বন্ধ হরমুজ প্রণালী, ফের রাশিয়া থেকে তেল কেনা বাড়াবে ভারত? কী ভাবছে দিল্লি ?
India-Russia : জানা গিয়েছে, সোমবারই এই বিষয়ে একটি বৈঠক করেন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভারতে তেল সরবরাহ কোন পর্যায়ে রয়েছে, সেই বিষয়ে মন্ত্রকের আধিকারিক এবং রাষ্ট্রীয়ত্ব সংস্থার শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেন। মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতির দিকে প্রতি মুহূর্তে নজর রাখা হচ্ছে এবং সঠিক সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

নয়া দিল্লি : তেল সংকটে ভারত। হরমুজ প্রণালী বন্ধ। ৭৪ দিনের তেল মজুত রয়েছে ভারতের কাছে। একটা একটা করে দিন কমছে। কিন্তু, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি ভয়াবহ। ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছে, এক মাসের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না। যদিও নেতানিয়াহু বার্তা, তাঁরাও এই যুদ্ধ বেশিদিন টেনে নিয়ে যেতে চাইছেন না। কিন্তু, কবে যুদ্ধ থামবে, কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তার জন্য তো চুপ করে বসে থাকতে পারে না ভারত। তাহলে কোন পথে তেল আমদানি করবে ভারত? সেক্ষেত্রে কি রাশিয়ার থেকে তেল আমদানি বাড়ানো হবে? ইতিমধ্যেই রাশিয়ার থেকে তেল কেনার বিষয়ে কেন্দ্রকে আবেদন জানিয়েছে তেল পরিশোধন সংস্থাগুলি।
এদিকে, ট্রাম্পের চাপে গত কয়েক মাসে লাগাতার রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমিয়েছে ভারত। কিন্তু, তেল সংকটের পরিস্থিতিতে রাশিয়ার থেকে তেলের আমদানি বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা করুক ভারত। এমনটাই চাইছে তেল পরিশোধন সংস্থাগুলি। কেন্দ্রকে আর্জিও জানিয়েছে তারা। জানা গিয়েছে, সোমবারই এই বিষয়ে একটি বৈঠক করেন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভারতে তেল সরবরাহ কোন পর্যায়ে রয়েছে, সেই বিষয়ে মন্ত্রকের আধিকারিক এবং রাষ্ট্রীয়ত্ব সংস্থার শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেন। মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতির দিকে প্রতি মুহূর্তে নজর রাখা হচ্ছে এবং সঠিক সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, ভারতের মোট তেলের চাহিদার প্রায় অর্ধেক সরবরাহের পথই অবরুদ্ধ। প্রত্যেকদিন ২.৫ থেকে ২.৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতে আনা হয়।ইরাক, সৌদি আরব, কুয়েত এবং ইউএই থেকে তেল কেনে ভারত। মোট চাহিদার ৮৮ শতাংশই আমদানি করতে হয় ভারতকে। সূত্রের খবর, ভারত মহাসাগর এবং আরব সাগরে বেশ কয়েকটি রাশিয়ান ক্রুড কার্গো আছে। এছাড়াও রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত প্রচুর পরিমাণ ভাসমান স্টোরেজ আছে। প্রয়োজনে ওই স্টোরেজ থেকে তেল নিতে পারবে ভারত।
এদিকে, রাশিয়ার থেকে যদি তেল আমদানি বাড়ায় ভারত, তাহলে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হতে পারে। ট্রাম্প ফের শুল্কবাণ ছুড়ে দিতে পারে ভারতের দিকে। রাশিয়ার থেকে তেল আমদানি কমানোর শর্তেই ভারতের উপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে শেষে ১৮ শতাংশ করা হয়। যদিও, সম্প্রতি ট্রাম্পের শুল্ক নীতি বেআইনি বলে তা বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের নিন্দা করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। পরে তা আবার বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেন ট্রাম্প।
