Covaxin: ‘আমরা জানি অনেকেই অপেক্ষায় আছেন, কিন্তু…’, কোভ্যাক্সিনে ছাড়পত্র দিতে কেন এত দেরি?

WHO: জরুরিভিত্তিতে টিকা প্রয়োগের অনুমতি পেতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে আবেদন জানিয়েছে ভারত বায়োটেক। বিশেষজ্ঞরা সবদিক খতিয়ে দেখে ছাড়পত্র দেবেন।

Covaxin: 'আমরা জানি অনেকেই অপেক্ষায় আছেন, কিন্তু...', কোভ্যাক্সিনে ছাড়পত্র দিতে কেন এত দেরি?
কতটা কার্যকর কোভ্যাক্সিন? (ফাইল চিত্র)

জেনেভা: এখনও পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) অনুমোদন পায়নি কোভ্যাক্সিন (Covaxin)। ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী সংস্থা ভারত বায়োটেক (Bharat Biotech) ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় তথ্য জামা করেছেন বলে সূত্রের খবর। বিশেষজ্ঞরা সেই তথ্য খতিয়ে দেখেই ছাড়পত্র দেবেন। যেহেতু ভারতের (India) বহু মানুষ ভারত বায়োটেকের তৈরি এই টিকা ইতিমধ্যেই গ্রহণ করেছেন, তাই তাঁদের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই অনুমোদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তো দফায় দফায় বৈঠক হলেও এখনও মেলেনি অনুমোদন। ‘আরও কিছু তথ্য জানা বাকি আছে’, এমনটাই জানানো হল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফ থেকে। কেন কোভ্যাক্সিনকে অনুমোদন দিতে এত সময় লাগছে, সেই ব্যাখ্যাও দেওয়া হল সংস্থার তরফে।

পরপর কয়েকটি টুইটে কোভ্যাক্সিনের অনুমোদন নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে হু। সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, একটি ভ্যাকসিনকে অনুমোদন দেওয়ার আগে কোনও খামতি রাখা যাবে না। ভ্যাকসিন কতটা নিরাপদ ও কতটা কার্যকরী, তা খতিয়ে না দেখে অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নয়। পাশাপাশি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরও জানিয়েছে যে, অনুমোদন পেতে গেলে কোনও সংস্থার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তথ্য জমা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ভ্যাকসিনের গুণমান, কার্যকারিতা ইত্যাদি সম্পর্কে অবগত করতে সংস্থার তরফে বেশ কিছু তথ্য দেওয়া প্রয়োজন। আর তার ওপরেই কত দ্রুত অনুমোদন মিলবে, তা নির্ভর করে বলে জানিয়েছে হু।

টুইটে হু-র তরফে লেখা হয়েছে, ‘আমরা জানি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ছাড়পত্রের জন্য বহু মানুষ অপেক্ষা করছেন। কিন্তু সংস্থার তরফে যে যে তথ্য চাওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণভাবে খতিয়ে না দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। সব প্রশ্নের উত্তরে যখন তথ্য পাওয়া যাবে তখনও ভ্যাকসিনকে দেওয়া হবে ছাড়পত্র।’

সম্প্রতি টুইটে হু-র মুখ্য গবেষক সৌম্য স্বামীনাথন (Soumya Swaminathan) জানিয়েছেন, কোভ্যাক্সিনকে ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে  ২৬ অক্টোবর বৈঠকে বসবে হু-র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ। প্রয়োজনীয় সব কাজের জন্য ভারত বায়োটেকের সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত জুন মাসেই অনুমোদনের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য় সংস্থার কাছে আবেদন জানানো হলেও, গত ২৭ সেপ্টেম্বর টিকা প্রস্তুতকারক সংস্থা ভারত বায়োটেককে অতিরিক্ত কিছু তথ্য় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় হু। সংস্থাও সেই নির্দেশ মেনে তথ্য জমা দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা বর্তমানে ভারত বায়োটেকের দেওয়া তথ্যগুলিরই পর্যালোচনা করছে এবং টিকা সংক্রান্ত যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর ওই জমা দেওয়া তথ্যে রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভারত বায়োটেকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ছাড়পত্র আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় নথিপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। টুইটে সংস্থাটি জানিয়েছিল কোভ্যাক্সিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের (Vaccine Clinical Trial) তথ্য ২০২১ সালের জুন মাসে হু- এর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। জুলাই মাসে জরুরি ভিত্তিতে টিকা ব্যবহারের করার আবেদন করা হয়েছে। হু- এর পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া সব প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছে ভারত বায়োটেক। এখনও পর্যন্ত মোট ৬টি ভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র দিয়েছে হু। এর মধ্যে রয়েছে ফাইজার, জনসন অ্যান্ড জনসন, অ্যাস্ট্রাজেনেকা, মডার্না ও সিনোভ্যাক।

আরও পড়ুন: Corona Update: ফের বাড়ছে সংক্রমণ, এবার এক লাফে অনেকটা বাড়ল পজিটিভিটি রেট

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla