Prashant Kishor: ভাঙল বিজেপির ৩১ বছরের দুর্গ, নিতিন-গড়ে ‘অভিষেক’ নতুন পিকে-র
Bakipur Assembly By-Election 2026: জয়ের পর বাঁকিপুরের ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রশান্ত কিশোর বলেন, "বিহারের উন্নয়ন, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানই হবে তাঁর অগ্রাধিকার। বিহারের মানুষ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বার্তা দিয়েছেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এমন একজনকে বেছে নেওয়া উচিত, যিনি রাজ্যের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের উন্নতি করবেন।"

পটনা: অন্যকে ভোটে জেতানোর কৌশল তৈরি করতেন তিনি। এবার নিজেই নির্বাচনে লড়ে জয় পেলেন। বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে (Bakipur By-Election 2026) বিজেপির ৩১ বছরের শক্ত ঘাঁটি দখল করে ইতিহাস গড়লেন প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor)। তাঁর হাত ধরে প্রথমবার বিধানসভায় খাতা খুলল জন সুরজ পার্টি (JSP)। একই সঙ্গে প্রথমবার বিধায়কও হলেন প্রশান্ত কিশোর। এর আগে বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন (Nitin Nabin)। সেই নিতিন গড়েই এবার বিধায়কের (MLA) ভূমিকায় অভিষেক হল প্রশান্ত কিশোরের।
কী বললেন প্রশান্ত কিশোর?
জয়ের পর বাঁকিপুরের ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রশান্ত কিশোর বলেন, “বিহারের উন্নয়ন, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানই হবে তাঁর অগ্রাধিকার। বিহারের মানুষ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বার্তা দিয়েছেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এমন একজনকে বেছে নেওয়া উচিত, যিনি রাজ্যের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের উন্নতি করবেন।” তাঁর কথায় উন্নয়নের স্বার্থে, শিক্ষার উন্নয়নের স্বার্থে মানুষ ভোট দিয়েছেন।
জন সুরজ পার্টির সদস্যদের দাবি, জ়েন-জ়ি-দের ভোটেই নির্বাচনের রাজনীতিতে সাফল্য লাভ করেছেন প্রশান্ত কিশোর। উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগেই নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্রদের আন্দোলন দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। বিহারেও আন্দোলনে নেমেছিলেন ছাত্র-ছাত্রীরা। ফলে বিহারের উপনির্বাচনের ফলাফলে প্রথম থেকেই জেন-জি (Gen Z) ভোটারদের মনোভাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। তাই, বাঁকিপুরের নির্বাচনের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে জোরদার আলোচনা চলছিল রাজনৈতিক মহলে। যদিও নিতিন নবীন আগেই দাবি করেছিলেন, তরুণদের সমর্থন এখনও বিজেপির সঙ্গেই রয়েছে।
২০২৫-এর নির্বাচনের ফলাফল
২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে নিতিন নবীন ৯৮,২৯৯টি ভোট পেয়ে আরজেডি প্রার্থীকে ৫১,৯৩৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন। ২০২৬ সালের উপনির্বাচনে সম্পূর্ণ উল্টো ছবি। এদিন, গণনার প্রথম থেকেই এগিয়ে ছিলেন প্রশান্ত কিশোর। ৩২ রাউন্ডের গণনা শেষ হওয়ার পর জয় নিশ্চিত হয় তাঁর। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রশান্ত কিশোর মোট ৬৪,১৫১ ভোট পেয়েছেন। বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমারকে ১৯,৩২৪ ভোটে পরাজিত করেছেন। নীরজ কুমারের ঝুলিতে এসেছে ৪৪,৮২৭ ভোট।
অন্যদিকে, আরজেডি প্রার্থী রেখা কুমারী ১৪,২৭৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। তিনি প্রশান্ত কিশোরের থেকে ৪৯,৮৭৮ ভোটে পিছিয়ে রয়েছেন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ বাঁকিপুর?
পটনা সাহিব লোকসভা কেন্দ্রের বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। ১৯৯৫ সাল থেকে এই আসন বিজেপির দখলে ছিল। এখান থেকেই একাধিকবার বিধায়ক নির্বাচিত হন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। বাঁকিপুর তাঁর গড় ছিল বলা যেতে পারে। তবে, রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত আসনটি ছেড়ে দেন। নিতিন নবীনের ছেড়ে দেওয়া আসনেই উপনির্বাচন হয়।
বিজেপির প্রার্থী বদল, আরজেডির লড়াই
বিজেপি প্রথমে অভিষেক কুমার সিনহাকে প্রার্থী করলেও তিনি মনোনয়নের আগেই পারিবারিক কারণ দেখিয়ে সরে দাঁড়ান। এরপর যুব মোর্চার নেতা নীরজ কুমারকে প্রার্থী করে বিজেপি। অন্যদিকে, আরজেডি এই আসনে রেখা কুমারীকে প্রার্থী করেন।
জন সুরাজের প্রথম জয়
২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আত্মপ্রকাশ করলেও জন সুরাজ একটি আসনও জিততে পারেনি। তবে, ওই নির্বাচনে নিজে ভোটে লড়েননি প্রশান্ত কিশোর। এক বছর পর পটনার গুরুত্বপূর্ণ আসন বাঁকিপুরে জয় পেয়ে দলকে প্রথম নির্বাচনী সাফল্য এনে দিলেন তিনি। প্রশান্ত কিশোরকে অভিনন্দন জানিয়ে জন সুরাজের সভাপতি মনোজ ভারতী বলেন, “বাঁকিপুরের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। জন সুরাজের বার্তা এমন কোনও এলাকা ছিল না, যেখানে পৌঁছয়নি। বিহারে গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াইয়ে এটি একটি বড় জয়। বিপুল সংখ্যক সাইলেন্ট ভোটার আমাদের সমর্থন করেছেন।”
কী প্রতিক্রিয়া বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর?
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী জনগণের এই রায় মাথা পেতে নিয়েছেন। এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “গণতন্ত্রের এই মহোৎসবে বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে জনগণ জন সুরাজকে বেছে নিয়েছেন। জনগণের এই রায়কে সম্মান জানিয়ে আমি প্রশান্ত কিশোরকে তাঁর জয়ের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।”
