AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Mayor vs Municipal Commissioner: শহরের রাস্তার গর্ত, আবর্জনা, জল জমার জন্য দায়ী কে?

Who Runs Indian Cities: ভারতের কোনও শহরকে আসলে কে চালান? নির্বাচিত মেয়র, নাকি মিউনিসিপ্যাল কমিশনার? কীভাবে শহরগুলির প্রশাসন কাজ করে? দৈনন্দিন নাগরিক পরিষেবাগুলির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকে? লিখছেন সন্তোষ নায়ার।

Mayor vs Municipal Commissioner: শহরের রাস্তার গর্ত, আবর্জনা, জল জমার জন্য দায়ী কে?
কোনও শহরে সমস্যা হলে দায়টা কার? Image Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Sep 26, 2026 | 6:04 PM
Share

নয়াদিল্লি: শহরটা কে চালান? এই প্রশ্ন করলে বেশিরভাগ মানুষই বলবেন, “মেয়র”। অনুমানটা অস্বাভাবিক নয়। বিশ্বের বহু দেশে বাস্তবেই এমনটা হয়। মেয়র নির্বাচিত হন, শহর পরিচালনা করেন এবং কোনও কিছু ভালো হলে কৃতিত্ব যেমন পান, তেমনই খারাপ হলে দায়ও নিতে হয়।

কিন্তু ভারতের বেশিরভাগ শহরে ছবিটা একটু অন্যরকম।

মেয়র আছেন। পদটিও আছে। সরকারি অনুষ্ঠানে তাঁর জন্য চেয়ার, সম্মান এবং আনুষ্ঠানিক দায়িত্বও রয়েছে। কিন্তু ভারতের অধিকাংশ শহরে মেয়রের কাজ মূলত আনুষ্ঠানিক। অতিথিদের স্বাগত জানানো, ফিতে কাটা কিংবা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শহরের প্রতিনিধিত্ব করাই তাঁর প্রধান দায়িত্ব।

অথচ প্রতিদিনের শহর পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি সাধারণত মেয়র নেন না। সেই দায়িত্ব থাকে মিউনিসিপ্যাল কমিশনারের হাতে।

মেয়র বনাম মিউনিসিপ্যাল কমিশনার: আসলে শহর চালান কে?

মিউনিসিপ্যাল কমিশনারকে শহরের মানুষ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন না। তাঁকে নিয়োগ করে রাজ্য সরকার। সাধারণত রাজ্য প্রশাসনিক ক্যাডারের কোনও প্রবীণ আমলাকেই এই পদে বসানো হয়। শহরের দৈনন্দিন পরিষেবা সচল রাখার গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলি তাঁর অধীনেই থাকে। যেমন—জল সরবরাহ, আবর্জনা পরিষ্কার, রাস্তা মেরামতি, নিকাশি ব্যবস্থা, বিল্ডিংয়ের অনুমোদন ইত্যাদি।

অর্থাৎ, বর্ষায় আপনার রাস্তায় বারবার জল জমলে কিংবা সময়মতো আবর্জনা পরিষ্কার না হলে, তা ঠিক করার দায়িত্ব সাধারণত মেয়রের নয়, মিউনিসিপ্যাল কমিশনারের দফতরের।

এখানেই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

মেয়র যেহেতু ভোটে নির্বাচিত, তাই তিনি শহরের মানুষের কাছে জবাবদিহি করেন। কিন্তু মিউনিসিপ্যাল কমিশনারকে নিয়োগ করে রাজ্য সরকার। ফলে তাঁকে শহরের ভোটারদের কাছে নয়, জবাব দিতে হয় রাজ্য সরকারের কাছে। আর কমিশনাররা সাধারণত দীর্ঘদিন একই পদে থাকেন না। সারা দেশে গড়ে একজন মিউনিসিপ্যাল কমিশনার প্রায় ১০ মাস এই পদে থাকার পরই অন্যত্র বদলি হয়ে যান।

ভাবুন, একটি শহরের জল সমস্যা সমাধান করতে বা আগামী পাঁচ বছরের রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা করতে গিয়ে কোনও কমিশনার জানেন, এক বছরও শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে অন্যত্র বদলি করা হতে পারে।

৭৪তম সংবিধান সংশোধনীতে শহরগুলির জন্য কী বদলানোর কথা ছিল?

