AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Abhishek Banerjee: শুভেন্দুর আতসকাচে ‘ভাইপোর সম্পত্তি’, অভিষেকের হলফনামা কি সত্যি?

Abhishek Banerjee Property Controversy: ২ দিন আগে 'ধন্যবাদ জ্ঞাপন' কর্মসূচিতে ক্যামাক স্ট্রিটে দাঁড়িয়ে সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না নিয়ে শুভেন্দু বলেছিলেন, "কলকাতা পৌরনিগমের কাছ থেকে ফাইল চেয়েছিলাম। ভাইপোর লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে ১৪টি সম্পত্তি, নিজের নামে চারটি আর বাবার নামে ৬টি-সবমিলিয়ে ২৪টি সম্পত্তি রয়েছে।"

Abhishek Banerjee: শুভেন্দুর আতসকাচে 'ভাইপোর সম্পত্তি', অভিষেকের হলফনামা কি সত্যি?
শুভেন্দু অধিকারী (বাঁদিকে), অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (ডানদিকে)Image Credit: TV9 Bangla
| Updated on: May 20, 2026 | 3:06 PM
Share

কলকাতা: বাংলায় ভোটের ফল বেরনোর পর থেকে চর্চায় ‘শান্তিনিকেতন’। এই শান্তিনিকেতন অবশ্য বীরভূমের শান্তিনিকেতন নয়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি। এই বাড়ির সামনে থেকে নিরাপত্তার বজ্রআঁটুনি সরতেই কৌতূহলী মানুষের ভিড় বেড়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি হলেও এর মালিক কি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক? প্রশ্ন উঠছে। কারণ, চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের সময় হলফনামাতে অভিষেক জানিয়েছেন, তাঁর কোনও স্থাবর সম্পত্তি নেই। আবার কলকাতা পৌরনিগমের তরফে জানানো হয়েছে, পৌরনিগমে ‘অভিষেক ব্যানার্জি’-র নামে ৪৩টি সম্পত্তি নথিভুক্ত রয়েছে। ২ দিন আগে ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “ভাইপো, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস এবং তাঁর বাবার নামে ২৪টি সম্পত্তি রয়েছে।” এই গোলকধাঁধার মধ্যেই একটু ফিরে দেখা যাক, অভিষেক হলফনামায় কী জানিয়েছিলেন আর মুখ্যমন্ত্রী কী বলছেন।

হলফনামায় কী জানিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়?

চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন অভিষেক। সেইসময় নিজের হলফনামায় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি কথা জানিয়েছিলেন তিনি। হলফনামায় নিজের ও স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তি নিয়ে অভিষেক জানিয়েছিলেন, তাঁর একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। একটি অ্যাকাউন্টে রয়েছে ২ লক্ষ ২৬ হাজার ১৯১ টাকা। দ্বিতীয় অ্যাকাউন্টে ১০ লক্ষ ৮০ হাজার ৭০২ টাকা, তৃতীয় অ্যাকাউন্টে ২২ লক্ষ ৫২ হাজার ৬১২ টাকা, চতু্র্থ অ্য়াকাউন্টে ৪৯ লক্ষ ২৪ হাজার ৪০৩ টাকা, পঞ্চম অ্যাকাউন্টে ৬০ হাজার টাকার কথা উল্লেখ আছে। একটি ১০ লক্ষ, একটি ১৫ লক্ষ ও একটি ৬ লক্ষ টাকার জীবনবিমা পলিসি আছে অভিষেকের নামে।

ওই হলফনামা অনুসারে, অভিষেকের কাছে রয়েছে ১ লক্ষ ৯৯ হাজার ৬২০ টাকার সোনা। তাঁর স্ত্রীর কাছে রয়েছে ৪৩ লক্ষ ৭৮ হাজার ৩৩২ টাকার সোনা। অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়ের কাছে থাকা রুপোর মূল্য ৩ হাজার ৩৪০ টাকা, তাঁর স্ত্রীর কাছে রয়েছে ১ লক্ষ ৯২ হাজার ৫০ টাকার রুপো।

সব মিলিয়ে অভিষেকের মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ২৬ লক্ষ ২০ হাজার ২০৪ টাকা। আর তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৭৮ লক্ষ ৭০ হাজার ৩৮২ টাকা।

অভিষেক ও তাঁর স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তি কী রয়েছে?

হলফনামায় স্থাবর সম্পত্তির জায়গায় অভিষেক জানিয়েছেন, তাঁর কিংবা স্ত্রীর নামে কোনও কৃষিজমি নেই। কোনও বাড়ি নেই। অর্থাৎ অভিষেক ও তাঁর স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তি শূন্য। আর সেই হলফনামা অনুযায়ী, শান্তিনিকেতন বাড়িটি অভিষেকের মালিকাধীন নয়।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কী বললেন?

২ দিন আগে ‘ধন্যবাদ জ্ঞাপন’ কর্মসূচিতে ক্যামাক স্ট্রিটে দাঁড়িয়ে সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না নিয়ে শুভেন্দু বলেছিলেন, “কলকাতা পৌরনিগমের কাছ থেকে ফাইল চেয়েছিলাম। ভাইপোর লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে ১৪টি সম্পত্তি, নিজের নামে চারটি আর বাবার নামে ৬টি-সবমিলিয়ে ২৪টি সম্পত্তি রয়েছে।” অভিষেককে কটাক্ষ করে বরাবরই ভাইপো বলে উল্লেখ করেন শুভেন্দু। সেক্ষেত্রে ‘ভাইপো’-র সম্পত্তি বলতে মুখ্যমন্ত্রী যে অভিষেককেই উল্লেখ করেছেন, তা স্পষ্ট। মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দেন, “যাঁরা দুর্নীতি করেছেন, সবাই আইনের মধ্যে দিয়ে আগামিদিনে জেলের ভিতরে থাকবেন।”

এদিকে, কলকাতা পৌরনিগমের তথ্য বলছে, পৌরনিগম এলাকায় অভিষেক ব্যানার্জির নামে ৪৩টি সম্পত্তি নথিভুক্ত রয়েছে। এই অভিষেক ব্যানার্জি তৃণমূলেরই সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কি না, তা উল্লেখ করা হয়নি। পৌরনিগমের তরফে ১৭টি সম্পত্তির ঠিকায় নোটিস পাঠানো হয়েছে। যার মধ্যে বেশিরভাগই বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত অভিযোগ। পরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক দলের বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে বলেন, “আমার বাড়িতে নোটিস দিয়েছে। কিন্তু, কোথায় বেআইনি নির্মাণ, কোথায় অনিয়ম-তা বলেনি। আমার বাড়ি ভেঙে দিক। কিন্তু, মাথা নত করব না।”

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কোন তথ্য ঠিক। অভিষেক হলফনামায় তথ্য কি সত্যি? এর পর আর কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর সবার। এই নিয়ে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “কার কাছে নোটিস গিয়েছে, তিনিই বলতে পারবেন। হলফনামায় কে কী জানিয়েছেন, সেটা তিনি জানবেন।” 

Follow Us