বাংলার SIR নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যকে কাঠগড়ায় টানল কমিশন
ECI to Supreme Court on SIR: হিংসা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বাধার মুখে ফেলেছিল নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের। তাদের আরও দাবি, ২০২৫ সালে বাংলায় যে ভোটার তালিকা ছিল, তা শুদ্ধ নয়। কারণ, ওই ভোটার তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষ মৃত, স্থানান্তরিত এবং ভুয়ো ভোটারের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। আর সেই ভিত্তিতে দেড় কোটির অধিক ভোটারকে শুনানি নোটিস পাঠানো হয়েছে।

নয়াদিল্লি: হিংসা, ভয় এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ঘিরে ধরেছে বাংলার বিশেষ নিবিড় পরিমার্জনকে। অক্ষম হয়ে পড়েছেন ভোটার তালিকার পরিমার্জনের কাজে নিযুক্ত কমিশনের কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার দেশের শীর্ষ আদালতে হলফনামা জমা দিয়ে এমনটাই জানাল নির্বাচন কমিশন। এই প্রসঙ্গে বাংলার সঙ্গে এসআইআর চলা অন্য রাজ্যগুলিরও তুলনা করেছে কমিশন।
সংশ্লিষ্ট হলফনামায় তারা জানিয়েছে, যখন অন্য ১১টি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চলে কোনও রকম বিবাদ বা দ্বন্দ্ব ছাড়াই এনুমারেশন ফর্ম বিলির কাজ চলছিল, সেই সময় বাংলা হয়ে গিয়েছিল ‘হটস্পট’। হিংসা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বাধার মুখে ফেলেছিল নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের। তাদের আরও দাবি, ২০২৫ সালে বাংলায় যে ভোটার তালিকা ছিল, তা শুদ্ধ নয়। কারণ, ওই ভোটার তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষ মৃত, স্থানান্তরিত এবং ভুয়ো ভোটারের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। আর সেই ভিত্তিতে দেড় কোটির অধিক ভোটারকে শুনানি নোটিস পাঠানো হয়েছে।
এই হলফনামায় রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ তুলেছে নির্বাচন কমিশন। দেশের শীর্ষ আদালতকে তারা জানিয়েছে, বিএলও-রা নানাবিধ অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশ সেই অভিযোগ প্রথমে গ্রহণ করেনি। ডিইও-রা এই অভিযোগগুলিতে হস্তক্ষেপ না করলে, পুলিশের তরফ থেকে কোনও তৎপরতাই দেখা যেত না। শুধুই পুলিশ নয়, রাজ্য সরকারও ‘অনীহা’ দেখিয়েছে বলে অভিযোগ কমিশনের।
এই মর্মে একাংশের বিএলও, তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বাংলার সিইও দফতর ঘেরাওয়ের প্রসঙ্গ হলফনামায় তুলে ধরে কমিশন। তাদের অভিযোগ, বিক্ষোভের দিন আন্দোলনকারীদের অনেকেই জোরপূর্বক সিইও দফতরে ঢোকার চেষ্টা করে, দফতরে ভাঙচুর চালায়। কিন্তু এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। এমনকি, কমিশন তদানীন্তন কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ ভর্মাকে চিঠি পাঠিয়েও কোনও লাভ হয়নি।
