
কলকাতা : এবার আরও মূল্যবৃদ্ধি হতে চলেছে অনলাইন ফুড ডেলিভারি অ্যাপগুলির। বিখ্যাত কোম্পানি সুইগি তাদের প্ল্যাটফর্ম ফি একধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে সমস্যায় পড়তে চলেছেন গ্রাহকরা। এই মাসের শুরুর দিকে আর এক কোম্পানি জোম্যাটোও তাদের প্ল্যাটফর্ম ফি বাড়িয়ে দিয়েছিল।
অ্যাপগুলি প্রায় ৩-৫ টাকা ফি বাড়ালেও প্রধান কারন হিসেবে অ্যাপের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও অপারেশন আরও উন্নত করার কথা বলা হয়েছে।
সুইগি তাদের ফি ১৪.৯৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭.৫৮ টাকা করেছে অর্থাৎ ফি বেড়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ। শুধু এই নয়, এর পাশাপাশি গ্রাহককে খাবারের দাম, জিএসটি ও ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে। যদিও অ্যাপগুলির ‘প্রো’ সাবস্ক্রিপশন নেওয়া থাকলে ডেলিভারি চার্জে স্বল্প মূল্য ছাড় পাওয়া যাবে।
প্ল্যাটফর্ম ফি এক ধরনের সার্ভিস চার্জ যা প্রত্যেক গ্রাহকের থেকেই নেওয়া হয়। শুধুমাত্র রেস্তোরাঁর দূরত্ব বা খাবারের দামের উপর এই ফি নির্ভর করে না। এটি মূলত নেওয়া হয় অ্যাপের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য। এর ফলে যেসব ব্যবহারকারীরা ১৫০ বা তারও কম টাকার খাবার অর্ডার করবেন, তাঁরা অনেকটা বড় অঙ্ক প্ল্যাটফর্ম ফি দেবেন। যদি আপনি সুইগি ওয়ান অর্থাৎ সুইগির প্রিমিয়াম ব্যবহার করেন, তাহলে আপনি ডেলিভারি চার্জে ছাড় পেলেও আপনাকে ন্যূন্যতম প্ল্যাটফর্ম ফি দিতেই হবে। ভারতের ফুড ডেলিভারি মার্কেটের অধিকাংশ বাজারই এই দুই কোম্পানি দখল করে রেখেছে। ফলে গ্রাহকরা খুব বেশি বিকল্প পাচ্ছেন না। আগে এই ফি কোনও উৎসবের সময় নেওয়া হলেও এখন এই ফি প্রতিটি অর্ডারেই দিতে হয়। ২ টাকা থেকে শুরু করে বর্তমানে এই ফি প্রায় ১৮ টাকায় এসে ঠেকেছে। দুই কোম্পানিই প্রায় একরকম দাম নিচ্ছে ফলে গ্রাহকরা এক অ্যাপ থেকে অন্য অ্যাপে গিয়ে বেশি সাশ্রয় করতে পারবেন না।
দাম বাড়ার কারণ :-
1. মধ্যপ্রাচ্য জ্বলছে। তার আঁচ এসে পড়েছে গোটা বিশ্বের তেলের বাজারে। একারণেই বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় আকাশ ছুঁয়েছে। ভারতে লজিস্টিকস সংক্রান্ত কারনে ডেলিভারি পার্টনারের ফি বাড়ছে।
2. কোম্পানি গুলি জানিয়েছে, লক্ষ লক্ষ গ্রাহককে নিরবিচ্ছিন্ন পরিষেবা দিতে তারা তাদের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করছে। এর ফলে তাদের অ্যাপ্লিকেশন আরও মসৃনভাবে চলবে ফলে সুবিধে হবে গ্রাহকদেরই।
3. বহুদিন চলতে থাকা লসের পর অবশেষে কোম্পানি আয় বাড়াতে চাইছে। ডেলিভারি ফি সরাসরি রাইডাররা পেলেও প্ল্যাটফর্ম ফি থেকেই একটা অংশ কোম্পানির পাওয়ার সুযোগ থাকে।
গ্রাহকদের কাছে বিকল্প উপায় :-
1. সরকার গৃহীত ONDC অ্যাপগুলিতে (যেমন Magicpin, Paytm) খাবার অর্ডার করলে খুব বেশি ফি দিতে হয় না। অধিকাংশ সময় এই প্ল্যাটফর্মগুলিতে শুধু ডেলিভারি চার্জ দিতে হয়। গ্রাহকরা এই অ্যাপগুলি ব্যবহার করতে পারেন।
2. বেশ কিছু বিখ্যাত ফুড রেস্তোরাঁর নিজস্ব অ্যাপ রয়েছে (যেমন Behrouz, KFC, Dominos)। সেই অ্যাপ থেকে অর্ডার করলে একটা বড় অংশ ফি দিতে হয় না ও গ্রাহকের টাকা বেঁচে যায়।
3. কোনও পছন্দের রেস্তোরাঁ বাড়ির কাছে থাকলে সেখানে নিজে গিয়েই খাবার নিয়ে আসা যায়। ফলে ডেলিভারি চার্জ ও ফি – দুইই বেঁচে যায়। এছাড়াও বাল্ক অর্ডার (একসঙ্গে অনেক পরিমাণ অর্ডার) করলেও ফি কম দিতে হয়।
সুইগি তাদের নতুন ক্রেডিট কার্ড অপশনগুলির (Swiggy Blck & Swiggy Ornge) দ্বারা ক্যাশব্যাকের মাধ্যমে একটু খরচ কমানোর কথা ভাবলেও এই দুই অ্যাপ যে হারে নিজেদের ফি বাড়াচ্ছে, কোনও একদিন আবার গ্রাহকদের বিকল্প কোনও অ্যাপ ব্যবহার করতে দেখলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।