National Library: ৪১ কোটি টাকায় জাতীয় গ্রন্থাগারে এবার ‘শব্দলোক’, তুলে ধরা হবে ২২ টি ভাষার বিবর্তন
National Library in Kolkata: ২০২০ সালে এই জাদুঘরের ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভারতের বহুভাষিক ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ এবং তুলে ধরার উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছে জাদুঘরটি। সেখানে দেশের ভাষা, লিপি ও সাহিত্যিক ঐতিহ্যের মৌখিক এবং লিখিত বিবর্তনের ইতিহাস তুলে ধরা হবে।

কলকাতা: ভারতের ভাষা-ঐতিহ্যের নতুন অধ্যায়। জাতীয় গ্রন্থাগারে উদ্বোধন হতে চলেছে ‘শব্দলোক’। কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারের ঐতিহাসিক বেলভেডিয়ার হাউস ভারতের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সাক্ষী হতে চলেছে। রবিবারই উদ্বোধন হতে চলেছে দেশের প্রথম ভারতীয় ভাষা বিষয়ক জাদুঘর – ‘মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ড’ বা ‘শব্দলোক’। প্রধান অতিথি হিসাবে জাদুঘরের উদ্বোধন করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সঙ্গে থাকবেন কেন্দ্রীয় সংস্কৃতিমন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত। থাকার কথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।
তুলে ধরা হবে ২২ টি ভাষার বিবর্তন
২০২০ সালে এই জাদুঘরের ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভারতের বহুভাষিক ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ এবং তুলে ধরার উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছে জাদুঘরটি। সেখানে দেশের ভাষা, লিপি ও সাহিত্যিক ঐতিহ্যের মৌখিক এবং লিখিত বিবর্তনের ইতিহাস তুলে ধরা হবে। ২২ টি ভাষার বিবর্তনকে তুলে ধরা হবে এই জাদুঘরে।
বেলভেডিয়ার হাউসের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার একটি অংশ জুড়ে গড়ে উঠেছে ‘শব্দলোক’-এর প্রথম পর্যায়। সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীনে জাতীয় গ্রন্থাগার প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এই পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন করেছে। পুরো প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৪১ কোটি টাকা হবে বলেই খবর। তার মধ্যে থাকছে জাদুঘরটির নিচতলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ, ভবনের গায়ে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো থাকবে।
নয়টি গ্যালারিতে ভাষার হাজার বছরের যাত্রাকে তুলে ধরা হবে। ‘মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ড’-এ থাকবে নয়টি গ্যালারি। যেখানে ভারতীয় ভাষার ইতিহাস, বিকাশ এবং সাংস্কৃতিক প্রভাবকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরা হবে। মৌখিক ঐতিহ্য, পাণ্ডুলিপি, মুদ্রিত বই থেকে শুরু করে ডিজিটাল পাঠ—সবকিছুর মধ্য দিয়ে ভাষাকে একটি জীবন্ত সত্তা হিসেবে তুলে ধরা হবে। ভাষাকে সমাজকে যেমন গড়ে তোলে, তেমনই সমাজের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেও বদলে যায়, সেই বিষয়টি দর্শকেরা বুঝতে পারবেন। তেমনই দাবি কর্তৃপক্ষের।
আর কী কী থাকছে?
প্রথম দুটি গ্যালারিতে মাতৃভাষা ও অন্যান্য ভাষার অভিজ্ঞতা লাভ করা যাবে। সেইসঙ্গে বিভিন্ন পারস্পরিক অংশ গ্রহণ বা ইন্টারঅ্যাকটিভ মডিউলের মাধ্যমে ভাষার জগতে প্রবেশ করার সুযোগ পাবেন দর্শকরা, দাবি করছেন সংস্কৃতি মন্ত্রকের কর্তারা। সবচেয়ে বড় গ্যালারি, যার নাম ‘ভাষা কি সময়রেখা’। সেখানে ভাষা, লিপি, এবং ভাষাগত ঐতিহ্যের ক্রমবিকাশ কিভাবে ঘটেছে, তা দেখানো হবে। অন্যান্য গ্যালারিতে দেখানো হবে, কীভাবে ভাষা ভারতের সভ্যতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
শব্দ, উচ্চারণ, পরিবেশন শিল্প, প্রতীক, শিলালিপি, চিত্রকলা, মুদ্রিত গ্রন্থ এবং নবরসের হোলোগ্রাফিক উপস্থাপনার মাধ্যমে ভাষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ককে জীবন্ত করে তোলা হবে। এছাড়াও ভারতের মুদ্রণ ইতিহাস, গ্রন্থাগার আন্দোলন। থাকবে জাতীয় গ্রন্থাগারের ইতিহাস। বিভিন্ন ভারতীয় ভাষার সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদেরও সম্মান জানানো হবে। জাদুঘরে প্রদর্শিত হবে একাধিক অমূল্য ঐতিহাসিক নিদর্শন। এর মধ্যে রয়েছে এগারোশো ও চোদ্দশো শতকের তাম্রলিপি। থাকছে ভারতীয় জাদুঘর থেকে আনা অষ্টাদশ শতকের ‘রাগিনী আসাবরী’ চিত্রকর্ম। এশিয়াটিক সোসাইটির সংগ্রহ থেকে হিতোপদেশ। ইনশা-ই-গালিব। পৃথ্বীরাজ রাসো-র পাণ্ডুলিপি। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের ডাকটিকিট ও বিরল গ্রন্থ। জাতীয় গ্রন্থাগারের সংগ্রহে থাকা সমাচার দর্পণ। অরুণোদয়, খাওয়ারনামা, তিব্বতি জাইলোগ্রাফ-সহ বহু দুর্লভ প্রকাশনা ও পাণ্ডুলিপি। এছাড়াও থাকবে হরপ্পা সভ্যতার সিলমোহরের প্রতিরূপ, প্রাচীন মুদ্রা, পাণ্ডুলিপি, মুখোশ, পুতুল, পুরনো লেটারপ্রেস ছাপাখানার যন্ত্র।
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
ন্যাশনাল কাউন্সিল অব সায়েন্স মিউজিয়ামস বা NCSM অগমেন্টেড রিয়্যালিটি বা ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি বা VR, গ্রাফিক ওয়াল, অডিও-ভিজ্যুয়ালের ব্যবহার হবে। অন্যদিকে ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ অর্গানাইজেশন ফর নেচার আর্টস অ্যান্ড হেরিটেজ বা DRONAH গ্যালারিগুলির পরিকল্পনা, নকশা এবং কিউরেশনের দায়িত্বে থাকছে। জাদুঘরের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে NCSM-ই। জাদুঘরটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পাওয়া পরে ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষ ছাড় রাখা হবে বলে খবর।
