রচেষ্টাকে স্মরণ করবে। এপ্রসঙ্গে পবনপুত্র হনুমানের শ্রদ্ধা, ভক্তি ও জটায়ুর কর্তব্যপরায়ণতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “এটাই সময়। নিজের অন্তরাত্মা, চেতনাকে বিস্তার করতে হবে। গোটা দেশে রামরাষ্ট্র হতে হবে। হনুমানজির ভক্তি, শ্রদ্ধা, সেবা, সমর্পণ- এটা দেশের বাইরে খুঁজতে হবে না। নিষ্ঠা, কর্তব্য, পরম্পরার অর্ঘ্য রামকে দিতে হবে।”
আজ ভারত যুবশক্তিতে ভরপুর। সেকথা উল্লেখ করে চাঁদ, সূর্য, মহাকাশ থেকে সাগরে ভারতের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। যুব সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এই মন্দির শিক্ষা দেয় যে লক্ষ্য সত্য হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হলে, লক্ষ্য যদি সম্মিলিত ও সংগঠিত শক্তির হয়, তাহলে সেই লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব নয়।” তবে এটা কেবল ‘বিজয় নয়, বিনয়ের সময়’ বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।
