
নয়া দিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দিয়ে ইডির অভিযোগ খারিজ করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আইপ্যাক অফিস থেকে তদন্ত সংক্রান্ত কোনও নথি নিয়ে আসেননি বলেই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধুমাত্র তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) পার্টির কাজের নথি নিয়ে এসেছেন বলেই হলফনামায় জানিয়েছেন। ইডির তদন্তেও কোনও বাধা দেননি বলেই হলফনামায় জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
কয়লা পাচার মামলায় তদন্তসূত্র ধরেই ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC)-র সহ প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে পৌঁছেছিল ইডি। তদন্ত চলাকালীনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন এবং সবুজ রঙের একটি ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন। এরপরই তদন্তে বাধা দেওয়া ও নথি ছিনতাইয়ের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি।
সূত্রের খবর, হলফনামায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ইডির তদন্তে কোনও বাধা দেননি, কয়লা কাণ্ডের তদন্তের সময় যেখানে তল্লাশি চলছিল, সেখানে খুব অল্প সময়ই উপস্থিত ছিলেন। ইডির অনুমতি নিয়েই তিনি তৃণমূলের নথি নিয়ে এসেছিলেন। উল্টে তদন্তের নামে তৃণমূলের গোপন তথ্য চুরি করাই ছিল ইডির লক্ষ্য, এমনটাই পাল্টা অভিযোগ এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ইডির তদন্তের আইনি বৈধতা নেই, সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়াই তল্লাশি চালানো হয়েছে, এই অভিযোগ করেছেন তিনি। ভোটের আগে বিরোধী রাজ্যে হানা দেওয়া প্যাটার্নে পরিণত হয়েছে বলেই হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
এর আগে যখন এই মামলার শুনানি চলছিল, তখনও বারবার এই অভিযোগ তুলে ধরেছিলেন কপিল সিব্বল ও অভিষেক মনু সিংভি। সূত্রের খবর, এ দিন হলফনামায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী জানিয়েছেন, “ইডির বাজেয়াপ্ত করা কোনও নথি আনেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধুমাত্র পার্টির কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবেদনশীল, গোপন নথি এবং ইলেকট্রনিক গেজেটস তিনি এনেছেন।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইডির বাজেয়াপ্ত করা নথিপত্র নিয়ে গিয়েছেন তা পঞ্চনামায় উল্লেখ করা হয়নি। তিনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) যে তদন্তে বাধা দিয়েছেন, তা হলফনামায় অস্বীকার করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, যেখানে তল্লাশি চলছিল, সেখানে তিনি অল্প সময়ের জন্য ছিলেন। তদন্তের সময় ইডির কোনও তথ্য নিয়ে আসেননি।
তৃণমূলনেত্রীর হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে তল্লাশির নামে তৃণমূল কংগ্রেসের গোপন রাজনৈতিক তথ্য এবং নথি চুরি করাই ছিল ইডির লক্ষ্য। ইডি অভিযানের আইনি বৈধতা ছিল না। কয়লা চুরির টাকা যে প্রতীক জৈনের কাছে গিয়েছে, তা আইনিভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি ইডি। ইডির সার্চ ওয়ারেন্টও প্রক্রিয়া মাফিক হয়নি।
প্রসঙ্গত, আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের ৭ নম্বর লাউড্রন স্ট্রিটের বাড়ি ও গোদরেজ ওয়াটার সাইডের অফিসে অফিসে হানা নিয়ে জলঘোলা-বিতর্ক শুরু হতেই ইডির তরফে জানানো হয়, কয়লা কেলেঙ্কারিতে দেশের ১০টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালিয়েছে ইডি। তার মধ্যে ছয়টি পশ্চিমবঙ্গে ও চারটি দিল্লিতে। ইডির বিবৃতিতে জানা গিয়েছে, কয়লা কেলেঙ্কারিতে অনুপ মাজির যে র্যাকেটের কথা সামনে আসে, তাতে চুরির কয়লা বাঁকুড়া, বর্ধমান, পুরুলিয়ায় একাধিক কোম্পানিতে বিক্রি করা হয়েছে। ইডি জানতে পেরেছে, চুরির অধিকাংশ পরিমাণ কয়লা বিক্রি হয়েছে ‘শাকম্ভরী গ্রুপ অফ্ কোম্পানিজে’। এই তদন্তে হাওয়ালা-যোগও উঠে আসে। এখানেই উঠে আসে আইপ্যাকের নাম। ইডির দাবি, ইন্ডিয়ান প্যাক কনসালটিং প্রাইভেট লিমিটেড, অর্থাৎ আইপ্যাকের মধ্যস্থতায় হাওয়ালার মাধ্যমে ১০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। অভিযুক্ত বেশ কয়েকজনের বয়ানে এই প্রতীক জৈনের নাম উঠে এসেছে। প্রতীক জৈনের মারফত বা তাঁর মধ্যস্থতায় বেশ কিছু আর্থিক লেনদেন হয়েছে। সেই যোগসূত্র ধরেই তল্লাশি চালানো হয়।