কেন ভারতের শহরগুলি এভাবে পরিচালিত হয়? ১৯৯২ সালে এই সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যেই সংবিধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনা হয়। ৭৪তম সংবিধান সংশোধনীর উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচিত নগর প্রশাসনের হাতে আরও বেশি ক্ষমতা তুলে দেওয়া। মেয়র ও শহরের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে শহর পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে ছিল টাউন প্ল্যানিং, বস্তি উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য-সহ মোট ১৮টি বিষয়।

কিন্তু তিন দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ভারতের কোনও রাজ্যই বাস্তবে এই ১৮টি বিষয়ের সম্পূর্ণ ক্ষমতা নগর প্রশাসনের হাতে তুলে দেয়নি। বেশিরভাগ রাজ্য পরিকল্পনা, বাজেট এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ক্ষমতা নিজেদের হাতেই রেখেছে। ফলে মেয়রের পদ থাকলেও বাস্তবে তাঁর হাতে শহর পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত। অর্থাৎ, যে আইনের লক্ষ্য ছিল মেয়রকে তাঁর শহরের এক ধরনের ‘ছোট মুখ্যমন্ত্রী’-র মতো ক্ষমতা দেওয়া, তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

সংবিধান আরও একটি বিষয় রাজ্যগুলির উপর ছেড়ে দিয়েছে—মেয়রকে সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত করা হবে, নাকি কাউন্সিলরদের মধ্য থেকে পরোক্ষভাবে বেছে নেওয়া হবে। বেশিরভাগ রাজ্যই পরোক্ষ নির্বাচনের পথ বেছে নিয়েছে। এর ফলে অনেক সময় মেয়রের ভূমিকা শহরের মানুষের প্রতিনিধিত্বের চেয়ে তাঁর দলের প্রতিনিধিত্বের সঙ্গেই বেশি যুক্ত হয়ে পড়ে।

কোনও শহরে সমস্যা হলে দায়টা কার?

বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা যানজটে আটকে থাকুন বা মুম্বইয়ের বাসিন্দা বর্ষার জলে হাঁটুসমান জলে দাঁড়িয়ে থাকুন—‘দায়ী কে?’ প্রশ্নের উত্তর সাধারণত শহরের নির্বাচিত মেয়রের দিকে সরাসরি যায় না। বরং সেই উত্তর খুঁজতে হয় রাজ্য সরকারের নিয়োগ করা মিউনিসিপ্যাল কমিশনারের কাছে। আরও উপরে গেলে সেই দায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনের সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে।

এটি কোনও ছোটখাটো প্রশাসনিক বিষয় নয়।

আমরা সাধারণত মনে করি, আমাদের শহর কীভাবে চলবে, তা ঠিক করেন নির্বাচিত মেয়র। কিন্তু বাস্তবে শহর পরিচালনার ক্ষমতা কোথায় রয়েছে—তার সঙ্গে এই ধারণার যথেষ্ট ফারাক রয়েছে। আর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কে আসলে জবাবদিহি করবেন, তা জানা থাকলেই সঠিক ব্যক্তির কাছে সঠিক প্রশ্ন করা সম্ভব।

তাই একটি ছোট পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।

আপনার শহরের বর্তমান মেয়রের নাম কি আপনি জানেন?

এবার বলুন তো, আপনার শহরের মিউনিসিপ্যাল কমিশনারের নাম জানেন?

দ্বিতীয় নামটি মনে করা যদি কঠিন হয়, কিংবা আপনি যদি কখনও তাঁর নামই না শুনে থাকেন, তাহলে আপনি একা নন। ভারতের অধিকাংশ শহরের বেশিরভাগ বাসিন্দাই এই দু’জনের নাম বলতে পারবেন না। কিন্তু খুব সম্ভবত, প্রথম ব্যক্তির চেয়ে দ্বিতীয় ব্যক্তিই ঠিক করেন—এই বছর আপনার রাস্তার গর্ত মেরামত হবে কি না।

তাই, নির্বাচন পেরিয়ে গেলেও যদি রাস্তার গর্ত থেকে যায়, তখন কে এর জন্য দায়ী, সেটা খুঁজে দেখা দরকার।

সূত্র: ThePrint-এর ২০২৬ সালের প্রতিবেদন “Why a Powerful Mayor Won’t Fix Indian Cities Alone”; Wikipedia-র “Mayor (India)”; Citizen Matters-এর “How Powerful Are Mumbaikars? Turns Out, Not That Much”, যেখানে Praja Foundation-এর Urban Governance Index-এর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে; ভারতের সংবিধানের ২৪৩-R ধারা এবং ৭৪তম সংবিধান সংশোধনী আইন, ১৯৯২-এর Twelfth Schedule।

Follow Us