
নয়া দিল্লি: রাজ্যের যুক্তি ধোপে টিকল না। ধমক খেয়ে ফিরতে হল সুপ্রিম কোর্ট থেকে। চিংড়িঘাটা মেট্রো লাইন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টালবাহানা চলছে। মাত্র ৩৬৬ মিটার লাইনের কাজ বাকি থাকায় সম্পূর্ণ হচ্ছে না কলকাতা মেট্রোর অরেঞ্জ লাইন। রাজ্য়ের সঙ্গে মেট্রো কর্তৃপক্ষের বারবার সংঘাত তৈরি হয়েছে এই নিয়ে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বৈঠকে বসেও কোনও লাভ হয়নি। আর এবার সেই ইস্যুতেই রাজ্যকে কার্যত ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট।
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারেনি মেট্রো। পুলিশের বিরুদ্ধে কাজ করতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কাজ করার ক্ষেত্রে বারবার বিভিন্ন যুক্তি দেখিয়েছে রাজ্য। হাইকোর্টের নির্দেশ মানার বদলে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছে রাজ্য সরকার। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবও এই ইস্যুতে মুখ খুলেছিলেন। আজ, সোমবার হাইকোর্টের রায় বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল, হাইকোর্ট যে সময়সীমা বেঁধে দেবে, তার মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে রাজ্যকে।
গড়িয়া-সল্টলেক মেট্রোর কমলা লাইন সম্প্রসারণে চিংড়িঘাটার ওই অংশের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী মে মাস পর্যন্ত সময় দেওয়ার আবেদন করেছিল রাজ্য সরকার। এদিন তা খারিজ করে দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ।
এদিন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ বলে, “আমরা প্রথমবার দেখছি, কোনও রাজ্য উন্নয়নের বিরোধিতা করছে। এই মামলা এত দূর গড়িয়েছে যে, এখন নির্বাচন বিধির আওতায় পড়ে গিয়েছে। আপনাদের কাছে উৎসব আগে না যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করা আগে? আপনারা ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে প্রথমে বৈঠক করে, তারপর এসে হাইকোর্টকে বলেছেন যে উৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তাই মেট্রো সম্প্রসারণের কাজটা করতে পারবেন না?” অবিলম্বে রাজ্যকে নিজেদের আবেদন প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত।
গত ৬ জানুয়ারির মধ্যে একটি তারিখ ঠিক করে চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। এই মর্মে কলকাতা পুলিশ এবং রাজ্যকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। হাইকোর্টের নির্দেশ মতো কাজ না করে, রাজ্যের তরফে হাইকোর্টের রায়ের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়।
সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণের পর তৃণমূল মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “মানুষের সুবিধা-অসুবিধা দেখাটা রাজ্যের কর্তব্য। সবদিক দেখে তবেই ঠিক করতে হবে।”