
কলকাতা: একুশের নির্বাচনের পরিস্থিতি যেন না ফেরে বাংলায়। সেটাই বারবার স্পষ্ট করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। ছাব্বিশের নির্বাচন হিংসা ও চাপমুক্ত করতে হবে। আর সেক্ষেত্রে সমস্ত রাজনৈতিক দল ও ভোটারদের কাছে আর্জি জানালেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বাংলায় দু’দিনের কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জ্ঞানেশ। সেখানে ভোটের দফা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সোমবারই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে CEC। সেখানে বাম-বিজেপির মত প্রায় মিলে যায়। এক কিংবা দু’দফায় ভোট চায় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।
সেক্ষেত্রে CEC স্পষ্ট করে দেন, “কত দফায় ভোট, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দল পরামর্শ দিয়েছে। কত দফায় ভোট হবে, সে বিষয়ে দিল্লি ফিরে নিশ্চিত করা হবে। বাংলার আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ভোটের দফা ঠিক হবে।”
তবে CEC বারবার তাঁর কথার মধ্যে দিয়ে এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এবারের ভোটে কোনওভাবেই হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর কথায়, “হিংসা ও ভয়মুক্ত ভোট করতে হবে। কোনও ভোটারের ওপর চাপ দেওয়ায়ও সহ্য করা হবে না। আগে যে প্রাক ও পরবর্তী ভোট হিংসা হত, আশা করছি, এবারের নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ, সেটা এবার হবে না।” যদি কারোর বিরুদ্ধে ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ ওঠে, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোরতম পদক্ষেপ করা হবে বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন CEC।
সোমবার দ্বিতীয় দফায় প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গেও বৈঠকে বসেন CEC। সেখানে তিনি প্রশাসনিক কর্তা ও জেলাশাসকদের কড়া বার্তা দেন। যদিও কোথাও কোনও অশান্তির খবর মেলে তাহলে, আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন CEC। জেলাশাসক, পুলিশ সুপার ও সিপিদের-দের কড়া বার্তা দিয়েছেন। স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নির্দেশ না মানলে শুধু ‘OUT’ নয় ডিপার্টমেন্টাল প্রসেডিংস (DP) এর মুখে পড়তে হবে।
এবারের সব বুথেই ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। বুথের বাইরে মোবাইল রেখে ঢুকবেন ভোটাররা। ইভিএমে থাকবে প্রার্থীদের রঙিন ছবি। প্রার্থী চাইলে ৭ দিনের মধ্যে EVM পরীক্ষা করা হবে। রাজ্যের প্রতি বুথে ভোটার সহায়তা কেন্দ্র থাকবে।