Supreme Court: ‘প্রধান বিচারপতির মন্তব্যকে বিকৃত করা হয়েছে’, এবার ‘ককরোচ’ বিতর্কে কেন্দ্র ও সিবিআইয়ের কাছে জবাব চাইল সুপ্রিম কোর্ট
Supreme Court Cockroach Remark: আইনজীবী রাজা চৌধুরীর অভিযোগ, ১৫ মে-র পর থেকে আদালতের কার্যবিবরণীর বিভিন্ন অংশ কেটে জোড়া দিয়ে তৈরি করা ভিডিয়ো ক্লিপের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আদালতের শুনানির সময় বিচারপতিদের দেওয়া মৌখিক পর্যবেক্ষণকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে তা মিমে পরিণত করা হচ্ছে। এরপর সেই সমস্ত ভিডিয়ো ও মিম সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে বাণিজ্যিক লাভের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নয়াদিল্লি: ‘ককরোচ’। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এই মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক বেধেছিল। তার জেরে ককরোচ জনতা পার্টি হয়। নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আন্দোলনে নামে জেন-Z। প্রধান বিচারপতি সেই মন্তব্যের পর কেটে গিয়েছে তিন মাস। এবার বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র ও সিবিআই-এর কাছে জবাব চাইল সুপ্রিম কোর্ট। অভিযোগ, ভার্চুয়াল আদালতের কার্যবিবরণীর কিছু অংশ বেছে নিয়ে কৌশলে এডিট করে ওই মন্তব্যকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি প্রধান বিচারপতি যে অর্থে মন্তব্যটি করেছিলেন, তার সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থও তুলে ধরা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে দায়ের হয়েছে জনস্বার্থ মামলা। এই জনস্বার্থ মামলাতেই এবার কেন্দ্র ও সিবিআইয়ের কাছে জবাব চাইল শীর্ষ আদালত।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি হয়। প্রায় আধ ঘণ্টার শুনানিতে আবেদনকারী তথা আইনজীবী রাজা চৌধুরী দাবি করেন, ১৫ মে-র শুনানিতে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতির মুখ থেকে ‘ককরোচ’ শব্দটি বেরিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই মন্তব্যের একটি অংশ বেছে নিয়ে এডিট করা হয় এবং বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়। তাঁর দাবি, এর ফলে বিচারব্যবস্থার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাতেও আঘাত লেগেছে।
আবেদনকারীর তরফে শীর্ষ আদালতের কাছে দাবি জানানো হয়েছে, বিচারপতিদের মৌখিক পর্যবেক্ষণ বা রূপক মন্তব্যের বাণিজ্যিক ব্যবহার, ট্রেডমার্কের অপব্যবহার, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে প্রচার কিংবা অনুমতি ছাড়া বাণিজ্যিক ব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একইসঙ্গে আবেদনকারী স্পষ্ট করেছেন, সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে ন্যায্য সমালোচনা, গণতান্ত্রিক ভিন্নমত, ব্যঙ্গ এবং বাকস্বাধীনতার অধিকার অবশ্যই বজায় রাখতে হবে।
কোন প্রসঙ্গে ‘ককরোচ’ মন্তব্য করেছিলেন প্রধান বিচারপতি?
‘সঞ্জয় দুবে বনাম দিল্লি হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল’ মামলার ১৫ মে-র শুনানির প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাজা চৌধুরী বলেন, ভুয়ো আইনজীবীদের প্রসঙ্গেই ‘ককরোচ’ মন্তব্য করেছিলেন প্রধান বিচারপতি। আদালতের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার, পেশাগত মানের অবনতি এবং এর ফলে বিচারব্যবস্থার উপর কী প্রভাব পড়ছে—এই বিষয়গুলি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার সময়ই ওই মন্তব্য করা হয়েছিল বলে দাবি আবেদনকারীর।
রাজা চৌধুরীর অভিযোগ, ১৫ মে-র পর থেকে আদালতের কার্যবিবরণীর বিভিন্ন অংশ কেটে জোড়া দিয়ে তৈরি করা ভিডিয়ো ক্লিপের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আদালতের শুনানির সময় বিচারপতিদের দেওয়া মৌখিক পর্যবেক্ষণকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে তা মিমে পরিণত করা হচ্ছে। এরপর সেই সমস্ত ভিডিয়ো ও মিম সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে বাণিজ্যিক লাভের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আবেদনকারীর আরও দাবি, আদালতের বক্তব্যের বিকৃত উপস্থাপনের মাধ্যমে বিচারব্যবস্থা ও বিচারপতিদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আস্থা নষ্ট করার একটি পরিকল্পিত চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
