
নয়া দিল্লি : সংসদে বিরোধী দলগুলির সঙ্গে চলতে থাকা ‘ঝগড়া’ থামানোয় উদ্যোগী হল কেন্দ্রীয় সরকার। সোমবার কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী চার বিরোধী দলকে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সোমবার সকাল দশটায় চার বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রহ্লাদ যোশী। তবে বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খারগে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, ১২ জন সাংসদ সাসপেন্ডের বিষয়ে সমস্ত বিরোধীরা এককাট্টা। তাই সবাইকেই আমন্ত্রণ করা উচিত ছিল সরকারের।
উল্লেখ্য, কংগ্রেস, তৃণমূল, বাম, শিবসেনা সহ যে সব দলের সাংসদদের সাসপেন্ড করা হয়েছিল, সেই সব দলকে চিঠি পাঠিয়েছেন সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী। প্রত্যেক দলের নেতাদের সঙ্গে ফোনেও কথা বলেছেন মন্ত্রী। শিবসেনার সাংসদ সঞ্জয় রাউত জানিয়েছেন, তিনি প্রহ্লাদ যোশীর থেকে ফোন পেয়েছেন। সংবাদ সংস্থা এএনআইকে তিনি জানিয়েছেন, “আগামিকাল সকাল ১০টায় সংসদের লাইব্রেরি ভবনে চারটি রাজনৈতিক দল – কংগ্রেস, টিএমসি, সিপিআই(এম) এবং সিপিআই যাদের রাজ্যসভার সাংসদদের সাসেপেন্ড করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য প্রহ্লাদ যোশী আমাকে ডেকেছেন।”
বিরোধী দল সূত্রে খবর, তারা সরকারের আমন্ত্রণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সকাল ৯ টা ৪৫ মিনিটে সংসদে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খারগের ঘরে একটি বৈঠক করবেন। এদিকে, বিরোধীরা জানিয়ে রেখেছে যে ১২ জন সাংসদের সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিক্ষোভ জারি থাকবে। সব বিরোধী দলকে ডাকা না হলে আগামিকাল সরকারের সঙ্গে বৈঠকে তাদের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই বিরোধী দলগুলির সূত্রে খবর।
তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন টুইটারে লিখেছেন, ” সরকার যে চারটি বিরোধী দলের ১২ জন রাজ্যসভার সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়েছে, সেই দলগুলির নেতাদের ডেকেছে। কিন্তু অন্যান্য ১০ টি বিরোধী দলকে ডাকেনি। এ এক ব্যর্থ প্রচেষ্টা। সমস্ত বিরোধীদের অবস্থান স্পষ্ট, প্রথমে সাংসদদের সাসপেনশন প্রত্যাহার করুন।”
উল্লেখ্য, শীতকালীন অধিবেশনে কংগ্রেসের ৬ সাংসদ সহ রাজ্যসভার মোট ১২ জন সাংসদকে বরখাস্ত করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বেআইনি ও অসাংবিধানিক বলে আগেই জানান সনিয়া গান্ধী। কংগ্রেসের সাংসদ তথা রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে সরকারের উপরই গোটা ঘটনার দোষ চাপিয়ে বলেছিলেন, “সরকারই রাজ্যসভায় কাজে বাধা সৃষ্টি করেছে। ১২ জন সাংসদকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। সংসদের কাজ যাতে ব্যহত না হয়, তার জন্য আমরা যথেষ্ট চেষ্টা করেছি। আমরা সংসদের অধ্যক্ষ ও চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে সাংসদদের বরখাস্ত করার প্রসঙ্গে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছি।”