Anandapur Fire: ৩৩ ঘণ্টা পর ফোনে ধরা দিলেন গোডাউনের মালিক গঙ্গাধর দাস, দায় চাপালেন কোল্ড ড্রিঙ্কসের ঘাড়ে
Anandapur Fire: সোমবার থেকে এই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করেছে যে গোডাউনে এত বড় অগ্নিকাণ্ড, যেখানে তাঁরই কর্মীদের ঝলসে যাওয়া দেহ উদ্ধার হচ্ছে, সেই গোডাউনের মালিক কোথায়? সোমবার TV9 বাংলার ক্যামেরার সামনেই স্থানীয় এক যুবক কথা বলতে গিয়ে বলে ফেলেছিলেন গঙ্গাধর দাসের কথা।

কলকাতা: আনন্দপুরের জতুগৃহে এখন কেবলই চামড়া পোড়া গন্ধ! এখনও পর্যন্ত গোডাউনের ভিতর থেকে উদ্ধার হয়েছে তিনটে পোড়া কঙ্কাল-সহ ৮ টা ঝলসে যাওয়া দগ্ধ দেহাংশ! ঘটনার ভয়াবহতা কাঁপিয়ে দিয়েছে গোটা শহরকে। তদন্ত শুরু করেছে ফরেনসিক টিম। গিয়েছেন দমকলমন্ত্রী, দমকলের ডিজি! প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, গোডাউনে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। সেই কারণে প্রাথমিকভাবে আগুন নেভানোর কোনও কাজই শুরু করতে পারেননি কর্মীরা।
সোমবার থেকে এই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করেছে যে গোডাউনে এত বড় অগ্নিকাণ্ড, যেখানে তাঁরই কর্মীদের ঝলসে যাওয়া দেহ উদ্ধার হচ্ছে, সেই গোডাউনের মালিক কোথায়? সোমবার TV9 বাংলার ক্যামেরার সামনেই স্থানীয় এক যুবক কথা বলতে গিয়ে বলে ফেলেছিলেন গঙ্গাধর দাসের কথা। বলেছিলেন, “বহু বছর আগে এই গোডাউন তৈরি হয়েছে। এলাকারই পুরনো বয়স্ক লোক গঙ্গাধরবাবু গোডাউন তৈরি করেছিলেন।” কিন্তু নিয়মকানন? প্রশ্ন শুনে এড়িয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দমকল আধিকারিকরা সোমবারই স্পষ্ট করেছেন গোডাউনে অগ্নি নির্বাপণের কোনও ব্যবস্থা ছিল না। মঙ্গলবার দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু গিয়েও সেই কথা স্বীকার করেন। কিন্তু মালিক?তখন দেখা মেলেনি তাঁর।
মঙ্গলবার TV9 বাংলা খোঁজ পেল গঙ্গাধর দাসের। তবে ফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা গেল। তাঁর বক্তব্য, মোমো তৈরির কারখানায় অবৈধভাবে কোল্ড ড্রিঙ্কস তৈরি হত। মোমো তৈরির কারখানায় মজুত দাহ্য পদার্থ থেকেই আগুন। TV9 বাংলায় এক্সক্লুসিভলি গোডাউনের মালিক গঙ্গাধর দাস বলেন, “আমার গোডাউনের পাশেই মোমোর গোডাউন ছিল। ওরা সব দাহ্য পদার্থ রাখত। ওরা লুকিয়ে CO2 দিয়ে কোল্ড ড্রিঙ্কস তৈরি করত। ওদের ওখান থেকে আগুন লাগে, পাশেই গোডাউন, তাই ছড়িয়ে পড়ে।”
উল্লেখ্য, আনন্দপুরের ওই গুদামটি একটি নামী মোমো কোম্পানির। গুদাম ভর্তি ছিল নরম পানীয় এবং শুকনো খাবারের প্যাকেটে। তবে তিনি দাবি করছেন, তাঁর গোডাউনে অগ্নি নির্বাপণের সমস্ত ব্যবস্থা ছিল। তাঁর কথায়, “চার পাঁচ কোটি টাকার জিনিস পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। আমার অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু কেউ ব্যবহার করার সময় পায়নি। কী করে পাবে, সবাই তো ঘুমিয়ে ছিল। রাত ২টোয় আগুন লাগে। তাই ফায়ার এক্সটিংগুইশার ছিল তো, এখনও সেখানে পড়ে রয়েছে।”
যদিও দমকলমন্ত্রী বলেছেন, “ডিজির সঙ্গে কথা বলেছি। অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থার মতো এখানে কিছু ছিল না। এখানে ফরেনসিক টিম আসবে। এফআইআর হবে, তদন্তও হবে।”
