Supreme Court: কাউকে অশ্রাব্য গালিগালাজ কোনও অপরাধ নয়, গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের
Supreme Court on Abusive Language: ট্রায়াল কোর্ট অভিযুক্তকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৪(বি) (অশ্লীলতা), ৩২৬ (গুরুতর আঘাত) এবং ৫০৬(২) ( ভয় দেখানো) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেছিল। পরে মাদ্রাজ হাইকোর্ট এসসি/এসটি আইনের অভিযোগ থেকে তাঁকে মুক্তি দিলেও আইপিসির ধারাগুলিতে সাজা বহাল রাখে। এরপরই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন অভিযুক্ত।

নয়া দিল্লি: অশ্রাব্য গালিগালাজ বা কুরুচিকর ভাষা (Abusive Language) ব্যবহার করলেই তা আইনের চোখে অশালীন নয়। সম্প্রতি, একটি মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)। আদালত জানিয়েছে, কোনও শব্দ যতই আপত্তিকর বা অশোভন হোক না কেন, তা অপরাধ বলে গণ্য হবে না। তবে, কোনও ধরনের কুরুচিকর মন্তব্যে (Supreme Court on Abusive Language) যদি যৌন উদ্দেশ্য প্রকাশ পায়, তবে তা অশালীন বলে গণ্য করা হবে। জমি সংক্রান্ত বিবাদ মামলায় এমনই মন্তব্য করেছেন বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চ।
কোন মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের?
ঘটনাটি ২০১৭ সালের অগস্ট মাসের। তামিলনাড়ুতে কৃষিজমি নিয়ে বিবাদের জেরে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও অভিযোগকারীর মধ্যে বচসা বাঁধে। অভিযোগ, সেই সময় অভিযোগকারীকে উদ্দেশ্য করে অশ্রাব্য গালিগালাজ দেন ওই অভিযুক্ত। পরে বাড়ি থেকে একটি ধারালো অস্ত্র এনে হামলা চালানো হয় বলেও অভিযোগ। ওই হামলায় অভিযোগকারীর কপাল, বুড়ো আঙুল ও নাকে গুরুতর চোট লাগে। সিটি স্ক্যানে তাঁর নাকের হাড় ভেঙে যাওয়ার প্রমাণ মেলে।
ট্রায়াল কোর্ট অভিযুক্তকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৪(বি) (অশ্লীলতা), ৩২৬ (গুরুতর আঘাত) এবং ৫০৬(২) ( ভয় দেখানো) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেছিল। পরে মাদ্রাজ হাইকোর্ট এসসি/এসটি আইনের অভিযোগ থেকে তাঁকে মুক্তি দিলেও আইপিসির ধারাগুলিতে সাজা বহাল রাখে। এরপরই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন অভিযুক্ত।
সুপ্রিম কোর্ট কী বলল?
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, অশ্লীলতা, কুরুচিকর ভাষা প্রয়োগ ও গালিগালাজ এই তিনটি এক নয়। শুধুমাত্র গালিগালাজ বা অশোভন শব্দ ব্যবহার করলেই তা আইনের দৃষ্টিতে অশালীন অপরাধ হয় না। আদালত বলেছে, আইপিসির ২৯৪(বি) ধারায় অপরাধ প্রমাণ করতে হলে ব্যবহৃত শব্দে যৌন ইঙ্গিত থাকতে হবে। অথবা কুপ্রবৃত্তিকে উসকে দিতে পারে কিংবা অন্যদের নৈতিকভাবে বিপথে চালিত করার মতো শব্দ ব্যবহার করলে তা অপরাধের পর্যায়ে পড়বে। এছাড়া, সেই শব্দ ব্যবহার জনসমক্ষে অন্যদের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাও প্রমাণ করতে হবে। সেক্ষেত্রে, ২৯৪(বি) ধারা থেকে অভিযুক্তকে মুক্তি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
ভয় দেখানোর অভিযোগ থেকেও মুক্তি
সুপ্রিম কোর্ট অভিযুক্তকে আইপিসির ৫০৬(২) ধারার অপরাধমূলক ভয় দেখানোর অভিযোগ থেকেও মুক্তি দিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বচসা চলাকালীন হুমকির ভাষা ব্যবহার করলেই তা অপরাধমূলক ভয় দেখানো হয় না। অভিযোগকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে অভিযুক্তের উদ্দেশ্য ছিল ভয় দেখিয়ে কোনও কাজ করানো হয়েছে।
তবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করে অভিযোগকারীর নাকের হাড় ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্তের শাস্তি বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। আইপিসির ৩২৬ ধারায় দোষী প্রমাণিত হয়েছেন অভিযুক্ত। মেডিক্যাল সার্টিফিকেটে আঘাতের প্রমাণ মিলেছে। যদিও আদালত তাঁর সাজা কমিয়েছে। ৫০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে।
