
কলকাতা: এতদিন এসআইআর-র কাজে বিএলও-দের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। এবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তথ্যগত অসঙ্গতি খতিয়ে দেখার কাজে নেমে বিচারবিভাগের একাংশ নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। একাধিক জেলার নাম করে তাঁরা বললেন, ওই জেলাগুলিতে আদৌ কাজ করা সম্ভব হবে? সোমবার বৈঠকে বিচারবিভাগের একাংশের এই প্রশ্ন ঘিরে শোরগোল পড়েছে। তবে কমিশনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, বিচারবিভাগের অফিসারদের নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়ায় তথ্যগত অসঙ্গতি খতিয়ে দেখবেন বিচারবিভাগের অফিসাররা। সেই নিয়ে এদিন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল বৈঠক করেন। এদিন এই বৈঠকে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল বলেন, অন্যান্য রাজ্যে ‘বাংলার বাড়ি’ সমগোত্রীয় ডকুমেন্টস নেওয়া হচ্ছে। অথচ এ রাজ্যে সেটাই অবৈধ বলা হচ্ছে। আবার শুধু কমিশনের ঠিক করা ১৩টি বৈধ নথির বাইরে কেউ কিছু না দেখাতে পারলে, তাঁকে ভোটার হিসেবে গণ্য করা হবে না, এটাও সঠিক নয়। ভোটারদের আরও সুযোগ দেওয়া হোক বলে অনুরোধ জানান তিনি।
এই নিয়ে কমিশনের যুক্তি, সেই সুযোগ গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছিল। তারপর আর অনুমতি দেওয়া যায় না। কেন্দ্রের নিযুক্ত কলকাতা হাইকোর্টের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (ASG) অশোক চক্রবর্তী বলেন, অন্য রাজ্যের সঙ্গে এ রাজ্যের পার্থক্য আছে। তাই বাংলার বাড়ি ইত্যাদি ডকুমেন্টস গ্রাহ্য করা যায় না।
অন্যদিকে এদিন বৈঠকে জুডিশিয়াল অফিসাররা জানতে চান, “অনলাইনে যা ডকুমেন্টস আছে, তাই নেব, নাকি অরিজিনাল কপি দেখব?” মালদহ, মুর্শিদাবাদে কাজ করবেন এমন জুডিশিয়াল অফিসাররা বলেন, “সেখানে নির্ভয়ে কাজ করা সম্ভব নয়।” তাঁদের আশ্বাস দিয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাঁদের জন্য আধা সামরিক বাহিনী থাকবে। প্রধান বিচারপতি আশ্বাস দেন, যেহেতু ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদে আধা সামরিক বাহিনী আছে, তাই তাদের মোতায়েনে সমস্যা হবে না।
এছাড়াও প্রশ্ন ওঠে বাবা-ছেলে, নাতি-দাদু ইত্যাদি বয়সের সমস্যার সমাধান কীভাবে হবে? রাজ্যে যে সব সাধুরা আছেন, তাঁদের ডকুমেন্টস কী হবে? প্রশ্ন আসে ছিটমহল নিয়েও। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ছিটমহল সমস্যার ইতিমধ্যেই সমাধান হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বক্তব্য, “যে বিপুল পরিমাণ নথি রয়েছে, তার জন্য আমাদের সময় নষ্ট করা উচিত নয়। সময়ে কাজ শেষ করা খুব কঠিন।” এদিন তিনি রাজ্যকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নাগরিকত্ব আদালত ঠিক করবে না। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে তাঁরা কাজ করবেন বলে স্পষ্ট করে দেন।