WB Election 2026: সামসেরগঞ্জ থেকে নন্দীগ্রাম, ১০০ জনের মধ্যে ৯৯ জনই ভোট দিয়েছেন, সম্ভব কী করে! শতাধিক বুথে কী ঘটল
Election Commission: নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য ছিল, মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলেই স্বাভাবিকভাবে ভোটের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি, অনেকেই বলছেন, কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকছে বলেই বহু ভোটার ভোট দিতে বেরচ্ছেন।

কলকাতা: দীর্ঘদিন পর বাংলায় এবার দু’দফায় ভোট (WB Election 2026) হচ্ছে। প্রথম দফায় ৯৩ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা কার্যত নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আর কোনও ভোটে এত ভোট পড়েনি বাংলায়। তবে বেশ কিছু বুথের এমন তথ্য় সামনে এসেছে, তা রীতিমতো প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। রাজ্যের ১৮২টি এমন বুথ (Polling Both) আছে, যেখানে ৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে অর্থাৎ ১০০ জন ভোটারের মধ্যে ৯৯ জন ভোট দিয়েছেন। এত ভোট পড়া কি সম্ভব?
১৮২ বুথে ভোট পড়েছে ৯৯ শতাংশ
প্রথম দফা নির্বাচনে মোট ৩১ হাজার ২৩৪টি বুথে ভোটগ্রহণ হয়। এর মধ্যে ৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে শতাধিক বুথে। দিনের শেষে দেখা যায় মোট ভোটের হার ৯৩.১৯ শতাংশ। মোট ভোটদাতার সংখ্যা ৩ কোটি ৩৬ লক্ষ। এর মধ্যে ১৮২ টি বুথে ভোট পড়েছে ৯৯ শতাংশ।
কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবথেকে বেশি ভোট পড়া (high turn out booths) বুথের মধ্যে নন্দীগ্রামের একটি বুথও রয়েছে। প্রথম দফার মোট ৪৪টি কেন্দ্রে ৯৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে।
এত বেশি ভোট কি পড়তে পারে?
রাজনৈতিক দলগুলির প্রশ্ন, কোনও বুথে কি ১০০ শতাংশ ভোট পড়তে পারে? কমিশন সূত্রে খবর, যেহেতু প্রথম দফায় কোনও গন্ডগোলের ছবি ধরা পড়েনি এবং সব বুথেই প্রচুর ভোট পড়েছে, সে ক্ষেত্রে মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবেই ভোট দিয়েছেন বলে মনে করছেন তাঁরা।
তবে, কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, যদি মক পোলের সময় ইভিএম পরীক্ষার জন্য দেওয়া ভোট না মোছা হয়, সে ক্ষেত্রেও এমন ছবি আসতে পারে। তাই ওই ১৮২টি বুথে পুনরায় প্রিসাইডিং অফিসারের খাতা যাচাই করে নেওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে। এমনকী ভুল ধরা পড়লেও গণনায় ইভিএমের মেকানিজমে সেই অতিরিক্ত ভোট বাতিল করে দেওয়া সম্ভব বলে জানানো হয়েছে।
কোথায় কোথায় আছে এমন বুথ
তবে এবারই প্রথম নয়, প্রতি লোকসভা বা বিধানসভা ভোটে এমন বুথের সংখ্যা প্রচুর থাকে। এবার তার সংখ্যা অনেকটাই কম বলে মানছেন অনেকেই। এই অতিরিক্ত ভোট কার ঝুলিতে যাবে সে অঙ্ক কষছে রাজনৈতিক দলগুলি। যে যে বিধানসভায় এই অতিরিক্ত ভোট পড়েছে, তার মধ্যে রয়েছে কোচবিহারের দিনহাটা, সিতাই, মাথাভাঙা, আলিপুরদুয়ারে কালচিনি, পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম, মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জ, সুতি, রঘুনাথগঞ্জ, বীরভূমের সিউড়ি ও বোলপুর।
