Anubrata Mondal: গ্রেফতারির ভয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ সদ্য ‘ভাল তৃণমূলী’ অনুব্রত
Anubrata Mondal High Court: মামলার মূল অভিযোগকারী বোলপুরের ত্রিসুলাপট্টির বাসিন্দা শুভেন্দু মণ্ডল। পেশায় ব্যবসায়ী শুভেন্দু দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে ওই এলাকায় ইটের ব্যবসা চালাচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ফের তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পরপরই তাঁর ওপর তীব্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক আক্রমণ নামিয়ে আনা হয়।

কলকাতা: দিন দুয়েক, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে ঋতব্রত-শিবিরে যোগ দিয়েছেন তিনি। বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, কেষ্ট ‘ভাল তৃণমূলে’ যোগ দিতেই ফিরে পেয়েছেন সংগঠনের দায়িত্ব। বীরভূম জেলা তৃণমূলের পদ ফিরে পেয়েছেন তিনি। দায়িত্ব পেতেই নেমে পড়েছেন ময়দানে। তবে তার আগে তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ। মূলত বীরভূমের ইটভাটা লুঠ মামলায় গ্রেফতারির ভয় পাচ্ছেন তিনি। তাই আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে মামলা করেছেন। এর আগে তিনি এই মামলায় আগাম জামিন চেয়ে সিউড়ি জেলা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে তাঁকে খালি হাতে ফিরতে হয়।
মামলার প্রেক্ষাপট
মামলার মূল অভিযোগকারী বোলপুরের ত্রিসুলাপট্টির বাসিন্দা শুভেন্দু মণ্ডল। পেশায় ব্যবসায়ী শুভেন্দু দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে ওই এলাকায় ইটের ব্যবসা চালাচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ফের তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পরপরই তাঁর ওপর তীব্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক আক্রমণ নামিয়ে আনা হয়। অভিযোগের তির সরাসরি বীরভূমের তৎকালীন দাপুটে তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের দিকে।
ব্যবসায়ীর দাবি, খোদ অনুব্রত মণ্ডলের সবুজ সঙ্কেত পেয়েই কঙ্কালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৎকালীন উপপ্রধান মামন শেখের নেতৃত্বে প্রায় ২০০ জন সশস্ত্র দুষ্কৃতী তাঁর ইটভাটায় চড়াও হয়েছিল। সেখানে দিনদুপুরে ব্যাপক তাণ্ডব ও ভাঙচুর চালানো হয়। বাধা দিতে গেলে কর্মরত কর্মচারীদের বেধড়ক মারধর করে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ইট লুট করে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। শুধু তাই নয়, ব্যবসায়ী ও তাঁর কর্মীদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।
মামলাকারীর অভিযোগ ছিল, তিনি সক্রিয় বিজেপি সমর্থক হওয়াতেই তৎকালীন শাসকদলের রোষানলে পড়েছিলেন। সেই সময় অনুব্রত ও তৃণমূলের চরম দাপটের কারণে পুলিশ-প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও কোনও সুরাহা বা ন্যায়বিচার পাননি তিনি। অবশেষে পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই ব্যবসায়ী, যার জেরে আইনি ফাঁসে জড়িয়েছেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা।
