Supreme Court: ‘যা ঘটেছে, শুধু ছাত্রদের পক্ষে করা সম্ভব নয়’, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের থেকেও রিপোর্ট তলব করল সুপ্রিম কোর্ট
Supreme Court on CJP Protest: মঙ্গলবারও এই মামলায় আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানায়, আন্দোলন মোকাবিলায় পুলিশের জন্য নতুন প্রোটোকল তৈরি করা প্রয়োজন। দিল্লি-সহ অন্যান্য রাজ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর পুলিশি অত্যাচারের তদন্তের জন্য 'হাই পাওয়ার' তদন্ত কমিটি গঠনেরও ইঙ্গিত দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রচলিত ধারায় এখন আর ঘটনা ঘটছে না। আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ করতে দেশব্যাপী ইউনিফর্ম তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট সবপক্ষকে সহযোগিতা করার আবেদন জানান প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।

নয়া দিল্লি: সিজেপি আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কড়া মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)। ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে (CJP Protest) পুলিশের লাঠিচার্জ মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, “যাঁরা নিরীহ মানুষের উপর অত্যাচার করেছে, আইন বিচার করবে। এই ঘটনার স্বাধীন, নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন। দায়বদ্ধতা নির্ধারণ না করা হলে তদন্ত অর্থহীন।” একইসঙ্গে, পুলিশি অত্যাচারের তদন্তের জন্য ‘হাই পাওয়ার’ তদন্ত কমিটি গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এদিকে, ছাত্র-ছাত্রীদের বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ, অত্যাচারের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের থেকে রিপোর্ট তলব করল সুপ্রিম কোর্ট। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও দিল্লি, মহারাষ্ট্র, কেরলম, বিহার, অসম, উত্তর প্রদেশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। কোনও ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না বলেও নির্দেশ দেন বিচারপতি সূর্য কান্ত।
পুলিশের ‘লাঠিচার্জ’ মামলা
ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ প্রসঙ্গে একটি মামলার শুনানি চলছে সুপ্রিম কোর্টে। গত ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে ‘সংসদ চলো’ অভিযান করেন CJP বিক্ষোভকারীরা। সেই সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। ঘটনায় তদন্তের আবেদন করা হয়। আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা এই সংক্রান্ত মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টে। সোমবারই মামলার পর্যবেক্ষণে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, ‘সংবিধানে শান্তিপূর্ণভাবে, আইন মেনে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ করার অধিকার সম্পূর্ণ নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই যতক্ষণ আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হচ্ছে, ততক্ষণ শুধু আন্দোলন বলে লাঠিচার্জ করা যায় না।’
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কড়া মন্তব্য শীর্ষ আদালতের
মঙ্গলবারও এই মামলায় আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানায়, আন্দোলন মোকাবিলায় পুলিশের জন্য নতুন প্রোটোকল তৈরি করা প্রয়োজন। দিল্লি-সহ অন্যান্য রাজ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর পুলিশি অত্যাচারের তদন্তের জন্য ‘হাই পাওয়ার’ তদন্ত কমিটি গঠনেরও ইঙ্গিত দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রচলিত ধারায় এখন আর ঘটনা ঘটছে না। আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ করতে দেশব্যাপী ইউনিফর্ম তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট সবপক্ষকে সহযোগিতা করার আবেদন জানান প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।
প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ‘গণতন্ত্রে আন্দোলন স্বাভাবিক ঘটনা।’ সূর্য কান্তের মতে, “আন্দোলন ও পুলিশি পদক্ষেপ সংক্রান্ত একটি সর্বজনীন প্রোটোকল তৈরি হয়ে গেলে, যাঁরাই অতিসক্রিয়তা বা অন্যায় করেছেন, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন এবং অত্যাচার চালিয়েছেন, তাঁদের সকলকেই আইনের আওতায় আনতে সুবিধা হবে।”
কেন্দ্রের বক্তব্য
কেন্দ্র এবং দিল্লি সরকারের হয়ে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। আদালতে বলেন, ছাত্রদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ হয়ে থাকলে কেন্দ্র বিষয়টিকে হালকাভাবে নিচ্ছে না। তাঁর বক্তব্য, “যদি অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে ঘটনায় ২৫০ জন পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন। সত্য সামনে আনতে নিরপেক্ষ তদন্ত দরকার। একইসঙ্গে বাহিনীর মনোবলও ভেঙে দেওয়া উচিত নয়।”
তুষার মেহতার দাবি, আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্ররা হিংসায় জড়িত ছিলেন বলে মনে করেন না তিনি। অভিযোগ, আন্দোলনের মধ্যে সমাজবিরোধীরা ঢুকে পড়েছিল। খুন, ধর্ষণ এবং মাদক-সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত কিছু ব্যক্তি ওই ভিড়ে মিশে গিয়েছিল বলে সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
প্রধান বিচারপতি এই বিষয়ে বলেন, “শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে সমাজবিরোধীরা ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যা ঘটেছে, তা শুধুমাত্র ছাত্রদের পক্ষে করা সম্ভব নয়। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্যে দুষ্কৃতীরা ঢুকে পড়তে পারে।”
মহিলা,আইনজীবী ও সাংবাদিকদের উপর আক্রমণের অভিযোগের আপাত বাস্তবতা আছে বলেও স্বীকার করেন প্রধান বিচারপতি। এই ঘটনাগুলোর প্রেক্ষিতে স্বতন্ত্র তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ
ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় কেন্দ্র এবং সাতটি রাজ্যের থেকে রিপোর্ট তলব করেছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানিয়েছেন, রিপোর্ট খতিয়ে দেখা হবে। তারপরই নিরপেক্ষ তদন্ত বা সিট গঠনের সিদ্ধান্ত নেবে সুপ্রিম কোর্ট।
শীর্ষ আদালতের আরও নির্দেশ, কোনও ছাত্রছাত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। তবে ক্রিমিনাল রেকর্ড থাকলে পদক্ষেপ করতে হবে পুলিশকে।অপ্রাপ্তবয়স্কদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। সিসিটিভি ফুটেজ, ড্রোন ক্যামেরা, বডি ক্যাম, অন্যান্য ক্যামেরা ভিজ্যুয়াল, ওয়ারলেস কমিউনিকেশনের ডেটা পরবর্তী তদন্তের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে।
