TMC: আদর্শ আচরণবিধি কি কাগজে? ভোট ঘোষণার ৩০ মিনিট পরই কোটি টাকার পার্ক উদ্বোধন ক্যানিংয়ে
West Bengal Assembly election: আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উড়িয়ে তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাস বলেন, "এটা কোনও নিয়মভঙ্গ নয়। অনুষ্ঠানটি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। চার দিন আগে প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া ছিল। আজ শুধু উদ্বোধন হয়েছে।"

ক্যানিং: সবে বাংলায় ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। জানিয়ে দিয়েছে, ২ দফায় ভোট হবে। কমিশনের সেই ঘোষণার আধ ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে আদর্শ আচরণবিধি ভাঙার অভিযোগ উঠল। ক্যানিংয়ে ঘটা করে সরকারি পার্কের উদ্বোধন করলেন তৃণমূল বিধায়ক। রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি লাগুর পর এভাবে পার্কের উদ্বোধন করা যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তৃণমূল বিধায়ক অবশ্য পার্কের উদ্বোধন নিয়ে যুক্তি দিলেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শাসকদলকে নিশানা করল বিজেপি।
এদিন বিকেল ৪টেয় দিল্লিতে বাংলা-সহ ৫ রাজ্যের নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে কমিশন। জানিয়ে দেয়, নির্ঘণ্ট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যগুলিতে আদর্শ আচরণবিধি লাগু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সাংবাদিক বৈঠক শেষ হতে না হতেই আধ ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটা করে ক্যানিং ১ পঞ্চায়েত সমিতি এলাকায় সরকারি পার্ক উদ্বোধন করলেন ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাস।
বিধায়ক তহবিলের কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘নেতাজি সুভাষ পার্ক’ উদ্বোধনের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার মুহূর্ত থেকেই রাজ্যে কোনও নতুন সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন বা শিলান্যাস করা যায় না। কিন্তু সেই নিয়মভঙ্গের অভিযোগ উঠছে শাসকদলের বিধায়কের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পরেশরাম দাস বলেন, “এটা কোনও নিয়মভঙ্গ নয়। অনুষ্ঠানটি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। চার দিন আগে প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া ছিল। আজ শুধু উদ্বোধন হয়েছে। এই পার্কের জন্য ৩ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে। এক কোটি টাকার কাজ হয়েছে।” সাধারণ মানুষের জন্য এই পার্কের উদ্বোধনে কোনও আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না।
তবে এই নিয়ে শাসকদলকে নিশানা করেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির জয়নগর সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র সঞ্জয় নায়েক কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “এই রাজ্যে সংবিধান বা আইনের কোনও বালাই নেই। তৃণমূলের কাছে নিয়ম মানেই তা ভাঙার জন্য। আমরা চাই নির্বাচন কমিশন অবিলম্বে বিধায়ক পরেশরাম দাসের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করুক।” ক্যানিংয়ের এই ‘উদ্বোধনী রাজনীতি’ কি ভোটের লড়াইয়ে বাড়তি মাইলেজ দেবে শাসকদলকে, নাকি আইনি গেরোয় বিপাকে পড়বেন বিধায়ক? সেটাই এখন দেখার।
