Menstrual Hygiene Day: আজও কর্মক্ষেত্রে ‘পিরিয়ড পেইন’-এর কোনও স্বীকৃতি নেই, ‘মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন ডে’-তে উঠে এল মর্যাদারক্ষার কথা
গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে ঋতুস্রাব কর্মক্ষেত্রে কাজের উপর বড় প্রভাব ফেলে, তা সত্ত্বেও বেশিরভাগ ভারতীয় সংস্থায় এর জন্য কোনও নির্দিষ্ট নীতি নেই। সমস্যা শুধু ছুটি দেওয়া নিয়ে নয়। অভাব রয়েছে পরিষ্কার শৌচাগারের, থাকে না প্যাড ফেলার নির্দিষ্ট ডাস্টবিন। কাজের মাঝে মেলে না প্রয়োজনীয় বিরতি।

প্রতি বছর ২৮ মে পালিত হয় ওয়ার্ল্ড মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন ডে (World Menstrual Hygiene Day)। ভারতের লক্ষ লক্ষ নারীর কাছে মর্যাদার সঙ্গে ও সুরক্ষিতভাবে ঋতুস্রাবের দিনগুলি কাটানো আজও একটা নিত্যদিনের লড়াই। আজও অনেক স্কুলে নেই শৌচাগার। আজও পিরিয়ডের যন্ত্রণাকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করা হয় কর্মক্ষেত্রে। সমস্যা অত্যন্ত গভীর।
এই দিনটি উদযাপনের লক্ষ্যে News9-এর তরফে ‘দ্য শি-ইকোনমি এজেন্ডা, পিরিয়ড পাওয়ার’ (The SHEconomy Agenda, Period Power) শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। চিকিৎসক থেকে আইনি বিশেষজ্ঞ ও ক্রীড়াবিদরা সেখানে একত্রিত হয়েছিলেন এমন সব সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে।
কর্মক্ষেত্রের যে আলোচনা আজও এড়িয়ে যাওয়া হয় ভারতে
গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে ঋতুস্রাব কর্মক্ষেত্রে কাজের উপর বড় প্রভাব ফেলে, তা সত্ত্বেও বেশিরভাগ ভারতীয় সংস্থায় এর জন্য কোনও নির্দিষ্ট নীতি নেই। সমস্যা শুধু ছুটি দেওয়া নিয়ে নয়। অভাব রয়েছে পরিষ্কার শৌচাগারের, থাকে না প্যাড ফেলার নির্দিষ্ট ডাস্টবিন। কাজের মাঝে মেলে না প্রয়োজনীয় বিরতি।
সুলভ ইন্টারন্যাশনাল সোশ্যাল সার্ভিস অর্গানাইজেশনের প্রোগ্রাম অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি-র ন্যাশনাল ডিরেক্টর নির্জা ভাটনগর বলেন, “আমাদের কাজের সংস্কৃতি এখনও মূলত পুরুষ-কেন্দ্রিক। কর্মক্ষেত্রগুলোকে আরও বেশি লিঙ্গ-সচেতন হতে হবে। যেখানে কাজের ক্ষেত্র আরও বেশি নমনীয় হবে। ‘মেনস্ট্রুয়াল লিভ’ বা ঋতুস্রাবকালীন ছুটির মতো নীতিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।”
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট গীতা লুথরা বলেন, “পরিষ্কার এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য শৌচাগারই হল প্রাথমিক প্রয়োজনীয়তা। কর্মক্ষেত্রে যেভাবে অন্যান্য ছুটির ব্যবস্থা থাকে, ঠিক তেমনই ঋতুস্রাবকালীন ছুটির বিধানও থাকা উচিত।”
ম্যাক্স হেলথকেয়ারের আইভিএফ (IVF) বিভাগের প্রধান ডঃ সুরভীন ঘুমান সিন্ধু ঋতুস্রাব নিয়ে সমাজে প্রচলিত গভীর কুসংস্কার ও জড়তার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “পিরিয়ড লিভের মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে যতক্ষণ না এর কোনও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মিলছে, ততক্ষণ মানুষ ঋতুস্রাব নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে দ্বিধাবোধ করবে। আমাদের মেনে নিতে হবে যে পিরিয়ড জীবনের একটি স্বাভাবিক অংশ এবং কোনও পক্ষপাত ছাড়াই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।”
নীতি বনাম বাস্তবায়ন
সচেতনতা বাড়লেও নীতিগত পদক্ষেপ এখনও খুব বেশি নেই। নীতি আয়োগের প্রাক্তন ডিরেক্টর উর্বশী প্রসাদ বলেন, “অনেক নীতিই বাস্তবে রূপায়িত হয়নি। আমাদের মানসিকতায় এখনও একটা সমস্যা রয়ে গিয়েছে, যেখানে নারীদের জন্য চালু করা কোনও পদক্ষেপকে প্রায়শই অপব্যবহারের চোখে দেখা হয়। এই নীতিগুলো যাতে বাস্তবায়িত হয়, তার জন্য আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন।”
দ্য হিউম্যান ক্যাপিটাল কোম্পানির উপদেষ্টা ডঃ কিরণপ্রীত কৌর বলেন, “ঋতুস্রাব সংক্রান্ত স্বাস্থ্য ও এই বিষয়ক সমস্যাগুলো নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও বেশি সচেতনতা তৈরি করার প্রয়োজন রয়েছে।”
এই অনুষ্ঠানে অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেন মাউন্ট এভারেস্ট জয়ী সুনীতা সিং চোকেন। তিনি বলেন, “এভারেস্ট আরোহণের সময় আমার পিরিয়ড চলছিল এবং অভিযানে আমাকে বেশ কিছু কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। অক্সিজেন কম, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েও আমি চূড়ায় পৌঁছানোর জন্য নিজেকে চালিত করেছিলাম।” তাঁর এই বক্তব্যে তিনি তুলে ধরেছেন যে, নারীরা প্রায়শই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছাড়াই ঋতুস্রাব সঙ্গে নিয়েই অসাধারণ সব কৃতিত্ব অর্জন করে চলেছেন।
