Anandapur Fire: ‘রাক্ষুসে আগুনে মাঝেই সিঁড়ি থেকে পড়ে গেলাম…’, গোডাউনের ভিতর ঠিক কী ঘটেছিল? অভিশপ্ত রাতের জীবিত সাক্ষী বিষ্ণুপদর কথায় গায়ের লোম খাড়া হয়ে যাবে
Anandapur Fire: এখনও পর্যন্ত গোডাউনের ভিতর থেকে উদ্ধার হয়েছে তিনটে পোড়া কঙ্কাল-সহ ৮ টা ঝলসে যাওয়া দগ্ধ দেহাংশ! আনন্দপুরের সেই গোডাউনের বাইরে স্বজনহারাদের কান্না, উৎকন্ঠা, ঝলসে যাওয়ার ছাইয়ের মাঝে নিখোঁজদের খোঁজার আপ্রাণ প্রয়াস চলছে!

কলকাতা: মৃত্যু তখন তাঁর সামনে! সামনে আগুনের লেলিহান শিখা যেন গ্রাস করতে আসছে। চতুর্দিকে কালো ধোঁয়া। রবিবার রাত ১টায় আগুন লাগে, মঙ্গলবার বেলা তিনটের পরও এখনও মোমো কারখানায় কোথাও কোথাও ধিক্ ধিক্ করে জ্বলছে আগুন। এখনও পর্যন্ত গোডাউনের ভিতর থেকে উদ্ধার হয়েছে তিনটে পোড়া কঙ্কাল-সহ ৮ টা ঝলসে যাওয়া দগ্ধ দেহাংশ! আনন্দপুরের সেই গোডাউনের বাইরে স্বজনহারাদের কান্না, উৎকন্ঠা, ঝলসে যাওয়ার ছাইয়ের মাঝে নিখোঁজদের খোঁজার আপ্রাণ প্রয়াস চলছে! ভিতরে এখনও অন্ততপক্ষে ২৫ জন আটকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সেখান থেকেই বেঁচে ফিরেছেন পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার বিষ্ণুপদ খুঁটিয়া।
কী ঘটেছিল অভিশপ্ত রাতে? শিউরে ওঠার মতো বর্ণনা দিলেন বিষ্ণুপদ।
বিষ্ণু তখনও আতঙ্কের রেশ কাটিয়ে উঠতে পারেননি। কথা জড়িয়ে যাচ্ছে। চোখমুখ কাল, কম্বল পেঁচিয়ে বসে রয়েছেন। তিনি বললেন, “আমরা যেমন খেয়ে দেওয়া রাতে শুই, ন-সাড়ে ন’টা নাগাদ, শুয়ে পড়েছিলাম। তারপর তিনটের সময় চিৎকার, সবাই বলছে, উঠে পড়্, আগুন লেগে গিয়েছে। সবাই চিৎকার করতে থাকে বেরিয়ে যা, বাঁচতে পারবি না। ১০ সেকেন্ড মতো হয়েছে, নিঃশ্বাস নিতে পারছিলাম না। পুরো ঘর ধোঁয়া ধোঁয়া হয়ে গিয়েছে, চারদিক অন্ধকার, চোখ জ্বালা করছে। কোনওরকমে বিছানা থেকে উঠেছি, হাতে মোবাইল, বেরিয়ে আসছিলাম…কোনওরকমে খুঁজে পাই সিঁড়িটা। কিন্তু সিঁড়ি দিয়ে নামতে পারিনি, পা হড়কে পড়ে যাই।”
এই যে পড়ে গিয়েছিলেন, সিঁড়ি দিয়ে পড়ে একেবারেই বেরনোর গেটে সামনে চলে এসেছিলেন। সেই গেটের সামনে তখনও লোহার বিম ভেঙে পড়েনি। কোনওরকমে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন। কিন্তু তারপর সেই গেটেই লোহার বিম ভেঙে পড়ে দরজা বন্ধ হয়ে যায়। পিছনে আরও একটা গেট ছিল। সেই গেটের সামনে ছিল আবার গ্যাস সিলিন্ডার। সেগুলোও ফাটা শুরু হয়। বিষ্ণুপদর সঙ্গে আর চার জন বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন। কিন্তু বাকিরা আর পারলেন না…
