
কলকাতা: “ভবানীপুরে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী নেই? বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে যাবেন? ভুল করছেন! ১৬ আনা মসজিদে তাঁর যাওয়া কোনও হঠাত্ সিদ্ধান্ত ছিল না, ভোট চাইতেই মসজিদে গিয়েছিলেন তিনি।” একবালপুরের ষোলো আনা মসজিদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যাওয়া নিয়ে কটাক্ষ করে টুইট করলেন বিজেপি নেতা অমিল মালব্য।
তাঁর বক্তব্য, “নির্বাচনের কথা ভেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘামছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জয়ের ব্যাপারে কি সত্যিই আত্মবিশ্বাসী? সেকথা ভুলে যান। ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোট চাইতেই মসজিদে গিয়েছিলেন তিনি। আর কিছুদিনের মধ্যে তাঁকে দেখা যাবে বুথে বুথে ঘুরতে।” সঙ্গে একটি ভিডিয়োও তুলে ধরেন অমিত মালব্য।
প্রসঙ্গত, ভবানীপুরের অন্তর্গত একবালপুর এলাকার ষোলোআনা মসজিদে সোমবার বিকেলে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে পৌঁছেই ইমামদের সঙ্গে একটি একান্ত বৈঠক করেন তিনি। ভোটের আগে যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ইমামদের সঙ্গে বৈঠকের সময় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এ দিন হাজির ছিলেন রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও।
যদিও এ দিনের বৈঠকে মমতার সঙ্গে ইমামদের ঠিক কী কথা হয়েছে, তা বিশদে জানা যায়নি। তবে এই সাক্ষাতের নেপথ্যে যে ভোট অঙ্ক কাজ করছে, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশেষত, যেভাবে সংখ্যালঘুরা লাগাতার রাজ্যের শাসকদল ও নেত্রীর প্রতি আস্থা দেখিয়েছেন, সেই ভোটে ভর করেই তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন রাজ্যের বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীরা। তাঁদের সেই অভিযোগের আবহেই মমতার ইমাম সাক্ষাৎ ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতিতে কোনও জল্পনার জন্ম দেয় কি না, সেই বিষয়টিও বিচার্য হবে।
উল্লেখ্য, সোমবারই ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল মনোনয়নপত্র জমা দেন। সঙ্গে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীরা। আবারও যেন মমতার বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে তিনি। মনোনয়ন জমা দিয়ে বেরিয়ে হুঙ্কারের সুরে প্রিয়াঙ্কা বলেন, “রাজ্যে হিংসা বন্ধ করতে হবে। হিংসার খুনি খেলা বন্ধ করতে হবে। ভবানীপুরের মানুষ একবার ভোট দিয়েছিল। সেটাই ছিল গণতন্ত্র। যেটা মানতে হবে। কিন্তু জোর করে আবার মুখ্যমন্ত্রী ভোট করাচ্ছেন। কারণ ওঁর চেয়ারে বসার জেদ আছে।”
ভবানীপুরে তৃণমূলের প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরই প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল। সম্প্রতি ভোট পরবর্তী হিংসা মামলাকে সামনে রেখে বার বার যাঁর নাম শিরোনামে উঠে এসেছে। দিলীপ ঘোষ, শুভেন্দু অধিকারীরাও বার বার বলেছেন, প্রিয়াঙ্কা তাঁদের লড়াকু নেত্রী। প্রিয়াঙ্কার লড়াই-ই ভোটের পরে হিংসা নিয়ে বিজেপির যে অভিযোগ ছিল, তাতে সিলমোহর এনে দিয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট সিবিআইকে এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। সিটও গঠিত হয়েছে। আর সেই বক্তব্যকে সামনে রেখেই অমিত মালব্যর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এবারের লড়াইটাও বেশ কঠিন। আর জয়ের ব্যাপারে মোটেও আশাবাদী নন তিনি।